ঈদুল আজহায় প্রাথমিক চিকিৎসা
ডা. তাহমীদ কামাল
প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঈদের আনন্দঘন এ সময়টিতে অসাবধানতা ও অজ্ঞতার কারণে প্রতিবছর অসংখ্য মানুষ ছোট-বড় দুর্ঘটনার শিকার হন। বিশেষ করে পশু জবাই, মাংস কাটাকাটি, পরিবহণ, সংরক্ষণ এবং অতিরিক্ত ব্যস্ততার কারণে নানা ধরনের শারীরিক আঘাত, সংক্রমণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দেয়। এছাড়া দীর্ঘ সময় রোদে কাজের ফলে পানিশূন্যতা, দুর্বলতা ও হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি থাকে। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণে সংক্রমণ ও খাদ্যে বিষক্রিয়াও হতে পারে। তাই স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তায় সতর্ক থাকা জরুরি।
* ধারাল অস্ত্রের আঘাতে প্রাথমিক চিকিৎসা : ধারাল অস্ত্রের আঘাতে শরীর কেটে গেলে প্রথমেই আতঙ্কিত না হয়ে রক্তপাত নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। পরিষ্কার কাপড় বা গজ দিয়ে ক্ষতস্থানে চাপ দিয়ে ধরে রাখলে রক্তপাত কমে। এরপর ক্ষতস্থান পরিষ্কার পানি দিয়ে ক্ষত ধুতে হবে। অস্বাস্থ্যকর কাপড় ব্যবহার করা যাবে না, কারণ এতে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। যদি ক্ষত গভীর হয়, রক্তপাত বন্ধ না হয় বা আঙুল-হাত নড়াতে সমস্যা হয়, দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।
* পশুর আঘাতে আহত হলে করণীয় : ঈদুল আজহায় বড় পশু নিয়ন্ত্রণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। পশুর ধাক্কা, লাথি বা শিংয়ের আঘাতে ফোলা, মচকানো বা হাড় ভাঙা হতে পারে। আক্রান্তকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আঘাতস্থানে বরফ দিলে ব্যথা ও ফোলা কমে। হাড় ভাঙার সন্দেহ হলে অঙ্গ নাড়ানো যাবে না এবং দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে, না হলে ক্ষতি বাড়তে পারে।
* গরমে শারীরিক দুর্বলতা ও পানিশূন্যতা : ঈদের ব্যস্ততায় অনেকেই কম পানি পান বা না খেয়ে কাজ করেন, ফলে পানিশূন্যতা, মাথা ঘোরা ও দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। গরমে এ সমস্যা আরও বাড়ে। তাই পর্যাপ্ত পানি, খাবার স্যালাইন ও বিশ্রাম জরুরি। অতিরিক্ত ঘাম, দুর্বলতা বা অজ্ঞান হলে দ্রুত ঠান্ডা স্থানে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে হবে।
* প্রতিটি পরিবারের ফার্স্ট এইড প্রস্তুতি : সঠিক প্রাথমিক চিকিৎসা অনেক বড় দুর্ঘটনা ও জটিলতা থেকে রক্ষা করতে পারে। তাই প্রতিটি পরিবারে ফার্স্ট এইড বক্স রাখা উচিত, যাতে গজ, ব্যান্ডেজ, অ্যান্টিসেপটিক, কটন, গ্লাভস, কাঁচি, প্যারাসিটামল ও ওআরএস থাকে।
লেখক : ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিশেষজ্ঞ, অটোয়া, কানাডা।
