বিদায়ি অর্থবছরে ব্যাংক ঋণ
সরকার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩০৫৭১ কোটি টাকা বেশি নিয়েছে
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিদায়ি অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব আয় কম হওয়ায় ব্যাংক খাত থেকে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ঋণ নিয়েছে। বিদায়ি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে সরকার ঋণ নিয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা। এ হিসাবে ওই অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩০ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা বেশি ঋণ নিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদনের তথ্যে দেখা যায়, ওই অর্থবছরে সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ছাপানো টাকায় নতুন কোনো ঋণ নেয়নি। বরং আগের ঋণ পরিশোধ করেছে ৪ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের স্থিতি ছিল ৯৮ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা। চলতি বছরের ৩০ জুনে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৯৪ হাজার ৫৩ কোটি টাকায়। যদিও অর্থবছরের শুরু থেকে এপ্রিল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছিল ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। পরবর্তীতে সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ শোধ করেছে। যে কারণে বছর শেষে এ খাতে ঋণের স্থিতি ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি কমেছে। এসব ঋণের বড় অংশই পরিশোধ করা হয়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে নেওয়া ঋণের মাধ্যমে। অর্থাৎ নতুন ঋণ নিয়ে সরকার আগের ঋণ শোধ করেছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণকে বলা হয় হাই পাওয়ার্ড মানি বা উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন অর্থ। এসব অর্থ বাজারে এসে টাকার প্রবাহ বাড়িয়ে দেয়। ফলে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে যায়। এ কারণে সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ কমিয়েছে।
তবে রাজস্ব আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশ কম হওয়ায় সরকারকে ব্যাংক ঋণের ওপর বেশি মাত্রায় নির্ভর করতে হয়েছে। এর মধ্যে বিদায়ি অর্থবছরে ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে নিয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩০ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা বেশি নিয়েছে। সরকারের এই বাড়তি ঋণের কারণে একদিকে বেসরকারি খাতে ঋণের জোগান কম গেছে। অন্যদিকে সুদের হার বেড়েছে। ফলে বেসরকারি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে চলতি অর্থবছরের শুরুতেও রাজস্ব আদায়ের গতি কম। যে কারণে প্রথম দিকে সরকারকে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়াতে হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১৩ দিনে সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নিয়েছে ৯ হাজার ২০৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে টাকা ছাপিয়ে কিছু ঋণ নিয়েছে। বাকি ৩ হাজার ৭৯৫ কোটি টাকা নিয়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে। তবে অর্থবছরের পরবর্তী সময়ে সরকার ছাপানো টাকায় ঋণের অর্থ পরিশোধ করে দিচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে. মুজেরি বলেন, বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরেই সরকারের ব্যয় নির্ধারণ করে। কিন্তু বাস্তবে রাজস্ব আদায় প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম হয়েছে। ফলে ব্যয় নির্বাহে সরকারকে ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ঋণ নিতে হয়েছে।
