নতুন নীতিমালা জারি
৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ মিলবে ক্রেডিট কার্ডে
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ক্রেডিট কার্ডের গ্রাহকদের ঋণ দেওয়ার সীমা বৃদ্ধি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন থেকে ক্রেডিট কার্ডের গ্রাহকদের ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা ঋণ দিতে পারবে। আগে দিতে পারত সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা। এই ঋণের বিপরীতে সুদের হার হবে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ।
রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড পরিচালনার বিষয়ে এই নীতিমালা জারি করেছে। নীতিমালাটি এ দিন সার্কুলার আকারে জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
নীতিমালায় বলা হয়, ব্যাংকগুলো ক্রেডিট কার্ডের বিপরীতে জামানতহীন সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা ঋণ দিতে পারবে। পর্যাপ্ত জামানতের বিপরীতে দিতে পারবে ৪০ লাখ টাকা। এছাড়া ক্রেডিট কার্ডের গ্রাহকরা তাদের মোট সীমার সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ অর্থ নগদে উত্তোলন করতে পারবেন। জামানতের ক্ষেত্রে গ্রাহকের ব্যাংক হিসাবে জমা টাকা বা ব্যাংকে বন্ধক থাকা অন্য সম্পদকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। আগে ক্রেডিট কার্ডে জামানতবিহীন ১০ লাখ টাকা দেওয়া হতো। এছাড়া জামানত নিয়ে দেওয়া হতো সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা।
নীতিমালায় বলা হয়, ক্রেডিট কার্ডে ঋণের সর্বোচ্চ সুদ হবে ২৫ শতাংশ। সুদ শুধু বকেয়া টাকার ওপর আরোপ করা হবে, মোট বিলের ওপর নয়। এছাড়া ক্রেডিট কার্ডে কেনাকাটার ক্ষেত্রে সুদহীন সুবিধা থাকলেও নগদ অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে এমন কোনো সুবিধা থাকবে না। নগদ অর্থ উত্তোলন করলে সুদ দিতে হবে। ক্রেডিট কার্ড সচল করার আগে কোনো ধরনের মাশুল নেওয়া যাবে না। বিল পরিশোধে বিলম্ব হলে বিলম্ব ফি মাত্র একবারই আরোপ করা যাবে। সুদহার বা অন্য কোনো চার্জ পরিবর্তনের অন্তত ৩০ দিন আগে কার্ডধারীকে লিখিত বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে জানাতে হবে। গ্রাহক সুরক্ষা ও হয়রানি বন্ধে পাওনা টাকা আদায়ের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ব্যাংক বা রিকভারি এজেন্ট গ্রাহককে মানসিক বা শারীরিক হয়রানি কিংবা হুমকি প্রদান করতে পারবে না। এমনকি কার্ডধারীর পরিবার, বন্ধু বা রেফারেন্স দেওয়া ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে। পাওনা আদায়ের জন্য ফোনকল বা সরাসরি যোগাযোগ শুধু অফিস চলাকালীন সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। কার্ড হারিয়ে গেলে বা চুরি হয়ে গেলে দ্রুত ব্লক করার জন্য ২৪ ঘণ্টা হেল্পলাইন ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে। ক্রেডিট কার্ড পেতে হলে আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। তবে ১৬ বছর বয়সি শিক্ষার্থীরা যারা প্রধান কার্ডধারীর ওপর নির্ভরশীল, তারা সাপ্লিমেন্টারি বা সম্পূরক কার্ড ব্যবহার করতে পারবে। এছাড়া আবেদনকারীর ই-টিন সনদ এবং একটি খেলাপিমুক্ত সিআইবি রিপোর্ট থাকতে হবে।
আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং একটি স্বচ্ছ ক্যাশলেস পেমেন্ট ইকোসিস্টেম গড়ার লক্ষ্যে এই নতুন নির্দেশনা কার্যকরের পর এ সংক্রান্ত ২০০৪ সালের নীতিমালাটি বাতিল করা হয়েছে।
