রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা
সংস্কারকাজ শেষের পথে সেবা শুরু পুরোদমে
Advertisement
মিরপুর (ঢাকা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা করে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরে শুরু হওয়া ভবন সংস্কারকাজ শেষের পথে। রোববার থেকে পুরোদমে ভবনের ভেতরে শুরু হয়েছে স্বাস্থ্যসেবা। কয়েকদিনের মধ্যেই শেষ হবে অবশিষ্ট সংস্কারকাজ। এদিকে বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগের পর গতকাল সকাল থেকে চালু হয়েছে শৌচাগার। দিনভর দুটি ভবনে চলেছে চিকিৎসাসেবা।
জানা যায়, গতকাল সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত শিশু ও মায়েরাসহ চিকিৎসা নিয়েছেন ১১০ জন। নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পেরে উচ্ছ্বসিত স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরাসহ সেবাগ্রাহকরা। রাড্ডা ভাঙচুরের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২০ জন গ্রেফতার হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত নতুন করে কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। জড়িতদের গ্রেফতারে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে থানা পুলিশ ও গোয়েন্দারা। রোববার সরেজমিন দেখা গেছে, সংস্কার কাজ প্রায় শেষের পথে। এতে পুরোপুরি চিকিৎসাসেবা দিতে শুরু করেছে সেন্টারটি। গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে রাড্ডা সেন্টারটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। হামলার পর প্রথমে ফটকের বাইরে ত্রিপল টাঙিয়ে ও পরে ভাঙাকক্ষে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হলেও গতকাল সকাল থেকে মূল ভবনের দুটি কক্ষে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। গতকাল বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগের পাশাপাশি শৌচাগারও চালু করা হয়। সকাল থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত প্রায় ১১০ জনকে টিকাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়েছে। সরেজমিন দেখা যায়, ফটকের ভেতর মূল ভবনের দুটি কক্ষ পরিপাটি করে সাজানো হয়েছে। সেখানে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। ভেতরে একটি কক্ষে টিকাদান ও আরেকটি কক্ষে মায়েদের বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি প্রাণ ফিরে পাওয়ায় স্বাস্থ্যকর্মীরাসহ সেখানে আসা রোগী ও স্বজনের মধ্যে খুশি দেখা গেছে। ফিরে যাওয়ার সময় অনেককেই সন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায়।
মিরপুর দিয়াবাড়ী থেকে ৭ বছর বয়সি ছেলেকে টাইফয়েডের টিকা দিতে আসা মা জান্নাত বলেন, রাড্ডা গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর ছেলের টিকার খোঁজ নিতে এসে দাঁড়াবারও জায়গা পাইনি। আজ (রোববার) এসে দেখি রাড্ডা আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে। ভেতরের পরিবেশ অনেক বদলে গেছে। বসার জায়গা ও অপেক্ষার কক্ষ এখন অনেক বড় ও গোছালো। প্রতিষ্ঠানটির স্বাস্থ্যকর্মী বিউটি বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানটি পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। সবার প্রচেষ্টায় রাড্ডা চিকিৎসাসেবায় আরও এগিয়ে যাবে। ভবনের অন্যান্য কক্ষগুলোতে বৈদ্যুতিক পাখা, এসির লাইন ও লাইট লাগানো হয়েছে।
রং করা হয়েছে বেশিরভাগ কক্ষে। বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ দেওয়া হয়েছে। পেছনের নিরাপত্তা দেওয়ালের কাজও প্রায় শেষ। টয়লেট দুটির মধ্যে একটি চালু হয়েছে। অন্যটির কাজ প্রায় শেষের পথে।
রাড্ডার মেডিকেল অফিসার শাহনাজ ইসলামী বলেন, আজ (রোববার) সকাল থেকে সেবাপ্রার্থীর চাপ ছিল বেশি। শিশুদের পাশাপাশি মায়েদেরও টিকা দেওয়া হচ্ছে। গর্ভবতী নারী রোগীও ছিল অনেক। বিকাল পর্যন্ত শতাধিক রোগীকে সেবা দেওয়া হয়েছে।
রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার বলেন, সংস্কারকাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। অল্প কিছু কাজ বাকি রয়েছে। রোববার মূল ভবনে টিকাসহ অন্যান্য কার্যক্রম চলেছে।
