বেনজীরকে ফেরাতে বিরোধী দলের প্রস্তাব সংসদে পাশ
Advertisement
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার বিষয়ে বিরোধী দলের আনা প্রস্তাব জাতীয় সংসদে পাশ হয়েছে। মঙ্গলবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে প্রায় দুই ঘণ্টা আলোচনা শেষে প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে গৃহীত হয়।
কার্যপ্রণালি বিধির ১৪৭ ধারা অনুযায়ী প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম। এতে বেনজীর আহমেদের বিদেশে অবস্থান, জামিনে মুক্তি এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ সংসদকে জানানোর দাবি করা হয়।
আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বেনজীর আহমেদসহ বিদেশে অবস্থানরত পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখাবে না। বেনজীরের বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত করা, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া, পাসপোর্ট জালিয়াতির অভিযোগ যাচাই এবং দেশে-বিদেশে অবৈধ সম্পদ শনাক্ত ও জব্দে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
এই মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে কোনো দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই। দেশটির অভ্যন্তরীণ আইন ও পারস্পরিক সহযোগিতার নীতির ভিত্তিতে প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ইউএইর চাহিদা অনুযায়ী অতিরিক্ত নথিপত্র ৪ আগস্ট পাঠানো হয়েছে। পরে আরও আইনি ব্যাখ্যা চাওয়া হলে ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য ইউএইতে একটি ল’ ফার্ম নিয়োগ করা হয়েছে।
বেনজীর আহমেদের জামিন পাওয়ার খবর প্রকাশের পর তার অবস্থান ও চলাচল সম্পর্কে সতর্কতা বজায় রাখতে এনসিবি আবুধাবিকে অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। গত ৩১ আগস্ট বেনজীরের বর্তমান অবস্থান জানতে ইন্টারপোলের নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থায় আনুষ্ঠানিক তথ্য চাওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধী যত বড়ই হোক, তাকে বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আদালতের রায়ের ভিত্তিতেই শাস্তি দিতে হবে। এ প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ায় ধৈর্য ধরতে হবে এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, বেনজীর আহমেদ ইউএই ছেড়ে সেন্ট লুসিয়ায় চলে গেছেন-এমন খবরের বিষয়ে ইউএইর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা এ ধরনের ঘটনা সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়েছেন। এর অর্থ হলো বেনজীর এখনো আমিরাতেই রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ইউএইর সঙ্গে বাংলাদেশের কার্যকর দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই। তবে সরকার কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করবে। স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয় সমন্বয় করে কাজ করছে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে।
এর আগে বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের পলাতক বেনজীরসহ অন্যদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে একটি বিশেষ সেল গঠনের প্রস্তাব দেন।
এনসিপির সংসদ-সদস্য আখতার হোসেন বলেন, গ্রেফতার হওয়ার পর বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার ঘোষণা শুনে আমরা আশাবাদী হয়েছিলাম। কিন্তু পরবর্তী পরিস্থিতিতে সেই আশাবাদে ভাটা পড়েছে। শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের অভিযুক্তদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও সরকারের পদক্ষেপ জানতে চান তিনি।
আলোচনায় নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান, বিএনপির সংসদ-সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন, শহিদুল ইসলাম বাবুল, জামায়াতে ইসলামীর সংসদ-সদস্য রোকেয়া বেগম, মারজিয়া বেগম ও তাসমিয়া প্রধানসহ অন্যরা অংশ নেন। পরে বিরোধী দলের প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে সংসদে পাশ হয়।
