মেঘনায় বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়ায় গুলি
আশুগঞ্জে অবরোধ যানজট ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে
আশুগঞ্জ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) ও ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়ায় ড্রেজার থেকে স্থানীয়দের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। শনিবারের এ ঘটনার পর ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। আশুগঞ্জে প্রায় চার ঘণ্টার অবরোধে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শফিক ট্রেডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে কিশোরগঞ্জের ভৈরবের মেহেন্দিপুর, টুকচাঁনপুর, লুন্দিয়া এলাকার বালুমহাল ইজারা দেওয়া হলেও ইজারার নির্ধারিত এলাকার বাইরে গিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে আশুগঞ্জে চর সোনারামপুরসংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করছে। ইজারাদার কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসন থেকে ১৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকায় ইজারা এনে প্রতিদিন শতাধিক ড্রেজার দিয়ে অর্ধকোটি টাকার বালু উত্তোলন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর পারের কয়েকটি গ্রাম, ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুতের টাওয়ার, ভৈরব পাড়ের দুটি রেলসেতুসহ একটি সড়ক সেতু এখন হুমকির মুখে।
শনিবার সকালে আশুগঞ্জপ্রান্তে বালু উত্তোলনের সময় স্থানীয়রা ড্রেজারগুলোকে বাধা দিতে গেলে সেখানে থাকা দায়িত্বশীলরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা আশুগঞ্জের ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে তারা রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। মহাসড়ক অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ-সদস্য নাদিয়া পাঠান (পাপন), আশুগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী রবিউস সারোয়ার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ওবায়দুর রহমান এবং আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল আলম।
পরে সংসদ-সদস্য আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আশুগঞ্জের নদী এলাকা থেকে ড্রেজার সরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে বালু উত্তোলনে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। আন্দোলনকারীরা জানান, প্রশাসনের আশ্বাসের প্রতি আস্থা রেখে তারা আপাতত অবরোধ প্রত্যাহার করেছেন। তবে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ড্রেজার অপসারণ এবং অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে আশুগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
শনিবারের ঘটনা জানতে বালু উত্তোলনের ইজারাদার শফিকুর রহমানকে ফোন করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তার প্রতিনিধি আল-মামুন যুগান্তরকে বলেন, আমরা আশুগঞ্জ পারে বালু উত্তোলন করি না। ইজারার সীমানায় আমরা যথানিয়মে বালু উত্তোলন করছি। শতাধিক ড্রেজারে রাতের বেলায় নদীতে বালু উত্তোলনের কথা তিনি অস্বীকার করেন। এছাড়া আশুগঞ্জের ঘটনার বিষয়টি তার জানা নেই বলে জানান। আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জামাল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, বৃহস্পতিবার আমি ও ভৈরবের এসি ল্যান্ড মিলে যৌথভাবে মেঘনা নদীতে অভিযান পরিচালনা করেছি। সেদিন অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগে একটি বাল্কহেড মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছি।
