Logo
Logo
×

Advertisement

দ্বিতীয় সংস্করণ

দেশীয় ও বৈশ্বিক বাস্তবতায় আসছে জনবান্ধব বাজেট

অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মনিটরিং ও সম্পদ কমিটির সভা শুক্রবার * বাজেটের আকার হতে পারে রেকর্ড ৮ লাখ ৮১ হাজার কোটি টাকা

Advertisement

Icon

এম শাহজাহান

প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নানা পরিস্থিতি ও বাস্তবতা বিবেচনায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য জনবান্ধব বাজেট প্রণয়ন করতে যাচ্ছে সরকার। নতুন বাজেট হতে যাচ্ছে একদিকে উচ্চাভিলাষী, অন্যদিকে চ্যালেঞ্জে ভরা। জ্বালানি নিরাপত্তা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক সুরক্ষা জোরদার এবং সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা-এ চারটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়েই বাজেটের মূল কাঠামো তৈরি হচ্ছে। এতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ থাকবে। ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা দেশের অর্থনৈতিক হিসাবনিকাশ ওলটপালট করে দিয়েছে। ফলে অর্থনীতির লাইফলাইন হিসাবে খ্যাত রপ্তানি ও রেমিট্যান্স এখন চ্যালেঞ্জের মুখে। এই বাস্তবতায় জাতির সামনে আসছে নতুন বাজেট।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মুখে রেকর্ড ৮ লাখ ৮১ হাজার কোটি টাকার (সম্ভাব্য) বাজেটের রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে। এতে চলতি বাজেটের চেয়ে নতুন বাজেটের আকার বাড়বে প্রায় ৯১ হাজার কোটি টাকা। শুক্রবার জুম প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাজেট মনিটরিং ও সম্পদ কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সভা। এতে সভাপতিত্ব করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ব্যয় সাশ্রয়ী বাজেট প্রণয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে ব্যয় কমাতে যানবাহন কেনা বন্ধসহ ১১ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

বৈঠকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের আকার ও সামগ্রিক রূপরেখা উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এতে আগামী অর্থবছরের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হতে পারে প্রায় ৫ শতাংশ। সে অনুযায়ী দেশের মোট জিডিপির আকার দাঁড়াতে পারে ৬৮ লাখ ৭০৭ কোটি টাকা, যা মার্কিন ডলারে প্রায় ৫৪৪ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি দিতে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৬ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হচ্ছে। তবে বাজেটের আকার নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, কোনো কিছুই চূড়ান্ত করা হয়নি। অর্থমন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বসে বাজেটের আকার ও বরাদ্দ চূড়ান্ত করবেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের সঙ্গে মিল রেখে বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র চার মাসের মাথায় ১১ জুন সংসদে অর্থমন্ত্রী বাজেট উপস্থাপন করবেন। দীর্ঘ ২০ বছর পর বিএনপি সরকার সংসদে বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছে। এর আগে সর্বশেষ ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেছিল। তবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় চলতি বাজেটের আকার ৭ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকায় আনা হয়। এবার রেকর্ড ৮ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে বাজেটের আকার।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এবারে বাজেটের আকার বাড়বে। ইতোমধ্যে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, জ্বালানি সংকট, মূল্যস্ফীতি এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়েই বাজেট বড় করা হচ্ছে। তবে রাজস্ব আদায়, ঘাটতি অর্থায়ন এবং বৈদেশিক সহায়তা নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে। শুধু তাই নয়, বিশ্বে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। ফলে নতুন বাজেটে জ্বালানি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সরকারকে ভর্তুকি বাড়াতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে অতিরিক্ত ২০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি চেয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগ। যেভাবে জ্বালানি তেলের দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে, তাতে এ খাতে এবার বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হবে সরকারকে।

জানা যায়, নতুন বাজেটে এলএনজি আমদানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং জ্বালানি দক্ষতা বাড়ানোর প্রকল্পে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হতে পারে। এছাড়া সামাজিক সুরক্ষার আওতা বাড়ানো এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল নিয়ে নতুন বাজেটে ঘোষণা থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পে-স্কেল নিয়ে ইতোমধ্যে সচিব কমিটি কাজ শুরু করেছে। এছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা। চলতি বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি। তবে নতুন বাজেটে তা ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। বয়স্ক ও বিধবা ভাতাও চালু রাখা হবে। তবে এবার প্রকল্প বাছাইয়ে কার্যকারিতা ও বাস্তবায়ন সক্ষমতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং ওয়ানস্টপ সার্ভিস নিশ্চিত করা হবে। এ প্রসঙ্গে পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ড. এম মাসরুর রিয়াজ যুগান্তরকে বলেন, কর্মসংস্থান বাড়াতে হলে অবশ্যই বিনিয়োগ ও ব্যবসাবান্ধব বাজেট করতে হবে। ব্যাংক সুদহার কমিয়ে আনা, কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং অন্যান্য জ্বালানি নিশ্চিত করা গেলে উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন।

বাজেট কাঠামো : আগামী বাজেটের সম্ভাব্য আকার নির্ধারণ করা হচ্ছে ৮ লাখ ৮১ হাজার কোটি টাকা। মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হতে পারে ৬ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব খাত থেকে আয়ের লক্ষ্য ৫ লাখ ৭১ হাজার কোটি টাকা (জিডিপির ৮.৪ শতাংশ) এবং এনবিআর থেকে কর আদায়ের লক্ষ্য প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা। ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা বা জিডিপির ৩.৬ শতাংশ। এ ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ২ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা (জিডিপির ২ শতাংশ) সংগ্রহের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হবে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে আসবে ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে করবহির্ভূত আয় ৬৫ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হতে পারে যা জিডিপির প্রায় ১ শতাংশ। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি-এডিপির আকার নির্ধারণ করা হতে পারে ২ লাখ ৫৫ হাজার কোটি টাকা যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় ২৫ হাজার কোটি টাকা বেশি।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

বাংলাদেশে ঢুকে বিএসএফের সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ

বাংলাদেশে ঢুকে বিএসএফের সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ

এইচএসসি ও সমমানের ফল ২৯ অক্টোবর

এইচএসসি ও সমমানের ফল ২৯ অক্টোবর

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড সৌদির কাছে কিছু প্রশ্নের জবাব চেয়েছে ঢাকা

সৌদির কাছে কিছু প্রশ্নের জবাব চেয়েছে ঢাকা

সৃজনশীল শিল্প হবে অর্থনীতির নতুন চালিকাশক্তি: অর্থমন্ত্রী

সৃজনশীল শিল্প হবে অর্থনীতির নতুন চালিকাশক্তি: অর্থমন্ত্রী

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম