যশোর শিক্ষা বোর্ড
তীব্র জনবল সংকট, সেবা পেতে ভোগান্তি
Advertisement
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
২০ বছর ধরে তীব্র জনবল সংকটের মধ্য দিয়েই চলছে যশোর শিক্ষা বোর্ডের কার্যক্রম। সংকট নিরসনে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ৭৮টি পদে জনবল নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হলেও, এখনো শুরু হয়নি নিয়োগ প্রক্রিয়া। ফলে সেবা দিতে গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। সেবাপ্রার্থীদেরও ভোগান্তির শেষ নেই।
১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যশিক শিক্ষা বোর্ড যশোরের অধীনে এক সময়ে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের সব জেলার একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা হতো। বর্তমানে এ বোর্ডের অধীনে রয়েছে খুলনা বিভাগের ১০ জেলার স্কুল-কলেজ। বোর্ডে অনুমোদিত মোট ২৫৩টি পদের মধ্যে ১৫৭টি পদই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। মাত্র ৯৭ জন কর্মী নিয়ে কোনোমতে চলছে বোর্ডের যাবতীয় কার্যক্রম। ফলে তীব্র জনবল ঘাটতির কারণে একজন কর্মচারীকে একাধিক শাখার দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে, যা মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে দাপ্তরিক গতি। সনদপত্র উত্তোলন বা সংশোধনের সেবা নিতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সেবাপ্রার্থীরা। কুষ্টিয়া থেকে আসা আমজাদ হোসেন বলেন, মেয়ের সনদ তুলতে এসেছিলাম। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বসে আছি। শাখা থেকে বলছে লোক সংকট দেরি হবে অপেক্ষা করেন। সহজে সেবা মিলছে না। সাতক্ষীরা থেকে আসা সুদেব দাস বলেন, আমরা যারা দূর থেকে আসি তাদের ভোগান্তির শেষ নেই। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কাজ হচ্ছে না।
বরিশালের বাসিন্দা সুধাংশু কুমার বলেন, আগে আমরা যশোর বোর্ডের অধীনে ছিলাম। বাংলা সনপত্রের ইংরেজি ভাষান্তর করতে এসেছিলাম। সারা দিন বসে থেকে সন্ধ্যায় পেয়েছি। হাতে পাওয়ার পর দেখি বানান ভুল। ফের সংশোধনের জন্য আবেদন করেছি।
নিবন্ধন শাখার একজন কর্মচারী বলেন, ১০ জেলার জন্য দশ জন লোক দরকার। কিন্তু আমি একা কাজ করছি। সারা কাজ করতে হিমশিম খেতে হয়। প্রমাণ শাখার একজন কর্মচারী বলেন, একজন রাইটার অবসরে গেছেন। এখন আমি একা কাজ করছি। প্রচুর কাজের চাপ। সেবা দিতে অনেক কষ্ট হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয় পরিদর্শক এনামুল কবীর বলেন, তীব্র জনবল সংকটের কারণের রাত পর্যন্ত আমাদের কাজ করতে হয়। কিন্তু তাতেও সেবা নিতে আসা মানুষেরও কষ্ট লাঘব হচ্ছে না। জরুরি ভিত্তিতে জনবল নিয়োগ করা জরুরি।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক আবদুল মতিন বলেন, জনবল সংকটে সেবাদানে সমস্যা হচ্ছে। জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ৭৮টি পদে নিয়োগের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়। যাচাই-বাছাই শেষে আপাতত ৪৫টি পদে নিয়োগ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে একটি প্রস্তাবনা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। সবুজ সংকেত মিললেই সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

