যশোরের শাম্স-উল-হুদা একাডেমি
ফুটবলের পাঠশালায় একদিন
Advertisement
তৌহিদ জামান, যশোর
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মেঘলা আকাশ। শান্ত বিকাল। সবুজ মাঠে কিশোরদের ফুটবল কসরত। এরই মাঝে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি। এই সুখস্লাত দৃশ্য যশোর সদরের ফতেপুর ইউনিয়নের হামিদপুরে শাম্স-উল-হুদা ফুটবল একাডেমির। সবুজ মাঠ। ক্লাস সিক্স থেকে শুরু করে স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ফুটবল-পাঠশালা।
যশোর সদরের হামিদপুর বাজার এলাকায় ২০১১ সালে শাম্স-উল-হুদা ফুটবল একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন জাহেদী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. নাসের শাহরিয়ার জাহেদী। ২০১৭ সালে হামিদপুরে মাঠ এবং ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি একাডেমির ‘ভাষাসৈনিক মুসা মিয়া ভবন’ উদ্বোধন করা হয়। এই ভবনে রয়েছে ২৪০ জন শিক্ষার্থীর আবাসন ব্যবস্থা, জিমনেশিয়াম, মালটিমিডিয়া ক্লাসরুম, লাইব্রেরি, স্টাডি ও কনফারেন্স রুম, ডাইনিং হল, প্রশাসনিক কক্ষ, গেস্টরুম, মিনি গ্যালারি ও নামাজের স্থান।
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার জহুরপুর গ্রামে ১৯১৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন শাম্স-উল-হুদা। ১৯৩০ সালে তিনি স্কুলে পড়ার সময় ফুটবল দলে প্রথম সুযোগ পান। ১৯৩৯ সালে আন্তঃস্কুল প্রতিযোগিতায় অল বেঙ্গল চ্যাম্পিয়ন দলের খেলোয়াড় ছিলেন। যশোর লিগ, টাউন ক্লাব, ইয়াং মুসলিম ক্লাব, যতীন্দ্রমোহন ক্লাবে খেলেছেন। ১৯৫০ সালে তার সহযোগিতায় যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থা গঠন করা হয়। দুই বছর পর তিনি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ৩৬ বছর তিনি এই দায়িত্ব পালন করেন। এই ক্রীড়া সংগঠকের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ যশোরের আধুনিক স্টেডিয়ামের নাম তার নামে করা হয়। ১৯৮৭ সালে তিনি মারা যান। তার জামাই নাসের শাহরিয়ার জাহেদী শাম্স-উল-হুদা একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।
যশোর সদরের বসুন্দিয়া এলাকার মাদ্রাসাছাত্র নাইম মোল্লা জানায়, সে ফুটবলার হতে চায়। সপ্তাহে চারদিন একাডেমি মাঠে খেলাধুলা করে। দশম শ্রেণির ছাত্র সদরের নতুনহাট এলাকার রাকিব হোসাইন বাইসাইকেল চালিয়ে একাডেমি মাঠে আসে। আবাসিক ছাত্র সাদাত আল সাবিত জানায়, গত বছর থেকে সে একাডেমিতে রয়েছে। এ বছর এসএসসি পাশ করেছে। তার স্বপ্ন একজন ভালো ফুটবলার হওয়ার। সে অনূর্ধ্ব-১৫ জেলা দলের সদস্য। একাডেমি সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৮৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে আবাসিক ৬০ জন।
একাডেমির কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, ‘এখানে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা রয়েছে। স্কুল পর্যায়ে স্থানীয় হামিদপুর হাইস্কুল ও কলেজ পর্যায়ে আল হেরা ডিগ্রি কলেজের সঙ্গে আমাদের চুক্তি রয়েছে। আবাসিক শিক্ষার্থীরা সেখানেই পড়াশোনা করে।’ সবশেষ এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ বাছাই ফুটবল (জাতীয় দল) প্রাথমিক ক্যাম্পে অনুশীলন করেছে এই একাডেমির ১৩ তরুণ। অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় দলের হয়ে উজবেকিস্তানে খেলতে যান একাডেমির মাসুদ রানা। ২০২২ সালে এই একাডেমির ২০ জন খেলোয়াড় বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোতে খেলে। অনূর্ধ্ব-১৮ শেখ জামাল ধানমন্ডির হয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়।
দেশের বাইরে ইংল্যান্ড, কাতার, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, নেপাল, মিয়ানমারসহ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছে একাডেমির শিক্ষার্থীরা। ২০২৩ সালে একাডেমির তরুণ ফুটবলার মিনহাজুল করিমকে আমন্ত্রণ জানায় আর্জেন্টিনা তৃতীয় বিভাগের দল অ্যাথলেটিকো ভিলা স্যান কার্লোস ক্লাব। ২০২২ সালে ব্রাজিলের সোসিয়েদাদ স্পোর্তিভো দ্য গামা ক্লাবের সঙ্গে অনুশীলনের সুযোগ পায় যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার নয়ন হোসেন। ২০১৩ সালে ইংল্যান্ডের বিখ্যাত ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে প্রশিক্ষণ নেয় হাফিজুর রহমান। ২০১৮ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কল্যাণী মিউনিসিপ্যালিটি স্পোর্টস একাডেমির সঙ্গে খেলায় ৭-০ গোলে জয়ী হয় শাম্স-উল-হুদা একাডেমি।
