Logo
Logo
×
   

Advertisement

দ্বিতীয় সংস্করণ

মন্ত্রিপরিষদ উপকমিটির বৈঠক আহ্বান

জ্বালানি নিরাপত্তায় দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে

Advertisement

Icon

এম শাহজাহান

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

জ্বালানি সংকট সরকারের মাথাব্যথার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কয়েকদিন ধরে গ্যাস সংকট মারাÍক আকার ধারণ করায় শিল্পে ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিপর্যয় নেমে আসে। গ্যাসের জন্য ঢাকাসহ সারা দেশেই হাহাকার অবস্থা। এমন অবস্থায় সামগ্রিক অর্থনীতির স্বার্থে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এরই অংশ হিসাবে দেশে গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানোর পাশাপাশি এলএনজি আমদানির উৎস বহুমুখী করা, নতুন টার্মিনাল স্থাপন, জ্বালানি মজুত বৃদ্ধি এবং আমদানি ব্যয়ের জন্য প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে গঠিত উচ্চপর্যায়ের জ্বালানি নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রিপরিষদ উপকমিটির জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে আজ। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে একক কোনো উৎস বা স্বল্পমেয়াদি আমদানির ওপর নির্ভরশীল থাকা এখন বড় ঝুঁকি বলে মনে করছে জ্বালানি বিভাগ। ফলে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি, স্পট মার্কেট এবং বিভিন্ন দেশের সরবরাহকারী সব পথ খোলা রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এসব উদ্যোগের ফলে জ্বালানি খাতে সরকারের ব্যয় কমতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, কোনো একটি দেশ বা রুটের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো এখন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে আমদানি করা জ্বালানির মূল্য পরিশোধে বৈদেশিক মুদ্রার জোগান স্বাভাবিক রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্পট মার্কেট থেকে ব্যয়বহুল তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি অব্যাহত রাখায় ইতোমধ্যে বড় ধরনের অর্থসংকটে পড়েছে পেট্রোবাংলা। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তিতে অনিশ্চয়তার কারণে এলএনজি আমদানি ব্যয়

আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে।

এমন পরিস্থিতিতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পেট্রোবাংলার অনুকূলে জরুরি ভিত্তিতে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ভর্তুকি বা অগ্রিম বরাদ্দ দেওয়ার সুপারিশ করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। গত জুলাই মাসের শেষ ১৫ দিনে অতিরিক্ত এই অর্থের প্রয়োজন হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, চলতি অর্থবছরে শুধু এলএনজি আমদানিতেই অতিরিক্ত ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি প্রয়োজন হতে পারে।

জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে : জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা উপকমিটির জরুরি বৈঠক আজ। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এই বৈঠকে জ্বালানি নিরাপত্তায় বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে অর্থ বিভাগ। বিশেষ করে সরবরাহ পরিস্থিতি, এলএনজি আমদানির নতুন উৎস, দেশে গ্যাসের অনুসন্ধান, মজুত সক্ষমতা এবং জ্বালানি আমদানির অর্থায়নসহ সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকেও জ্বালানি আমদানির অর্থের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১ জুন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ৯ সদস্যের জ্বালানি নিরাপত্তাবিষয়ক উপকমিটি গঠন করে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে সভাপতি করে কমিটির মূল দায়িত্ব হচ্ছে-দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, এলপিজি আমদানি, ভোলা থেকে গ্যাস পরিবহণ, ভাসমান এলএনজি

টার্মিনাল এবং ল্যান্ডবেজড এলএনজি ও এলপিজি টার্মিনাল স্থাপনের বিষয় দ্রুত পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। বৈঠকে বর্তমান জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা ছাড়াও গ্যাসের ঘাটতি, শিল্প ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ, এলএনজি আমদানির সময়সূচি এবং আগামী কয়েক মাসের সম্ভাব্য চাহিদা নিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছ থেকে তথ্য নেওয়া হতে পারে।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন যুগান্তরকে বলেন, আন্তর্জাতিক সংকটের কারণে স্বল্পমেয়াদে সরকারকে অতিরিক্ত ব্যয় করতেই হবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে শুধু ভর্তুকির ওপর নির্ভর করলে সমস্যার সমাধান হবে না। তিনি বলেন, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে বড় বিনিয়োগ, গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধান জোরদার, দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি সরবরাহ চুক্তি সম্প্রসারণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বৃদ্ধি এবং শিল্পে জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি গ্যাসের অপচয় ও সিস্টেম লস কমিয়ে একটি টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

জানা গেছে, বর্তমানে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পাশাপাশি স্পট মার্কেট থেকেও নিয়মিত এলএনজি কিনছে সরকার। চলতি বছর সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির একাধিক বৈঠকে এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির প্রতিটি বৈঠকে এলএনজি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। এমনকি মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকের বাইরেও বিশেষ সভা করে এলএনজি আমদানির অনুমোদন দিতে হচ্ছে। এরপরও গ্যাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে না। বিশেষ করে শিল্পকারখানায় উৎপাদনে ধস এবং বাসাবাড়িতে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় নাগরিক জীবনে দুর্ভোগ বাড়ছে। গ্যাসের ঘাটতি কমাতে ভোলা থেকে গ্যাস পরিবহণ আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা। ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডের বাইরে পড়ে আছে। সেই গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে আনা সম্ভব হলে আমদানি করা এলএনজির ওপর কিছুটা চাপ কমবে। তাই ভোলা থেকে গ্যাস আনার অবকাঠামো, সম্ভাব্য ব্যয়, বাস্তবায়নে সময় এবং কোন পদ্ধতিতে গ্যাস পরিবহণ করা হবে এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়া হতে পারে। বর্তমানে দেশের রান্নার জ্বালানির একটি বড় অংশ এলপিজিনির্ভর হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ বিঘ্নিত হলে এর প্রভাব সরাসরি ভোক্তার ওপর পড়ে। ১

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম