ডিএমপির বিশেষ মতবিনিময় সভা
আ.লীগের লকডাউন কর্মসূচি কঠোরভাবে দমনের নির্দেশ
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢাকায় লকডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। বৃহস্পতিবার তাদের ডাকা এই লকডাউন কর্মসূচি কঠোরভাবে দমনের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। একই সঙ্গে দলটির নেতাকর্মীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চালানো নানা প্রচারণার দিকে পুলিশকে তীক্ষ্ণভাবে লক্ষ্য রাখতেও বলা হয়েছে। রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে শনিবার ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কর্তৃক চলমান আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্তে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ নির্দেশ দেন আইজিপি। আইজিপি সভায় উপস্থিত সবাইকে পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন। এছাড়া চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নে সম্পাদনের জন্য উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তারা তাদের মতামত তুলে ধরেন এবং প্রয়োজনীয় কর্মপন্থা নির্ধারণ করেন। ডিএমপির বিশেষ মতবিনিময় সভার সভাপতিত্ব করেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।
সভায় উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সভার মূল এজেন্ডা ছিল বৃহস্পতিবার রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা। এদিন আওয়ামী লীগের বড় কোনো মিছিল বা নাশকতা করার পরিকল্পনা থাকতে পারে, এটা প্রতিহত করার প্রস্তুতি হিসাবেই এ সভা ডাকা হয়।
সভায় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যেভাবেই হোক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কোনো ধরনের নাশকতা বা মিছিল যেন করতে না পারে। তবে মিছিল করলে টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেডের বাইরে কিছু ব্যবহার না করার নির্দেশ দেন। অর্থাৎ লিথাল বা জীবনঘাতী কোনো কিছু ব্যবহার না করারও নির্দেশ দেন আইজিপি।
সূত্র বলছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এছাড়া বর্তমান সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় করণীয়, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা- এসব বিষয় নিয়ে পুলিশের সবাই যেন সক্রিয় ও সতর্ক থাকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয় বৈঠকে। সভায় মাঠ পুলিশের পক্ষ থেকেও কিছু সীমাবদ্ধতার কথা জানানো হয় সিনিয়র কর্মকর্তাদের। এর মধ্যে অন্যতম, যানবাহন সীমাবদ্ধতা, ফোর্সের সীমাবদ্ধতাসহ কিছু স্পটে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানোর কথা বলা হয়েছে। অনেক রিমোট স্পটে কোনো নাশকতা সংঘটিত হলে সেখানে যেতে সময় লেগে যায়, এমন অনেক সমস্যার বিষয় তুলে ধরেন কর্মকর্তারা। সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন র্যাব মহাপরিচালক একেএম শহীদুর রহমান, এসবি প্রধান মো. গোলাম রসুল, অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মো. সরওয়ার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এসএন মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (লজিস্টিকস, ফিন্যান্স ও প্রকিউরমেন্ট) হাসান মো. শওকত আলী, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. জিললুর রহমানসহ ডিএমপির যুগ্ম-পুলিশ কমিশনার, ডিএমপির আট অপরাধ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার, সব জোনাল এসি, এসি প্যাট্রোল, সব থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও প্যাট্রোল ইনস্পেকটরা।
