আইন প্রণয়ন ও কমিটি গঠন
সংসদে বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ টিআইবির
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে আইন প্রণয়ন ও সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে কার্যপ্রণালি বিধি ও দীর্ঘদিনের সংসদীয় চর্চা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির দাবি, আইন পাশ ও স্থায়ী কমিটি গঠনে সরকারি দল সংখ্যাগরিষ্ঠতার একচ্ছত্র ব্যবহার করেছে, যা সংসদের জবাবদিহি ও কার্যকারিতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। একই সঙ্গে সংসদীয় কমিটির ক্ষমতা ও কার্যকারিতা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে নতুন আইন প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এসব কথা বলেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, কার্যপ্রণালির ৭৭ বিধি অনুযায়ী কোনো বিল সংসদে উত্থাপনের পর সেটি স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো, বাছাই কমিটিতে পাঠানো অথবা জনমত যাচাইয়ের জন্য প্রচারের আহ্বান জানানোর সুযোগ রয়েছে। প্রচলিত সংসদীয় রীতিতেও বিল সাধারণত স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কিন্তু ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’ এর ক্ষেত্রে এসব প্রক্রিয়ার কোনোটিই অনুসরণ করা হয়নি। বিরোধী দলের জনমত যাচাই কিংবা বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাবও বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। এমনকি সংশোধনী প্রস্তাব দেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়নি।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, সংসদীয় রেওয়াজ অনুযায়ী বিল উত্থাপনের অন্তত তিন দিন আগে সংসদ-সদস্যদের কাছে বিলের অনুলিপি সরবরাহ করা হলেও এই বিলের অনুলিপি সদস্যদের হাতে দেওয়া হয়েছে উত্থাপনের ঠিক আগমুহূর্তে। এতে সংসদ-সদস্যরা বিলটি পর্যালোচনার বাস্তবসম্মত সুযোগ পাননি। কার্যপ্রণালি বিধি লঙ্ঘন করে একতরফাভাবে আইনটি পাশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল, ২০২৬ এবং পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) (সংশোধন) বিল, ২০২৬ কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই সম্পূরক কার্যসূচির মাধ্যমে সংসদে উত্থাপন করা হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, এছাড়া বিরোধী দলের আপত্তি উপেক্ষা করে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে আরও কয়েকটি বিল দ্রুত পাস করা হয়েছে। তার ভাষ্য, এ ধরনের একতরফা আইন প্রণয়নের কারণে প্রশ্ন উঠেছে, কর্তৃত্ববাদী আমলের সংসদের সঙ্গে বর্তমান সংসদের পার্থক্য কোথায়।
সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে কার্যপ্রণালি বিধির ১৮৮ বিধি উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, যিনি ইতোমধ্যে স্বার্থের সংঘাতে দুষ্ট বহুবিধ কর্মকাণ্ডের জন?্য বিতর্কিত হয়েছেন, তাকে অর্থ মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তার মতে, মন্ত্রিসভার একজন সদস্যের পক্ষে অন্য মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের ওপর কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এতে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। নব্বই-পরবর্তী কোনো সংসদে এ ধরনের নজির দেখা যায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। স্বার্থসংশ্লিষ্ট বা বিতর্কিত ব্যক্তিদের কমিটির সদস্য বা সভাপতি করা হলে সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এসব কমিটির সক্ষমতা ও কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে বলে সতর্ক করেছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ইতোমধ্যে গঠিত বিতর্কিত কমিটিগুলো পুনর্গঠন করতে হবে এবং ভবিষ্যতে সব কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে নিজেদের ঘোষিত অঙ্গীকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে। একই সঙ্গে সংবিধানের ৭৮(৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদীয় কমিটির ক্ষমতা ও কার্যকারিতা বাড়াতে সব অংশীজনকে সম্পৃক্ত করে দ্রুত নতুন আইন প্রণয়নের দাবি জানান তিনি।
