Logo
Logo
×
   

দ্বিতীয় সংস্করণ

বড় ধরনের প্রণোদনা ঘোষণা

সরকার সাড়ে ১০ টাকা দরে সৌর বিদ্যুৎ কিনবে

বসাতে হবে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে, কার্যকর ২০৩০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত

Icon

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সরকার সাড়ে ১০ টাকা দরে সৌর বিদ্যুৎ কিনবে

ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎসাহিত করতে সরকার বড় ধরনের প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। উৎপাদন ব্যয়ের ওপর ২০ শতাংশ মুনাফা ও ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম যুক্ত করে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে ১০ টাকা। তবে ব্যাটারিসহ এই সৌর প্যানেল বসাতে হবে আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে। যাতে সরকার সন্ধ্যাকালীন পিক আওয়ারেও সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে। সরকারের এ ঘোষণা কার্যকর হবে মঙ্গলবার ১ সেপ্টেম্বর থেকেই। ২০৩০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই দামে সরকারের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করা যাবে। মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। ওই বিভাগের যুগ্ম সচিব খালেকুজ্জামান যুগান্তরকে বলেছেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করতে এই প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ছাদভিত্তিক সোলার থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের টার্গেট রয়েছে সরকারের।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এখন বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৯৫০ মেগাওয়াটের মতো সৌরবিদ্যুৎ ক্রয় করছে। তবে এই সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুৎ মজুত রাখার কোনো ব্যাটারি নেই বা রাখার বাধ্যবাধকতা নেই। সরকারের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বর্তমান বাজারদর এবং বিভিন্ন দরপত্রের মূল্য বিবেচনায় নিয়ে ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় প্রতি ইউনিট সর্বোচ্চ ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ প্রণোদনার অংশ হিসাবে এই উৎপাদন ব্যয়ের ওপর ২০ শতাংশ মুনাফা ও ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম যুক্ত করে প্রতি ইউনিটের মূল্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা ধার্য করা হয়েছে। এখন কোনো গ্রাহক এই দামে সরকারের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবেন। নেট মিটারিং নির্দেশিকা-২০২৫ অনুযায়ী যেসব গ্রাহক আগামী বছর ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করে নিজের ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে। এক্ষেত্রে সরকার ২০৩০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ১০ দশমিক ৫০ টাকা নির্ধারণ করেছে।

বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলো গ্রাহকদের তথ্য সংরক্ষণ, জাতীয় গ্রিডে সরবরাহকৃত বিদ্যুতের পরিমাণ নিরূপণ এবং প্রণোদনাসহ বিদ্যুতের মূল্য সংক্রান্ত তথ্যাদি সংরক্ষণ করবে। প্রণোদনার অর্থ নগদে নয় গ্রাহকদের ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে প্রেরণ করা হবে। ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তারিখের পর স্থাপিত সিস্টেমের ক্ষেত্রে এই প্রণোদনা প্রযোজ্য হবে না। সৌরভিত্তিক সিস্টেম স্থাপনে ব্যবহৃত সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, ইনভার্টার, মিটারসহ সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এবং টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত কারিগরি মানদণ্ড অনুসরণ করতে হবে। বিদ্যুৎ বিভাগ ইতোমধ্যেই স্থাপিত ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার থেকে এ সংক্রান্ত নীতিগত সহায়তা প্রদান করবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোর আওতাধীন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কার্যালয় থেকেও এ সহায়তা মিলবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দেশের বিদ্যুতের এই সংকটকালীন সরকারের এ সিদ্ধান্ত বেশ গুরুত্বপূর্ণ। দুই মাস আগে সরকার সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে একটি কৌশলপত্র ঘোষণা করেছে। সেই ঘোষণা অনুযায়ী যে কেউ চাইলে ভবনের ছাদে সোলার বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে সরকার সেই বিদ্যুৎ কিনে নেবে। তবে এক্ষেত্রে সরকার এখন বলছে, প্যানেলে ব্যাটারি সিস্টেম থাকতে হবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম