‘দখল, দূষণের বিরুদ্ধে কটিয়াদী স্বজনদের অন্যরকম নৌভ্রমণ
পাড়ি দিলেন ১৫৫ কিলোমিটার নদীপথ
Advertisement
ফজলুল হক জোয়ারদার আলমগীর
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
‘দখল, দূষণমুক্ত ও নাব্য নদী এবং বাধাহীন সুস্থ স্বাংস্কৃতিকচর্চা চাই’ স্লোগান নিয়ে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার চার স্বজন এক বিশেষ নৌভ্রমণ সম্পন্ন করেন। হস্তচালিত ডিঙি নৌকা দিয়ে তাদের ৬ দিনের ‘কটিয়াদী টু কুমিল্লা’ ভ্রমণ অনেকের নজর কাড়ে। উত্তাল ঢেউ, স্রোত ও প্রচণ্ড বেগে আসা বাতাসের সঙ্গে লড়াই করে মোট ১৫৫ কিলোমিটার নদীপথ ভ্রমণ করেন তারা।
যুগান্তর স্বজন সমাবেশ কটিয়াদী উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডিপ্লোমা প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে তার সঙ্গে ভ্রমণে অংশগ্রহণকারীরা ছিলেন স্বজন আব্দুল্লাহ আল মামুন, স্বজন মো. সোহাগ মিয়া ও স্বজন জোবায়ের হোসেন।
আড়িয়ালখাঁ নদের কটিয়াদী অংশ থেকে ২৬ আগস্ট হস্তচালিত এ নৌকাভ্রমণ উদ্বোধন করেন দৈনিক যুগান্তরের কটিয়াদী উপজেলা প্রতিনিধি ও স্বজন সমাবেশ কটিয়াদী উপজেলা শাখার প্রধান পৃষ্ঠপোষক অধ্যক্ষ ফজলুল হক জোয়ারদার আলমগীর। এসময় উপস্থিত ছিলেন স্বজন উপদেষ্টা লক্ষ্মীপুর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের প্রভাষক মো. আবু সাঈদ, স্বজনের কটিয়াদী উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি প্রভাষক মো. সাইফুল ইসলাম, সমাজসেবক ফজলুল করিম আকন্দ কাজল, মো. সানি, তামিম আকন্দ জয়, আব্দুর রাহিম আকন্দ প্রমুখ।
নৌকাভ্রমণের প্রথম দিন কটিয়াদী থেকে যাত্রা শুরু করে রতনপুর ঘাট, উত্তর বাখরনগর হয়ে রায়পুরাতে ক্যাম্প স্থাপন করে রাতযাপন করেন চার স্বজন। পথিমধ্যে বেলাব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাইলাতুল হোসেন স্বজনদের নৌকা পরিদর্শন করে ভ্রমণের জন্য শুভ কামনা জানান। রাতযাপনের সময় নিরাপত্তার স্বার্থে পাহারাদার নিযুক্ত করে দেন উত্তর বাখরনগর ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুল্লাহ হাবিব। ২য় দিন শেষে নরসিংদী লঞ্চঘাটের পন্টুনের ওপর ক্যাম্প স্থাপন করেন। নরসিংদী শহর পুলিশ ফাঁড়ি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় জনগণ তাদের সহযোগিতা করেন এ সময়। ৩য় দিন বৈরী আবহাওয়ার কারণে যাত্রা কিছুটা বিলম্ব হয়। আবহাওয়া অনুকূলে এলে যাত্রা শুরু করে বিরামহীনভাবে তারা নৌকা চালায়। নরসিংদীর মাধবধী থানার আওতাধীন মেঘনা বাজারের ঘাটে জুমার নামাজ এবং দুপুর খাবারের জন্য বিরতি দেওয়া হয়। দিনশেষে নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার বিশনন্দি গ্রামে ক্যাম্প স্থাপন করেন। ৪র্থ দিনের শুরুতে বিশনন্দি ফেরিঘাট অতিক্রম করে কুমিল্লা জেলার মেঘনা থানার রামপুর বাজারে দুপুরের খাবারের জন্য বিরতি দেওয়া হয়। দিনশেষে মেঘনা থানার উমরাকান্দা ব্রিজের কাছাকাছি মোহাম্মদপুর গ্রামের একটি মসজিদের সামনে শানবাঁধানো ঘাটে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ক্যাম্প স্থাপন করেন। ৫ম দিন উমরাকান্দা ব্রিজের নিচ থেকে যাত্রা শুরু হয় বৈরী আবহাওয়ায় উলটো বাতাসে। দিনব্যাপী উলটো বাতাস চলমান ছিল। চারজনের প্রাণপণ চেষ্টায় দুপুরে দাউদকান্দি ব্রিজ হয়ে গোমতী নদীতে প্রবেশ করে তাদের লক্ষ্য কুমিল্লা জেলার ময়নামতি এসে হাজির হয় নৌকা। ষষ্ঠ দিনের সকালে জোয়ার শুরু হওয়ায় স্রোত ও প্রচণ্ড বাতাস ছিল নদীতে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে আসমানীয়া বাজার, দাউদকান্দি এলাকায় এসে ৬ দিনে ১৫৫ কিলোমিটার নৌকা চালানোর পর তাদের কার্যক্রম সমাপ্তি ঘোষণা করেন। দুঃসাহসিক এ নৌকাভ্রমণে সহযোগিতা করেন পিকেএসপি ও বাউলীয়ানা মন।
কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
