ঝটিকা মিছিলের জের
নেত্রকোনায় আ.লীগ নেতার বাসায় ভাঙচুর, লুটপাট
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ব্যানারে নেত্রকোনায় ঝটিকা মিছিলের প্রতিবাদে বিএনপি, জামায়াতে ইসলাম ও খেলাফত আন্দোলনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। শুক্র ও শনিবার সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত তিনটি সংগঠনের নেতাকর্মীরা এ কর্মসূচি পালন করেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি, জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক পৌর মেয়র প্রশান্ত কুমার রায়ের বাসায় হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে দুর্বৃত্তরা। ঘটনার পর থেকে আতঙ্কে আছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।
প্রশান্ত কুমারের নেতৃত্বে নেত্রকোনা জেলা আওয়ামী লীগের একটি ঝটিকা মিছিলের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায় প্রশান্ত মিছিল শেষে ছোট বাজার এলাকায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।
মিছিলের প্রতিবাদে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শহরের মোক্তারপাড়ায় বড় মসজিদের সামনে থেকে জেলা জামায়াতে ইসলামের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে জেলা প্রেস ক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়। সেখানে জামায়াতের পৌর আমির রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মো. নজরুল ইসলামের পরিচালায় বক্তৃতা করেন পৌর নায়েবে আমির আবুল হোসেন তালুকদার, জেলা শ্রমিককল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি কামাল উদ্দিন প্রমুখ।
এরপর রাত ৮টার দিকে শহরের ছোটবাজার এলাকায় বিএনপির দলীয় কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। এতে ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। মিছিলটির নেতৃত্ব দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আনোয়ারুল হক। পরে একই স্থানে এসে শেষ হয়। রাত সাড়ে ৯টায় খেলাফত আন্দোলনের নেতাকর্মীরা শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এতে নেতৃত্ব দেন খেলাফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব গাজী মুহাম্মাদ আবদুর রহিম।
রাত সাড়ে ৮টার দিকে শহরের বড়বাজার এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা প্রশান্ত কুমার রায়ের বাসায় দুর্বৃত্তরা হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলাকারীরা লোহার ফটক ও দরজা ভেঙে চারতলা বাসাটির সব কক্ষে আসবাসপত্রসহ সব কিছুই ভাঙচুর করে চলে যায়। চারতলায় ভাড়াটিয়ার কক্ষ, পানি সরবরাহের পাইপসহ ট্যাঙ্ক পর্যন্তও ভেঙে ফেলা হয়। এ সময় বাসায় প্রশান্তের স্ত্রী, বড় ভাই ও তার স্ত্রীসহ কাজের লোক উপস্থিত ছিলেন।
প্রশান্তের স্ত্রী রমা রায় বলেন, ‘দেড় শতাধিক মানুষ ভাঙচুর-লুটপাট চালিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফোন করেও কোনো সাড়া পাইনি।’
আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে ওইদিন রাত ৯টার দিকে সদর উপজেলার কাইলাটি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি তারিকুল ইসলামের বাড়ি বড় কাইলাটিতে হামলা চালিয়ে ঘরের আসবাবপত্রসহ সব ভাঙচুর করে দৃর্বৃত্তরা। এ সময় তিনটি ছাগল লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
নেত্রকোনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী শাহ নেওয়াজ রোববার দুপুরে যুগান্তরকে বলেন, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলে অংশ নেওয়া চারজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তাদের নাশকতা মামলায় রোববার আদালতে পাঠানো হয়েছে। প্রশান্ত কুমার ও ছাত্রলীগ নেতা তারিকুলের বাসায় ভাঙচুরের বিষয়টি জানা নেই।
