জ্বালানি তেল নিয়ে সংসদে উত্তাপ
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জ্বালানি তেল সংকট, তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং মূল্যবৃদ্ধির পরও তেল পেতে মানুষের ভোগান্তি নিয়ে রোববার উত্তপ্ত ছিল জাতীয় সংসদ। রুমিন ফারহানাসহ কয়েকজন সংসদ-সদস্য এ নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলেন। রুমিন ফারহানা জানতে চান, দেশে যদি জ্বালানির কোনো সংকটই না থাকে তা হলে পাম্পে এত লম্বা লাইন কেন? দামইবা বাড়াতে হয় কেন? সন্ধ্যা ৭টায় কেন মার্কেট বন্ধ করতে হয়। তিনি যখন এ বক্তব্য দিচ্ছিলেন তখন হইচই করেন সরকার দলের কয়েকজন সংসদ-সদস্য। বাধ্য হয়ে স্পিকারকে বলতে হয়, ‘মাননীয় সদস্যবৃন্দ, প্লিজ লেট আস ডিসিপ্লিনড আওয়ারসেলভস।’ এক পর্যায়ে সরকার দলের সদস্যদের এমন আচরণের সমালোচনা ও নিন্দা জানান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
পরে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ নানা প্রশ্নের জবাব দেন। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অবৈধভাবে জ্বালানি তেলের মজুত ও কালোবাজারি করছে। ফলে পাম্পগুলোয় কৃত্রিম তেল সংকট তৈরি হচ্ছে।
দেশে জ্বালানির কোনো সংকট নেই, সংসদে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের এমন বক্তব্য যথার্থ বলে মন্তব্য করে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, সরকার গত বছরের মার্চে যে পরিমাণ জ্বালানি তেল সরবরাহ করেছে, চলতি বছরের মার্চে একই পরিমাণ তেল সরবরাহ করেছে। ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ বা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন থেকে মোটরবাইকে ২০০ টাকার ফুয়েল প্রদান বা রং লাগানোর বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তবে ‘প্যানিক বায়িং’ ও মজুত প্রবণতার কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে।
জ্বালানি তেল উদ্ধার : ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, প্রতিদিন অবৈধ মজুতদারকে আইনের আওতায় এনে জেল-জরিমানা করা হচ্ছে। সারা দেশে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৯ হাজার ১১৬টি অভিযানে তিন হাজার ৫১০টি মামলা হয়েছে। এক কোটি ৫৬ লাখ ৯ হাজার ৬৫০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় হয়েছে। পাঁচ লাখ ৪২ হাজার লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার হয়েছে।
তিনি বলেন, ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেল বিপণনে অধিকতর স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে সরকার ঢাকা মহানগরীর কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে ফুয়েল কার্ড চালু করা হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সফল হলে দেশব্যাপী তা বাস্তবায়ন করা হবে। এই ফুয়েল কার্ডে গ্রাহকদের জ্বালানি তেল সংগ্রহের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে।
পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিতে হরমুজ প্রণালি প্রয়োজন হয় না: শেখ মজিবুর রহমান ইকবালের এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করার প্রয়োজন হয় না। তিনি জানান, কুয়েত, মালয়েশিয়া, চীন, আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, ওমান ও ভারত থেকে সরাসরি চুক্তির আওতায় বিপিসি ৫০ শতাংশ পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে থাকে।
অবশিষ্ট শতাংশ আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে আমদানি করা হয়। সামগ্রিকভাবে মোট আমদানি জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ থেকে ২৩ শতাংশ হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে পরিবহণ করা হয়ে থাকে।
