নৌ-মন্ত্রণালয়ের পাঁচ প্রকল্পে ব্যয় সাশ্রয় ২৪৮০ কোটি টাকা
Advertisement
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের অধীন পাঁচ প্রকল্পের ব্যয় কমিয়ে ২৪৮০ কোটি টাকা সাশ্রয় করা হয়েছে। এর মধ্যে পায়রা বন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেল ড্রেজিং না করে বিদেশি একটি প্রতিষ্ঠান ৫৬৩ কোটি টাকা নেওয়ার চেষ্টা করে। নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের তদারকিতে ওই টাকা নিতে পারেনি। নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার এক বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে সোমবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান নৌপরিবহণ উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।
এক প্রশ্নের জবাবে ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বন্দরে এখন কোনো চাঁদাবাজি হয় না, বিদেশিদের দিলে চাঁদাবাজিই থাকবে না। দেশের লাভ হলে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় বিদেশি অপারেটর নিয়োগ দিতে সমস্যা নেই। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জানুয়ারি মাসে সব গুটিয়ে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের পর বাড়ি চলে যাব। তিনি জানান, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন সংস্থার মোট রাজস্ব আয় ৬৫৭৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, যা তার আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৯ দশমিক ৪০ শতাংশ বেশি। একই সময়ে সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে ২২২৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরের তুলনায় তা ২১ দশমিক ৮১ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ রাজস্ব আয় করেছে ৫২২৭ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম বন্দর গত অর্থবছরে রেকর্ড পরিমাণ (৩২ লাখ ৯৬ হাজার ৬৭টি) কনটেইনার হ্যান্ডলিং করেছে। বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ৪ শতাংশ এবং কার্গো হ্যান্ডলিং ৬.০৭ শতাংশ বেড়েছে।
বিগত সরকারের সময়ে অহেতুক প্রকল্প নেওয়া হয়েছে জানিয়ে ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, গত এক বছরে মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ প্রকল্প থেকে ২১৪ কোটি টাকা, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) মিঠামইন প্রকল্প থেকে ২৭০ কোটি টাকা, এই সংস্থার ৩৫ ড্রেজার প্রকল্প থেকে এক হাজার ৩০০ কোটি টাকা, মেরিন অ্যাকাডেমির সিমুলেটর ক্রয় প্রকল্প থেকে ১৩৩ কোটি টাকা এবং পায়রা বন্দরের রামনাবাদ চ্যানেল ড্রেজিং প্রকল্প থেকে ৫৬৩ কোটি টাকা সাশ্রয় করা হয়েছে। তিনি বলেন, এর মানে ২৪৮০ কোটি টাকা সাশ্রয় করে সরকারকে ফেরত দেওয়া হয়েছে। এটা কোনো ছোট পরিমাণ টাকা নয়। মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট কারিগরি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে আলাদা কমিটির মাধ্যমে প্রকল্পগুলো যাচাই-বাছাই করে যৌক্তিকতা নিরূপণ করে এই টাকা সাশ্রয় করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মিঠামইন প্রকল্পটি ছিল নদীতে পয়সা ফেলার মতো। একটি বিল যেখানে দেশি-বিদেশি ট্রলার চলে, সেটি খনন করতে এ প্রকল্প নেওয়া হয়। কিছু লোককে সুবিধা দিতে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল।
নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, পায়রা বন্দরের নদী ড্রেজিং না করে বিদেশি একটি প্রতিষ্ঠান ৫৬৩ কোটি টাকা নেওয়ার চেষ্টা করে। আমরা বলেছি, ড্রেজিংয়ের জরিপ করার পর টাকা নিতে হবে। তখন দেখা যায়, ড্রেজিং না করে ওই টাকা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। উপদেষ্টা মহোদয়ের পদক্ষেপের কারণে ওই টাকা নিতে পারেনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা গত এক বছরে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয় সংস্কার ও বিশেষ কার্যক্রম, ব্যবসা সম্প্রসারণ, প্রবিধান/বিধিমালা/নীতিমালা প্রণয়ন, চুক্তি স্বাক্ষরসহ বিভিন্ন অর্জন তুলে ধরা হয়। এ সময় অতিরিক্ত সচিব দেলোয়ারা বেগম এবং মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন দপ্তর সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
