কর্মকর্তাদের গাড়ি কিনতে সুদমুক্ত ঋণ আপাতত বন্ধ
মন্ত্রীদের গাড়ির মাসিক জ্বালানি ৩০% কমল
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জ্বালানি ও সরকারি ব্যয় সংকোচনের লক্ষ্যে মন্ত্রীদের গাড়ির মাসিক জ্বালানি ৩০ শতাংশ কমানো হয়েছে। এতে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা সরকারি কার্যক্রমে গাড়ির জন্য মাসিক বরাদ্দ করা জ্বালানির ৩০ শতাংশ কম নেবেন। আর পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি কেনার জন্য সুদমুক্ত ঋণ দেওয়াও বন্ধ থাকবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয় বলে সরকারি তথ্য-বিবরণীতে জানানো হয়। এতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির ব্রিফিংয়ে দেওয়া বক্তব্যের আলোকে মন্ত্রিসভায় নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
তথ্য-বিবরণীতে বলা হয়, বিদ্যমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনে বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বিত কর্মকৌশলে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা দেওয়া, সারের উৎপাদন, মজুত ও সুষ্ঠু বিতরণ নিশ্চিত করা, শিল্প উৎপাদন ও প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার স্বার্থে শিল্প খাতে প্রয়োজনীয় জ্বালানির জোগান অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অব্যাহত রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আগামী তিন মাস দেশব্যাপী সব ধরনের আলোকসজ্জা পরিহার করতে হবে। আলোকসজ্জা পরিহারসহ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে গৃহীত কর্মকৌশল বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম গ্রহণ করবে। প্রয়োজনে পর্যাপ্তসংখ্যক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।
অফিস সময় ও বিপণিবিতান : সরকারি ও বেসরকারি অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা, ব্যাংকিং সেবা সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। আর জরুরি সেবা ব্যতীত সব অফিস ভবন, বিপণিবিতান, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টায় বন্ধ করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরবর্তী মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রস্তাব উপস্থাপন করবে বলে তথ্য-বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের বরাত দিয়ে তথ্য-বিবরণীতে আরও বলা হয়, জ্বালানি তেলের ব্যবহার ও পরিবেশদূষণ কমাতে পরিবেশবান্ধব সম্পূর্ণ নতুন ইলেকট্রিক বাস নিবন্ধিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য বিনা শুল্কে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সর্বসাকল্যে ২০ (বিশ) শতাংশ শুল্কে আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এছাড়া কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহনগুলো ক্রমান্বয়ে সড়ক থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বিপণিবিতানগুলো সন্ধ্যা ৬টায় বন্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্ত এখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো বাস্তবায়ন করবে। তথ্য-বিবরণীতে বলা হয়, সরকারি অর্থায়নে সব বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ থাকবে। প্রশিক্ষণ ব্যয় ছাড়া অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ব্যয় ৫০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে। সভা ও সেমিনারে আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে এবং সেমিনার-কনফারেন্স ব্যয় ২০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে। এছাড়া ভ্রমণ ব্যয় ৩০ শতাংশ, সরকারি খাতে গাড়ি, জলযান, আকাশযান ও কম্পিউটার কেনা শতভাগ বন্ধ এবং সরকারি গাড়িতে মাসিক ভিত্তিতে বরাদ্দ করা জ্বালানির ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমাতে হবে। সরকারি কার্যালয়ে জ্বালানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমাতে হবে। এছাড়া আবাসিক ভবন শোভাবর্ধন ব্যয় ২০ শতাংশ, অনাবাসিক ভবন শোভাবর্ধন ব্যয় ৫০ শতাংশ এবং ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় শতভাগ কমানোর বিষয়েও মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় বলে তথ্য-বিবরণীতে জানানো হয়েছে।
