Logo
Logo
×
   

Advertisement

দ্বিতীয় সংস্করণ

সংসদে আইনমন্ত্রী

অধ্যাদেশ পাশ হলে গুমের শিকারদের প্রতি অবিচার করা হবে

Advertisement

Icon

সংসদ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

গুমসংক্রান্ত আইনের সঙ্গে যেন মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন ও মানবাধিকার কমিশন আইনের কোনো সাংঘর্ষিক অবস্থা তৈরি না হয়, সেজন্য আইনটি যাচাই-বাছাই করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। রোববার জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ-সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমানের এক প্রশ্নের জবাবে জাতীয় সংসদে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, মানবাধিকার কমিশন আইন ও গুম প্রতিরোধ আইন যেভাবে করা হয়েছে, সেটা করলে গুমের শিকার সদস্যদের প্রতি অবিচার করা হবে। কারণ, আমরা একই সঙ্গে ১৯৭৩ সালের মানবতাবিরোধী আইনের মধ্যে গুমের সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করেছি। সেখানে বিচার হবে, তদন্ত হবে। সেখানে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কিংবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের কথা বলা হয়েছে। অধ্যাদেশে ১০ বছর পর্যন্ত সাজা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

আসাদুজ্জামান বলেন, মানবাধিকার কমিশন আইন যেটা করা হয়েছে, সে আইনটা আমি সময় এলে দেখাব। কিন্তু এই আইনটা যদি এভাবে রাখা হয় তাহলে বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার মানুষ অতিরিক্ত হয়রানি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হবেন। তিনি আরও বলেন, আইনে তদন্তের নামে যে সময়টা দেওয়া হয়েছে, সে কারণে আমরা বলেছি বিশেষ কমিটিতে আলোচনা করেছি। তিনি (ব্যারিস্টার আরমান) হয়তো ছিলেন না। আমরা বলছি, এই দুটি আইনকে আরও বেশি যুগোপযোগী, আরও বেশি জনকল্যাণমুখী, আরও বেশি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আমরা সংসদের এই সেশনের মাঝামাঝি বা পরবর্তীতে অংশীজনদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে পরবর্তীতে সুনির্দিষ্টভাবে মিল আনব, যেন অপরাধীরা কোনোভাবে ছাড়া না পায়।

গুম অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশে আবেগী বক্তব্য ব্যারিস্টার আরমানের : অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জারি করা গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশে সংসদে কান্নাজড়িত কণ্ঠে আবেগী বক্তব্য দিয়েছেন ঢাকা-১৪ আসনের জামায়াত দলীয় এমপি মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যে প্রধানমন্ত্রী নিজে নির্যাতনের শিকার, তারা কেমন করে এ আইন বাতিলের পরামর্শ দেয়? আমাদের আবেদন আইনটি যদি পরিশোধিত করতে চান, তার আগে অনুমোদন দিয়ে আইনে পরিণত করুন। পরে সংশোধিত করা হোক। যদি সেটা না করা হয়, অধ্যাদেশটি বাতিল হয়ে গেলে গুমের সংজ্ঞা থাকবে না। রোববার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে এসব কথা বলেন তিনি। পরে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান জানান, বিলটি আরও যুগোপযোগী করে চলতি অধিবেশন বা পরে সংসদে উত্থাপন করা হবে।

এর আগে মীর আহমাদ বিন কাসেম বলেন, আমি এখানে দাঁড়িয়ে আছি একটি অন্ধকার ঘর থেকে ফিরে এসে। যেখানে আমার মতো আরও শত শত লোককে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাদের ফিরে আসার সৌভাগ্য হয়নি। আমি তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ বিষয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমরা সেই অন্ধকার ঘরে মৃত্যুর প্রহর গুনছিলাম। ধরে নিয়েছিলাম এ অন্ধকার ঘরে আমাদের মৃত্যু হচ্ছে। হয়তো আমাদের হত্যা করবে, এখানেই আমাদের মৃত্যু হবে। আমাদের সঙ্গে কথা বলার কেউ ছিল না। কীটপ্রতঙ্গ-পিঁপড়া-টিকটিকির সঙ্গে কথা বলতাম। বুঝতে পারতাম না বাইরে দিন, নাকি রাত। মনে হচ্ছে জীবন্ত কবর দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মনে করতাম মৃত্যু হাজারগুণ ভালো। ভাবতাম আজকে রাতে হত্যা করা হবে।

