Logo
Logo
×
   

Advertisement

দ্বিতীয় সংস্করণ

সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ না দেওয়ায় বিতর্ক

সংসদ থেকে বেরিয়ে গেল বিরোধী দল

Advertisement

Icon

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত আরও ১০টি সংসদীয় কমিটি গঠন করেছে জাতীয় সংসদ। এবারও বিরোধী দল থেকে কোনো সভাপতি দেওয়া হয়নি। এটি নিয়ে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে বুধবার রাতে আবারও তুমুল বিতর্ক হয়েছে। একপর্যায়ে বিরোধী দলের সদস্যরা সংসদ থেকে বেরিয়ে যান। তবে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়াকআউট করার ঘোষণা দেননি। অবশ্য এনসিপির হাসনাত আবদুল্লাহ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাইয়েদ উদ্দিন আহমেদ হানজালা সংসদ কক্ষে অবস্থান করেন।

এ নিয়ে ২৫টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হলো। প্রতিটি কমিটিতে বিরোধী দলের সদস্য রাখা হয়েছে। তবে একটি ছাড়া কোনো কমিটিতে সভাপতির পদ বিরোধী দলকে দেওয়া হয়নি। গত রোববারও সংসদে তুমুল বিতর্ক হয়।

গতকাল যে ১০টি কমিটি গঠন করা হয়, সেগুলোর মধ্যে কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি করা হয়েছে বিএনপির গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটির সভাপতি হয়েছেন শিক্ষক নেতা সেলিম ভূঁইয়া। এছাড়া মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটির সভাপতি সেলিমা রহমান; সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটির সভাপতি হুইপ রকিবুল ইসলাম, বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটির সভাপতি কলিম উদ্দিন আহমেদ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটির সভাপতি আমানউল্লাহ আমান, পরিবেশ মন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটির সভাপতি হুইপ জি কে গউছ, ভূমি মন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটির সভাপতি নাসের রহমান এবং ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি হয়েছেন রফিকুল ইসলাম জামাল। জাতীয় সংসদের ৫০টি সংসদীয় কমিটি রয়েছে। এর মধ্যে ৩৯টি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি।

গতকাল সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ মো. আব্দুল্লাহ মো. তাহের পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়ান। তিনি বলেন, ‘সরকারি দলের সঙ্গে আমরা বৈঠক করেছি। সেই বৈঠকে ২৬ শতাংশ কমিটির সভাপতি পদ বিরোধী দলকে দেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য হয়। সভাপতির পদেও আমরা ২৬ শতাংশ পাব এটাই স্বাভাবিক। একটা সময় সরকারি দলের পক্ষ থেকে আমাদের ১০টি সভাপতির পদ দেওয়া হবে বলাও হয়েছিল। আমাদের কাছ থেকে তালিকা নেওয়া হয়েছিল। আমরা সেই তালিকা জমাও দিয়েছি।’

বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে সরকারি দল টু-থার্ড মেজরিটির কারণে কিছুটা বেপরোয়া হয়ে যাচ্ছে। তারা নিজেরাই যেভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, সেটাই প্রয়োগ করছে। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে যখনই কোনো কথা বলা হয়, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা জবাব না দিলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাঁড়িয়ে যান।’

বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, ‘এটা খুবই ইনডিসেন্ট (অভদ্রতামূলক) যে, সরকারি দল যখন বলে যে আপনারা এই কমিটিতে আসেন তাইলে আপনাদের এটা দেব। আমরা তো বাচ্চা ছেলে না যে, আমাদের ললিপপ দেখায়া দেখায়া আপনি নিয়ে যাবেন; আর একটা জায়গায় গিয়া আপনি আমাদের অন্যভাবে ডিল করবেন।’ তিনি বলেন, ‘আমরা সভাপতির পদ সরকারের কাছে চাইছি। সরকার এ অধিকার ইগনোর করছে।’

ডা. তাহের বলেন, ‘ওনারা তো এটা ডিসাইড করতে পারেন না-শতভাগ সভাপতি ওনারা নেবেন। এটা কোথায় লেখা আছে? এটা কি সংবিধানে আছে? তাহলে দ্য উইল অব দ্য মেজরিটি পার্টি হ্যাজ বিকাম দ্য ল, দ্য ডিসিশন অব দিস পার্লামেন্ট, এটাই তো স্বৈরাচার।’ তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচার অর্থ আমি যা চাই এটাই আইন, এটাই আমার আচরণ হবে। আমরা এই পার্লামেন্টকে এভাবে দেখতে চাই না। সুতরাং আমি মনে করি, সরকারি দল দেশের স্বার্থে গণতন্ত্রের স্বার্থে পার্লামেন্ট ও পার্লামেন্টের বাইরে বৈষম্য সৃষ্টি করবে না। কারণ আমরা আরেকটা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চাচ্ছি না।’ একপর্যায়ে ভবিষ্যতে কমিটি গঠন প্রক্রিয়ায় না থাকার হুমকি দেন ডা. তাহের।

পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বক্তব্য দিতে দাঁড়ান। তখন বিরোধী দলের সদস্যরা সংসদ কক্ষ ত্যাগ করতে থাকেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘উপনেতা বক্তব্য দিয়েছেন, তিনি এখন জবাবটা শুনতে চাচ্ছেন না। সম্ভবত ওয়াকআউট নয়, তবে ওয়াকআউট। যাই হোক ওই আর কী-তাল পড়িয়া ধপ করিল না, পড়িয়া ধপ করিল।’ তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলের সদস্যদের আসনের আনুপাতিক হারে সভাপতি দেওয়া যাবে না, এটা কোথাও নেই। আবার বাধ্যবাধকতাও নেই। অতীতের ইতিহাসেও নেই।’ তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলকে ১০টি সভাপতি দেওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আলোচনা হয়নি।’

স্বৈরাচার বিষয়ে বিরোধী দলের বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘২০০১ সালের সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য বেগম খালেদা জিয়ার ছিল। বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বিলুপ্ত করেনি। বিএনপি যখন দুই-তৃতীয়াংশ মেজরিটি থাকে এবং সরকার গঠন করে তখন গণতন্ত্রের পদ্ধতিকে সুদৃঢ় করে।’ তিনি বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ যেটা রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, তারাও স্বাক্ষর করেছেন, আমরাও করেছি। সেখানে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছি, সংসদীয় চর্চায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটিতে আসনের সংখ্যার অনুপাতে বিরোধীদলীয় সদস্যরা সভাপতিত্ব পাবেন।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে, সংবিধান সংশোধন হলে কমিটিগুলো তখন পুনর্গঠন করা হবে। আনুপাতিক হারে বিরোধী দল সভাপতি পাবে। কিন্তু জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য বিরোধী দল কোনো সহযোগিতায় আসছে না।’

বিরোধী দলের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা বাইরে রাজনীতি না করে সংসদে আসুন। এখানেই কথা বলি। যদি সংবিধান সংশোধনীর জায়গায় আপনারা যদি সংস্কার বলতে আপনাদের আরাম লাগে, তাহলে তাই বলবেন। কিন্তু সংশোধনী হিসাবে তো সংসদীয় ভাষায় এখানে অ্যামেন্ডমেন্ট গৃহীত হতে হবে। পরে হাসনাত আবদুল্লাহ সংসদীয় কমিটি সক্রিয় করার দাবি জানান।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম