বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের ভারপ্রাপ্ত সচিব
হত্যা মামলার আসামি হয়েও ধরাছোঁয়ার বাইরে সাইফুল
গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ * অনুষদে ‘একক রাজত্ব’ বন্ধ চান সংশ্লিষ্টরা
Advertisement
সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে হত্যা মামলার আসামি বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের ভারপ্রাপ্ত সচিব ডা. মো. সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সুপারিশে পদোন্নতি এবং নীতিনির্ধারণী পর্ষদের সিদ্ধান্তকে অগ্রাহ্য করে একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তার পদোন্নতির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মামলা গড়িয়েছে হাইকোর্ট পর্যন্ত। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে পদোন্নতি প্রক্রিয়া স্থগিতের অনুরোধও জানানো হয়। এরপরও একজন বিতর্কিত কর্মকর্তা কীভাবে স্পর্শকাতর প্রশাসনিক ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে বহাল রয়েছেন, তা নিয়ে চিকিৎসা অঙ্গনে চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। যুগান্তরের কাছে আসা নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি হত্যা মামলায় ডা. সাইফুল ইসলামকে আসামি করা হয়েছে। অনুষদের প্রশাসনিক ও পরীক্ষা কার্যক্রমেও ডা. সাইফুলের বিরুদ্ধে ‘একক আধিপত্য’ বিস্তারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পর পরীক্ষা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য গভর্নিং বডির ১৯০তম সভায় সিদ্ধান্ত হয় অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে একজন মেডিকেল অফিসারকে প্রেষণে আনার। অভিযোগ রয়েছে, অনুষদের পরীক্ষা ও ফলাফল তৈরির ওপর নিজের একক কর্তৃত্ব বজায় রাখতেই ডা. সাইফুল সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেননি। পরবর্তী সময়ে গভর্নিং বডির ১৯১তম সভাতে একই সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করা হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি।
নিয়ম অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে সুবিধাপ্রাপ্তির জন্য বাহ্যিক রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সুপারিশ নেওয়া নিষিদ্ধ। কিন্তু ডা. সাইফুল তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও প্রভাবশালী এমপির তোষামোদমূলক চিঠি ব্যবহার করে পদোন্নতি নেন। ২০১৩ সালের একটি সুপারিশপত্রে তাকে ‘আওয়ামী পরিবারের সন্তান’ এবং ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক’ হিসাবে উল্লেখ করে সুবিধা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। এ অনিয়মের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হলে আদালত ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে সচিব পদে তার পদোন্নতি-সংক্রান্ত কার্যক্রম স্থগিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। ফলে তার পদমর্যাদার বিষয়টি এখন আদালতে বিচারাধীন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ডা. সাইফুলের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, নারী সহকর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণ, অর্থ আত্মসাৎ এবং কেনাকাটায় অনিয়মের লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন অনুষদেরই ১১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক তদন্তে বেশ কিছু অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে, যা নিয়ে বর্তমানে উচ্চপর্যায়ে শুনানি ও প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে ডা. মো. সাইফুল ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি সব অভিযোগই অস্বীকার করেন। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একটি স্বার্থান্বেষী মহল-যাদের নিজেদের বিরুদ্ধেই দুদক ও পিবিআইতে মামলা চলছে-তারা নিজেদের অপরাধ ঢাকতে আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করছে।’ রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি মূলত ড্যাব-এর (বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন) আজীবন সদস্য এবং বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা গভর্নিং বডির সিদ্ধান্তের পরপরই মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। এটি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় প্রশাসনিক কিছু আনুষ্ঠানিকতা রয়েছে। সরকার চাইলেই তো কাউকে জোর করে প্রেষণে পাঠাতে পারে না; কেউ আসতে না চাইলে সময় লাগাই স্বাভাবিক।’