মীর আহমাদ বিন কাসেম বলেন, এভাবে মৃত্যুর প্রহর যখন গুনছিলাম, একদিন রাতে আমাকে টেনে-হিঁচড়ে বের করা হচ্ছে, তখন ধরে নিচ্ছি আজকেই আমার মৃত্যু হবে। তখন আমি সূরা ইয়াসিন পড়া শুরু করেছিলাম যাতে মৃত্যুটা সহজ হয়। কিন্তু শুনলাম কিছু বাচ্চা ছেলে জীবন দিয়ে, চোখ-পা হারিয়ে ফ্যাসিবাদকে বিতাড়িত করে আমাদের আবার দুনিয়ার আলো দেখার সুযোগ করে দিয়েছে। তিনি বলেন, এ সংসদকে বলতে হয় মজলুমদের মিলন মেলা। এমন একজনকেও পাবেন না যারা গত ফ্যাসিস্ট আমলে জুলুমের শিকার হয়নি। গুমের ভুক্তভোগী পরিবারদের পক্ষ থেকে আমরা বলছি, আমি স্তম্ভিত হয়েছি। আমাদের সঙ্গে যে জুলুম করা হয়েছিল তা যেন বাংলাদেশের মাটিতে না হয়, সেজন্য গুম প্রতিকার ও প্রতিরোধ অধ্যাদেশ ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ করা হয়েছিল। বিশেষ কমিটি আইনগুলো বাতিলের সুপারিশ করেছে।

পরে পয়েন্ট অর্ডারে আইনমন্ত্রী বলেন, যারা গুম হয়েছেন, তাদের কেউ আমার স্বজন-ভাই-বোন-আত্মীয়-প্রতিবেশী-বাংলাদেশের মানুষ। তাদের কেউ আমার জিয়া পরিবারের সদস্য। বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ের প্রতিবেশী। তিনি বলেন, তারা (বিরোধী দল) যেটা নিয়ে হৈ-চৈ করছেন, তারা সেটা (আইন) বোধহয় ভালো করে দেখেননি।

মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশের বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, অধ্যাদেশটি রাখা হলে বাংলাদেশের মানবাধিকার লংঘনের শিকার মানুষজন অতিরিক্ত হয়রানির শিকার হবেন তদন্তের নামে যে সময়সীমা রাখা হয়েছে। যে কারণে আমরা বলেছি এ দুটো আইন আরও বেশি যুগোপযোগী, জনকল্যাণমুখী, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য এ সেশনের মাঝামাঝি বা পরবর্তীতে অংশীজনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সুনির্দিষ্টভাবে বিল আনব। যাতে করে অপরাধীরা কোনোভাবে ছাড়া না পায়। কারণ ব্যারিস্টার আরমান আমার ভাই, স্বজন, সহকর্মী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে যেভাবে গুমের শিকার হয়েছিলেন, সেভাবে বাংলাদেশের সাতশ’র বেশি মানুষ গুমের শিকার হয়েছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের গুমের কথা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, তিনি যেভাবে গুমের শিকার হয়েছিলেন, মৃত্যুর প্রহর গুনেছিলেন প্রতিদিন। তাকে যেভাবে পার্শ্ববর্তী দেশে ডাম্পিং করা হয়েছিল, যেভাবে বিচারের মুখোমুখি হয়েছিলেন, যেভাবে বাংলাদেশে ফেরত এসেছেন। তিনি বলেন, এটা মনে করার কারণ নেই, গুমের সঙ্গে জড়িত অপরাধীরা আইনের ফাঁক দিয়ে বের হতে পারবেন। সে কারণে গুমের আইনে যে সাজা ও তদন্তের প্রস্তাব করা হয়েছিল, আইসিটি আইনের গুমের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, দুটোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবস্থা বিরাজ না করে, সেজন্য আইনগুলো যাচাই-বাছাই করা দরকার। আমি আশা করব যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া ব্যারিস্টার আরমানসহ এ সেক্টরে যারা ভুক্তভোগী হয়েছেন, তারা সদস্য হিসাবে থাকবেন।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম