Logo
Logo
×
   

Advertisement

দ্বিতীয় সংস্করণ

শিশু-কিশোরদের প্রধানমন্ত্রী

মন দিয়ে পড়ো, মন দিয়ে খেলো

Advertisement

Icon

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কাছে পেয়ে আনন্দের কোনো সীমা ছিল না কুঁড়ি থেকে ফুল হয়ে ফোটার অপেক্ষায় থাকা কিশোর-কিশোরীদের। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো আয়োজিত নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-এর সফল সমাপ্তি হয় সোমবার বিকালে বনানী আর্মি স্টেডিয়ামে। তৃণমূল পর্যায়ে আয়োজিত এই বৃহৎ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার প্রতিপাদ্য ছিল ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’।

বিপুল সাড়া জাগানো নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ফুটবলের প্রথম আসরে বালক বিভাগে সিলেট এবং বালিকা বিভাগে রংপুর চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ছেলে ও মেয়েদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে শেষ হাসি হেসেছে যথাক্রমে জাকির হোসেন এবং মারিয়া।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শিশু-কিশোর ও খেলোয়াড়দের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা দেশকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার কাজ করছি। কিন্তু এই কাজটি আমরা তখনই সফলভাবে করতে পারব, যখন তোমরা আজকে যারা গ্যালারিতে বসে আছ এবং যারা খেলার মাঠে পুরস্কার পেয়েছ, তোমরা নিজেদের আগামী দিনের উপযোগী করে গড়ে তুলবে। এখন পড়ার সময় মন দিয়ে পড়তে হবে, একইভাবে মন দিয়ে খেলতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমাজে নানা ধরনের খবর থাকে, আজকের এই শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা ও প্রতিভা বিকাশের গল্প আগামী দিনের সংবাদপত্রের লিড নিউজ হোক। কারণ, এই শিশুরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।’ তিনি বলেন, ‘আজ যারা মাঠে খেলছে, তাদের মধ্য থেকেই একদিন ডাক্তার, প্রকৌশলী, স্থপতি, ক্রিকেটার, সাঁতারু কিংবা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের খেলোয়াড় তৈরি হবে।’ নিজেদের কখনো ছোট না ভেবে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে যোগ্য হয়ে ওঠার আহ্বান জানান তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংগীত ও শিল্পচর্চায় সরকার সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে এই শিশুদের আজকের সাফল্যের পেছনে থাকা বাবা-মা, শিক্ষক ও কোচদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের প্রথম ফুটবল আসরের বালক বিভাগে শিরোপা উঠল সিলেট অঞ্চলের হাতে, বালিকা বিভাগে দাপট দেখিয়ে চ্যাম্পিয়ন হলো রংপুর। ফাইনালে সিলেট ও ময়মনসিংহ দুই দলই একের পর এক আক্রমণ শানায়। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই গোলের সুযোগ পেয়েছিল ময়মনসিংহ, তবে সিলেটের রক্ষণভাগ তা নস্যাৎ করে দেয়। পালটা আক্রমণে সিলেটও গোলের খুব কাছে গিয়েছিল, কিন্তু দুর্দান্ত সেভে দলকে বাঁচায় ময়মনসিংহের গোলকিপার। দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় সিলেট। ৫৮ মিনিটে আরাফাত রাফির দূরপাল্লার শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এক মিনিট পর আর ভুল করেনি আরমান খান। মাঝমাঠ থেকে নেওয়া তার দূরপাল্লার শট জড়িয়ে যায় জালে। সেই গোলেই ১-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে সিলেট। শিরোপা যায় তাদের ঘরে।

বালিকা বিভাগের ফাইনালে রংপুর শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে রাজশাহীকে চাপে রাখে। আট মিনিটে স্মৃতি কিসকুর গোলে এগিয়ে যায় রংপুর। দুই মিনিট পর কর্নার থেকে হেডে নিজের দ্বিতীয় গোল করে স্মৃতি। বিরতির আগে তন্বীর গোলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৩-০। ৫২ মিনিটে সুমাইয়ার গোলে ৪-০ ব্যবধানে বড় জয় নিয়ে বালিকা বিভাগের শিরোপা নিজেদের করে নেয় তারা।

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের শেষ আকর্ষণ ছিল ছেলে ও মেয়েদের ১০০ মিটার স্প্রিন্ট। আগেরদিন হিটে সেরা টাইমিং করা ঢাকার মারিয়া ফাইনালেও নিজের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখে। ১৩.৮২ সেকেন্ড থেকে টাইমিং কমিয়ে ১৩.৭৫ সেকেন্ডে ফিনিশ লাইন ছুঁয়ে সোনালি হাসি তার মুখে। সিলেটের তিশা আক্তার ১৪.২৫ সেকেন্ডে দ্বিতীয় এবং খুলনার অধরা ঐশী ১৪.৬২ সেকেন্ডে তৃতীয় হয়।

দৌড় শেষে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে প্রশংসা পাওয়ার আনন্দ পদকের চেয়েও বড় হয়ে ওঠে মারিয়ার কাছে। তার স্বপ্ন এখন আরও বড়। দিনমজুর বাবার মুখে হাসি ফোটাতে চায় সে। এশিয়ান গেমস, অলিম্পিকের ট্র্যাকে বাংলাদেশের পতাকা বুকে নিয়ে দৌড়ানোর স্বপ্ন দেখে মারিয়া। আবেগভরা কণ্ঠে সে বলে, ‘অনেক ভালো লাগছে। কখনো ভাবিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা ও কথা বলার সুযোগ পাব। তার সামনে দৌড়ে সেরা হতে পেরে খুব খুশি লাগছে।’

ছেলেদের ১০০ মিটার দৌড়ে যেন নিজের সঙ্গেই প্রতিযোগিতা করে খুলনার জাকির হোসেন। হিটে ১১.৫০ সেকেন্ড সময় নেওয়া জাকির ফাইনালে টাইমিং নামিয়ে আনে ১১.১৫ সেকেন্ডে। ফিনিশিং লাইন পার করেই সেজদায় লুটিয়ে পড়ে সে। তারপর ছুটে যায় সতীর্থ ও কোচদের কাছে। রংপুরের জিয়াদ হাসান ১১.২০ সেকেন্ডে দ্বিতীয় এবং রাজশাহীর সুমন শেখ ১১.৪০ সেকেন্ডে তৃতীয় হয়।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম