ক্রয়সংক্রান্ত বৈঠকে ভার্চুয়ালি অংশ নেবেন অর্থমন্ত্রী
হরমুজ সংকটে বিকল্প পথে সার আমদানি
ইউএইর চুক্তিতে বড় পরিবর্তন * মিসরের দুই বন্দর ব্যবহারের সুযোগ * রাশিয়া থেকে আসছে ৮০ হাজার টন
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের অনিশ্চয়তায় দেশের সার আমদানিতে বিকল্প পথের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে সার আমদানির চুক্তিতে বড় পরিবর্তন এনে সরবরাহকারীকে মিসরের ডেমিয়াতা ও আদাবিয়া বন্দর ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে রাশিয়া থেকে নতুন করে ৮০ হাজার টন ইউরিয়া আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জাহাজ থেকে সার খালাসের লক্ষ্যমাত্রা ও ডেমারেজের হার কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
সার সরবরাহে কোনো একটি নৌপথের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আমদানির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ সংক্রান্ত দুটি পৃথক প্রস্তাব আজ অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সফরে রয়েছেন। সেখান থেকেই তিনি বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টায় সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ও অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন।
ইউএইর চুক্তিতে বড় পরিবর্তন : শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) সূত্র জানায়, ইউএইর ফার্টিগ্লোব ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের সঙ্গে সার আমদানিতে এতদিন মূলত এফওবি (ফ্রি অন বোর্ড) ভিত্তিতে চুক্তি করা হতো। সংশোধিত চুক্তিতে এর সঙ্গে সিএফআর (কস্ট অ্যান্ড ফ্রেইট) শর্ত যুক্ত করা হচ্ছে। ফলে সরবরাহকারী নিজ দায়িত্বে জাহাজ ভাড়া করে বাংলাদেশ পর্যন্ত সার পৌঁছে দিতে পারবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইউএইর পাশাপাশি মিসরের ডেমিয়াতা ও আদাবিয়া বন্দর ব্যবহার করে সার পাঠানোর সুযোগ রাখা হচ্ছে। হরমুজ প্রণালি ঘিরে নৌপরিবহণে জটিলতা তৈরি হলে বিকল্প বন্দর ও নৌপথ ব্যবহার করা যাবে। ফলে একটি নির্দিষ্ট রুটে সমস্যা দেখা দিলেও সার আমদানি পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি কমবে।
সাম্প্রতিক সময়ে সরকারও একাধিক উৎস থেকে সার আমদানির অনুমোদন দিচ্ছে। ১৬ সেপ্টেম্বর সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি রাশিয়া, সৌদি আরব, মরক্কোসহ বিভিন্ন উৎস থেকে মোট ১০ লাখ ৭৫ হাজার টন সার আমদানির অনুমোদন দেয়। সংশোধিত প্রস্তাবে জাহাজ থেকে সার খালাসের দৈনিক লক্ষ্যমাত্রাও কমানো হচ্ছে। বিদ্যমান চুক্তিতে প্রতিদিন ৫ হাজার টন সার খালাসের শর্ত রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ডেমারেজ ধরা হয়েছে প্রতিদিন ৪০ হাজার মার্কিন ডলার। নতুন প্রস্তাবে দৈনিক খালাস কমিয়ে ৩ হাজার টন এবং ডেমারেজ ২৫ হাজার ডলার করার কথা বলা হয়েছে।
রাশিয়া থেকেও ৮০ হাজার টন ইউরিয়া : সরবরাহ বহুমুখী করতে রাশিয়া থেকে ৮০ হাজার টন প্রিল্ড ইউরিয়া আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য রাশিয়ার ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন প্রডিনটর্গ থেকে এ সার আমদানির প্রস্তাব করা হয়েছে। ডেল্টা স্টার ট্রেডিং ও এক্সেট্রেডের মাধ্যমে প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।
এর আগে ১৬ সেপ্টেম্বর প্রডিনটর্গ থেকে ৩৫ হাজার টন এমওপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। এ ছাড়া ইউএইর ফার্টিগ্লোবের সঙ্গেও সার আমদানির চুক্তির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। কৃষি মৌসুম সামনে রেখে পর্যাপ্ত সার মজুত রাখা সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক নৌপথে অস্থিরতা ও পরিবহণ ব্যয় বৃদ্ধির মধ্যে তাই শুধু সার কেনার চুক্তি নয়, নির্ধারিত সময়ে তা দেশে পৌঁছানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
