Logo
Logo
×
   

Advertisement

দ্বিতীয় সংস্করণ

ব্যাটারি কারখানা ৯০ গুণ মাটি বিষাক্ত করছে

সিসাদূষণে শিশুদের মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

সিসাদূষণে মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৫ দিনের একটি ব্যাটারি কারখানার দূষিত সিসায় ওই এলাকার মাটি ৯০ গুণের বেশি দূষিত হয়েছে। বিষাক্ত সিসার উপস্থিতি বেড়ে হয়েছে ৯ হাজার ৮০ পিপিএম। যা স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে ৯০ গুণ বেশি।

রাজধানীর এক হোটেলে শনিবার সাংবাদিকদের কর্মশালায় এ তথ্য জানানো হয়। পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়নমূলক সংগঠন এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (এসডো) ও জাতিসংঘের জরুরি শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) বাংলাদেশ এই কর্মশালার আয়োজন করে। এ সময় এসডোর চেয়ারপারসন ও সাবেক সচিব সৈয়দ মারগুব মোর্শেদ ও মহাসচিব ড. শাহরিয়ার হোসেন, নির্বাহী পরিচালক সিদ্দিকা সুলতানা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় মোট ৬টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। এ ছাড়া ‘সিসা কারখানার বিষে বিপর্যস্ত ইটাইল’ শিরোনামে একটি ভিডিও প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, কারখানার বিষাক্ত পদার্থের প্রভাবে জামালপুরের ইটাইলে এর মধ্যে ১২টি গরুর মৃত্যু হয়েছে। ৩০টিরও বেশি গরু অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এলাকার গৃহপালিত অন্য প্রাণিগুলোর অবস্থাও খারাপ। এমন ঘটনা প্রকাশের পর সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিআর) ও ইউনিসেফ সম্প্রতি জামালপুর সদর উপজেলার ইটাইলে অবৈধ ব্যাটারি কারখানার আশপাশে এলাকায় মানুষ, মাটি ও ফসলি জমি থেকে নমুনা নিয়ে গবেষণা চালায়।

এ গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ইউনিসেফ বাংলাদেশের হেলথ অফিসার হাসনাইন আহমেদ বলেন, মাটিতে সিসার উপস্থিতি অর্থেকে নেমে আসতে সময় লাগে ৭০০ বছর। যেসব বাড়িতে শিশু আছে বা যেসব জায়গায় শস্য হয়, সেখানে সিসার মাত্রা ১০০ পিপিএম এর নিচে থাকা উচিত। সেই হিসাবে ৯০ গুণের বেশি।

গবেষণার বিষয়ে হাসনাইন আহমেদ জানান, ওই এলাকায় ফসলের ক্ষেতে ক্ষতিকর সিসা উপস্থিতি ছিল ৪০০ পিপিএমের বেশি। গরু যেসব এলাকায় ঘাস খায়, সেখানে বাতাসে উড়ে আসা ছাই থেকে দুই হাজার ২০০ থেকে দুই হাজার ৬০০ পিপিএম মাত্রার সিসা পাওয়া যায়। এছাড়া ওই এলাকায় ৩২ পরিবারের একজন করে সদস্য থেকে নমুনা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা শেষে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।

সিসাদূষণে শিশুদের মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি, বৃদ্ধি ও বিকাশের গতি ধীর হয়ে যাওয়া, শেখার সমস্যা ও আচরণগত সমস্যা, আইকিউ কমে যাওয়া, শ্রবণ ও বাক সমস্যা, রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। গর্ভবর্তী নারীদের ক্ষেত্রে অকাল প্রসব, শিশুর কম ওজন নিয়ে জন্ম, শিশুর মস্তিষ্ক, কিডনি ও স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি হয়।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম