বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক
বিনিয়োগ-বাণিজ্যের জট খুলতে বাংলাদেশের পাশে ইউএনডিপি
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাংলাদেশে বিনিয়োগ আকর্ষণ ও ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। একই সঙ্গে লজিস্টিকস ব্যয় কমানো, বন্দর ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানো এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এমএসএমই) সক্ষমতা উন্নয়ন এবং রপ্তানি বাড়াতেও অংশীদারত্ব জোরদার করতে চায় সংস্থাটি। রোববার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিকসের বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (এফটিএ) মাহবুবা খাতুন মিনু, ইউএনডিপির ডেপুটি রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ সোনালি দয়ারত্নে, অ্যাসিস্ট্যান্ট রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ আনোয়ারুল হক, ইকোনমিক অ্যাডভাইজার ওয়াইস প্যারি ও প্রজেক্ট ম্যানেজার মারুফ আজম উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ইউএনডিপির পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা ক্রমেই বাড়ছে। এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে স্থানীয় ব্যবসাকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি ব্যবসার পরিবেশগত ও সামাজিক মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যবসার লাইসেন্স ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। আগে কোনো কোনো অনুমোদন পেতে প্রায় তিন মাস সময় লাগলেও এখন তা দুই সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। ভবিষ্যতে এসব প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর করা হবে। বৈঠকে বাংলাদেশের তুলনামূলক বেশি লজিস্টিকস ব্যয় কমানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বন্দর ও টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানের ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পণ্য উঠানো-নামানোর সময় ও ব্যয় কমিয়ে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে। তাই পণ্য উৎপাদন খরচের পাশাপাশি পরিবহণ, বন্দর ও কাস্টমসের সময়-ব্যয় কমানো বাংলাদেশের রফতানি সক্ষমতা ধরে রাখার অন্যতম শর্ত। ইউএনডিপিও টেকসই সরবরাহ শৃঙ্খল ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করছে।
দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এমএসএমই খাতের অর্থায়ন ঘাটতি চিহ্নিত করা, উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ এবং ব্যবসায়িক দক্ষতা বাড়াতে ইউএনডিপির সহযোগিতা চান বাণিজ্যমন্ত্রী। জবাবে স্টিফেন রড্রিকস বলেন, ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি রফতানিমুখী করে তোলার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে। এর ফলে স্থানীয় ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রেতা, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হতে পারে। কাস্টমস প্রক্রিয়ায় অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব কমানো, বাণিজ্য সহজীকরণ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা ও দর-কষাকষিতে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াতেও সহযোগিতার আগ্রহ দেখিয়েছে ইউএনডিপি। এ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ দেওয়া হবে। স্টিফেন রড্রিকস বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অর্থনীতির বহুমুখীকরণে সরকারের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইউএনডিপির সহায়তা পুনর্বিন্যাস করা হবে।
আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরাও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
