বিটিসিএল ভবনে চুরি করতে গিয়ে যুবক আটক মারধরে মৃত্যু
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার সাতরাস্তার পাশে বিটিসিএল (বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড) কার্যালয়ে চুরি করতে গিয়ে মারধরে অজ্ঞাত যুবকের (২৫) মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, বিটিসিএল কার্যালয়ে দায়িত্বরত আনসার সদস্য ও বিটিসিএলের স্টাফদের মারধরে মারা গেছে ওই যুবক। তবে আনসারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে-যুবক হত্যাকাণ্ডে আনসার সদস্য জড়িত থাকার খবর ভিত্তিহীন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ওসি মো. মাহবুবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, গণপিটুনি দেওয়ার সময় সেখানে আনসার সদস্য ও বিটিসিএলের কর্মচারী ছিল। কার কী ভূমিকা ছিল, তা তদন্ত চলছে। এ বিষয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত বলা যাবে।
এক প্রশ্নের উত্তরে ওসি বলেন, ঘটনাস্থলে তারা (আনসার ও বিটিসিএলের কর্মচারী) ছাড়া আর কারও তো যাওয়ার সুযোগ নেই।
সূত্র জানায়, গুরুতর আহত অবস্থায় ওই যুবককে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ৩টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসা বিটিসিএলের অফিস সহকারী মো. সাইফুল ও কেয়ারটেকার শওকত আলী জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার সাতরাস্তা ভূমি জরিপ অফিসের পাশে বিটিসিএল অফিসের দেয়াল টপকে চুরি করতে তিন যুবক ঢুকে পড়ে। পরবর্তীতে অফিসের দায়িত্বরত আনসার সদস্য ও অফিস স্টাফদের কাছে একজন আটক হয় এবং বাকি দুজন পালিয়ে যায়। আটক যুবক এক আনসার সদস্যের হাতে আঘাত করে পালানোর চেষ্টা করে। পরে বিটিসিএলের অফিস স্টাফ ও আনসার সদস্যরা ওই যুবকের হাত বেঁধে মারধর করেন। এতে সে গুরুতর আহত হয়।
ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, লাশটি হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সহকারী পরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. নাজমুস সাকিব স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে, তেজগাঁওয়ের বিটিসিএলে যুবক হত্যাকাণ্ডে অঙ্গীভূত আনসার সদস্য জড়িত থাকার খবর ভিত্তিহীন। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে-মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ের বিটিসিএল কার্যালয়ে চোর সন্দেহে এক যুবককে আটক করে আনসার সদস্যরা পিটিয়ে হত্যা করেছে, এমন অভিযোগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদটি বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর দৃষ্টিগোচর হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদে আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা বাহিনী কর্তৃপক্ষের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ভিত্তিহীন ও বাস্তব ঘটনার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, মঙ্গলবার সকালে তেজগাঁও টিঅ্যান্ডটি তার ভান্ডার এলাকায় কয়েকজন যুবক অনুপ্রবেশ করে। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত অঙ্গীভূত আনসার সদস্য শাহ জামাল এক যুবককে চুরি করতে দেখেন এবং তাকে ধাওয়া করেন। পুরোনো টিনের চালের ওপর দিয়ে দৌড়ানোর একপর্যায়ে চোর চাল ভেঙে নিচে পড়ে যায়। পরবর্তীতে তাকে উদ্ধার করে বিটিসিএল সংস্থার স্টাফ মো. শওকত হোসেন ওই যুবককে আটক করেন। সংস্থার টেলিফোনিক নির্দেশে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা তাকে আটক করতে সহযোগিতা করেন। ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনকারী আনসার সদস্যদের মধ্যে পিসি নুরুল ইসলাম আটক চোরকে বিটিসিএল কর্তৃপক্ষের পিও সুলতান মাহমুদ এবং ইলেকট্রিশিয়ান সাইফুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করেন। এরপর আনসার সদস্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে নিজ নিজ দায়িত্বে ফিরে যান।
প্রকাশিত সংবাদে আনসার সদস্যরা আটক যুবককে ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে মারধর করেছেন এবং এর ফলে তার মৃত্যু হয়েছে বলে যে তথ্য প্রচার করা হয়েছে, তার সঙ্গে প্রকৃত ঘটনার কোনো সামঞ্জস্য নেই। বিশেষ করে যুবককে আনসার সদস্যরা ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করেছেন বা মারধর করেছেন, এমন তথ্যের কোনো ভিত্তি নেই।
