Logo
Logo
×
   

Advertisement

দ্বিতীয় সংস্করণ

সিআইডির মানি লন্ডারিং মামলা

হাদি হত্যার আসামি ফয়সালের অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেন

অনুসন্ধানে ১ কোটি ৯৩ লাখ টাকার বেশি আত্মসাতের প্রমাণ * ভুয়া টেন্ডার ও যৌথ উদ্যোগের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিত * ফয়সালের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ৫৩ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

Advertisement

আসাদুল্লা লায়ন

আসাদুল্লা লায়ন

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

হাদি হত্যার আসামি ফয়সালের অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেন

Advertisement

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেনের অনুসন্ধান শেষে মানি লন্ডারিং আইনে এই মামলা করা হয়। এতে ঠিকাদারি ব্যবসার আড়ালে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভুয়া টেন্ডার ও যৌথ উদ্যোগের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণ মিলেছে। মামলায় ফয়সাল ছাড়াও তার স্ত্রী শাহেদা পারভীন সামিয়াকে আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, ফয়সাল ১ কোটি ৯৩ লাখ ১ হাজার ৫০০ টাকা আত্মসাৎ, স্থানান্তর ও রূপান্তর করেছেন। এছাড়া আদালতের আদেশে তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ৫৩টি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর আদাবর থানায় এই মামলা করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর। তিনি জানান, সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল লতিফ বাদী হয়ে এই মামলা করেন। তবে এ বিষয়ে জানতে সিআইডির সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তাকে ফোন করে সাড়া পাওয়া যায়নি।

মামলার এজাহারে বলা হয়, অভিযুক্ত ফয়সাল একজন পেশাদার প্রতারক। তিনি ঠিকাদারি ব্যবসার আড়ালে ভুয়া টেন্ডার, যৌথ ব্যবসার প্রলোভন এবং বাকিতে মালামাল ক্রয় করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ফয়সাল সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাল্টিপল ট্যুরিস্ট ভিসার অধিকারী। এনসিবি আবুধাবি সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, তিনি ২০২৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি দুবাই থেকে দেশে আসেন। অপরাধলব্ধ আয় অবৈধ উপায়ে পাচার করে দুবাইয়ে বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়া জালিয়াতির অর্থ গোপন করতে স্ত্রী শাহেদার এনআরবিসি ব্যাংক সেনপাড়া শাখার হিসাবে বারবার টাকা স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে গত বছরের ৪ নভেম্বর ৬২ লাখ টাকা নগদ জমা করে এফডিআর করা হয়। সিআইডির অনুসন্ধানে জালিয়াতি ও মানি লন্ডারিংয়ের তথ্যপ্রমাণ মেলায় ঢাকার সিনিয়র বিশেষ জজ আদালত তার স্বার্থসংশ্লিষ্টদের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে ৫৩টি হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দেন।

অনুসন্ধানের বরাতে বলা হয়, অপরাধলব্ধ আয় গোপন ও বৈধ করার উদ্দেশ্যে আসামিরা বিভিন্ন ব্যাংকে জালিয়াতিপূর্ণ একাধিক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেছেন।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন এলাকায় ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। এ ঘটনায় পল্টন থানায় করা মামলায় ফয়সালকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়েছে। মামলার তদন্তে তার ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে বড় অঙ্কের সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্যও উঠে আসে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সিআইডি ফয়সাল ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হিসাবে ১২৭ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছিল। এরই মধ্যে ফয়সাল ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে বনগাঁ সীমান্ত এলাকা থেকে ৮ মার্চ গ্রেফতার করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ)। এরপর থেকে দুজন দেশটির কারাগারে আছেন।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম