সংখ্যালঘু সংক্রান্ত অপরাধ নিয়ে পুলিশের পর্যালোচনা
৬৪৫ ঘটনার ৭১টি সাম্প্রদায়িক
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
২০২৫ সালে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে জড়িত দেশব্যাপী ৬৪৫টি অপরাধের মধ্যে ৭১টি ঘটনায় সাম্প্রদায়িক উপাদান রয়েছে। এর মধ্যে মন্দির ভাঙচুর ৩৮টি, অগ্নিসংযোগ ৮টি, মন্দিরে চুরি ১টি, খুন ১টি এবং অন্যান্য ২৩টি (প্রতিমা ভাঙার হুমকি, ফেসবুক পোস্ট ইত্যাদি)। এসব ঘটনায় ৫০টি মামলা হয়েছে। গ্রেফতারও করা হয়েছে ৫০ জনকে। অন্যদিকে অবশিষ্ট ৫৭৪টি ঘটনার সঙ্গে সাম্প্রদায়িক সংশ্লিষ্টতা নেই। যার মধ্যে অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ১৭২টি, চুরি ১০৬টি, ধর্ষণ ৫৮টি, প্রতিবেশী বিরোধ ৫১টি, ভূমি বিরোধ ২৩টি এবং পূর্বশত্রুতা ২৬টিসহ অন্যান্য অপরাধ রয়েছে ১৩৮টি। এসব ঘটনায় ৩৯০টি নিয়মিত মামলা ও ১৫৪টি অস্বাভাবিক মৃত্যুর (ইউডি) মামলা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে ৪৯৮ জনকে। অন্যান্য অপরাধের মধ্যে আছে অপহরণ, ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদাবাজি ইত্যাদি।
সোমবার পুলিশের বছরব্যাপী (২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর) পর্যালোচনার ভিত্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। প্রেস উইং জানায়, এই প্রতিবেদনটি ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট (এফআইআর), সাধারণ ডায়েরি (জিডি), চার্জশিট এবং দেশব্যাপী তদন্তের আপডেট থেকে সংকলন করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, যদিও প্রতিটি ঘটনা উদ্বেগের, তবে বেশিরভাগ মামলায় সাম্প্রদায়িক নয় বরং অপরাধমূলক প্রকৃতির। সাম্প্রদায়িক ঘটনাগুলোর মধ্যে প্রধানত ধর্মীয় উপাসনালয়, প্রতিমা ভাঙচুর বা অবমাননার ঘটনা ছিল। অল্পসংখ্যক অন্যান্য অপরাধ অন্তর্ভুক্ত ছিল। অন্যদিকে সংখ্যালঘু ব্যক্তি বা সম্পত্তিকে প্রভাবিত করে এমন অধিকাংশ ঘটনায় ধর্মের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। বরং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে উদ্ভূত। যার মধ্যে প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধ, জমিসংক্রান্ত দ্বন্দ্ব, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, চুরি, যৌন সহিংসতা ও পূর্ববর্তী ব্যক্তিগত শত্রুতাজনিত ঘটনাও রয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। যদিও সব অপরাধ গুরুতর এবং জবাবদিহিতার দাবি রাখে। তবে তথ্যটি প্রমাণ করে যে-সংখ্যালঘু ভুক্তভোগীদের সঙ্গে জড়িত বেশিরভাগ ঘটনা সাম্প্রদায়িক শত্রুতা থেকে হয়নি। বরং বৃহত্তর অপরাধমূলক এবং সামাজিক কারণে হয়েছে। প্রতিবেদনে পুলিশের উল্লেখযোগ্য তৎপরতার কথাও উঠে এসেছে। প্রেস উইং জানায়, ধর্মীয় উপাসনালয় বা সাম্প্রদায়িকভাবে সংবেদনশীল বিষয় জড়িত। এমন ঘটনাগুলোয় অপরাধ দমন ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকারের প্রতিফলন ছিল। প্রেস উইংয়ের বার্তায় আরও জানানো হয়, জাতীয় পর্যায়ে বাংলাদেশ এখনো গুরুতর আইনশৃঙ্খলা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। প্রতিবছর সারা দেশে সহিংস অপরাধে গড়ে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটে, যা কোনোভাবেই গর্ব করার মতো বিষয় নয়। প্রতিটি প্রাণহানি একটি ট্র্যাজেডি। এমন পরিসংখ্যানের মুখে কোনো সমাজেরই আত্মতুষ্টিতে ভোগা উচিত নয়। তবে একই সঙ্গে এ পরিসংখ্যানকে প্রাসঙ্গিক প্রেক্ষাপটে বুঝতে হবে। কারণ সহিংস অপরাধ ধর্ম, জাতিগত পরিচয় ও ভৌগোলিক সীমা অতিক্রম করে সব সম্প্রদায়কেই প্রভাবিত করে। প্রেস উইং জানায়, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো-বিদ্যমান সূচকগুলো দেখায় যে, বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির পথে যাচ্ছে। উন্নত পুলিশি ব্যবস্থা, গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয় জোরদার, দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং জবাবদিহি বৃদ্ধির ফলে ধীরে হলেও অর্থপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপরাধ আরও কমিয়ে আনতে এবং আইনের আওতায় সবার জন্য সমান সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
