Logo
Logo
×
   

সুস্থ থাকুন

ডায়াবেটিস ও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে মৌসুমি ফল কীভাবে খাবেন

Icon

ডা. এম এ হালিম খান

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ডায়াবেটিস ও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে মৌসুমি ফল কীভাবে খাবেন

সংগৃহীত ছবি

গ্রীষ্ম শেষে বর্ষা আসছে। বাজারজুড়ে পাকা আম, কাঁঠাল এবং লালচে রসালো লিচু। কিন্তু ডায়াবেটিস ও স্থূলতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকের মনে একটি ভয় কাজ করে, এ ফলগুলো কি শরীরের জন্য ক্ষতিকর? ডায়াবেটিস রোগী কি আম, কাঁঠাল বা লিচু খেতে পারবেন? ওজন কমাতে চাইলে কি ফল পুরোপুরি বাদ দিতে হবে?

বিজ্ঞানের ভাষায় উত্তর হলো, না। ফল নয়, মূল সমস্যা হলো অতিরিক্ত পরিমাণ, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা। সঠিক নিয়ম মেনে খেলে এ মৌসুমি ফলগুলো খেয়েও ডায়াবেটিস ও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তবে ফলের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো ‘পরিমাণ’ এবং ‘খাওয়ার পদ্ধতি’।

* আম-এ ভয়ের কিছু নেই

আমে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, পটাশিয়াম ও শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে একটি প্রচলিত ধারণা হলো, আম মানেই রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়া। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়ন্ত্রিত পরিমাণে আম খেলে অধিকাংশ রোগীর বড় ধরনের সমস্যা হয় না, যদি সারা দিনের মোট ক্যালোরি ও কার্বোহাইড্রেট নিয়ন্ত্রিত থাকে। আধা কাপ থেকে এক কাপ কাটা আম প্রায় ৮০-১০০ গ্রাম সপ্তাহে ২-৩ দিন সীমিত পরিমাণে আম খেতে পারেন। তবে খালি পেটে নয় খাওয়ার পর দুপুর বা বিকালে খাবেন।

* কাঁঠাল খেলেও নিয়ন্ত্রণ জরুরি

কাঁঠাল পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ একটি ফল। এতে রয়েছে খাদ্যআঁশ, ভিটামিন সি, পটাশিয়াম এবং কিছু পরিমাণ উদ্ভিজ্জ প্রোটিন। এ ফলের একটি ইতিবাচক দিক হলো, এটি দ্রুত পেট ভরায়। ফলে অতিরিক্ত ভাত বা নাশতা খাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে। তবে এতে কার্বোহাইড্রেটও কম নয়। তাই পরিমাণের নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দৈনিক ৪-৫টি মাঝারি আকারের কোয়া খেতে পারেন। যার একবারে প্রায় ৭৫-১০০ গ্রাম। তবে যাদের HbA1c বেশি, ওজন দ্রুত বাড়ছে, শারীরিক পরিশ্রম, ফ্যাটি লিভার আছে তাদের সতর্ক থাকতে হবে।

* লিচু খেতেও সতর্ক থাকতে হবে

লিচু অত্যন্ত সুস্বাদু হলেও এতে প্রাকৃতিক চিনির ঘনত্ব তুলনামূলক বেশি। সমস্যা হলো, লিচু ছোট হওয়ায় মানুষ সহজেই অনেক বেশি খেয়ে ফেলেন। খাওয়া উচিত ৬-৮টি মাঝারি লিচু। এর বেশি হলে ক্যালোরি দ্রুত বাড়তে পারে। লিচু বেশি খেলে রক্তে গ্লুকোজ দ্রুত বাড়ে এবং অতিরিক্ত ক্যালোরি শরীরে চর্বি জমাতে ভূমিকা রাখে। তাই এটি নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।

* ওজন নিয়ন্ত্রণে ফলের ভূমিকা

অনেকেই ওজন কমাতে গিয়ে ফল পুরোপুরি বাদ দেন। এটি দীর্ঘমেয়াদে পুষ্টিহীনতা তৈরি করতে পারে। বরং গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রক্রিয়াজাত মিষ্টি খাবারের বদলে পরিমিত ফল খান, তাদের স্থূলতার ঝুঁকি তুলনামূলক কম হতে পারে। কারণ ফল-

▶ পেট ভরায়

▶ অতিরিক্ত ক্ষুধা কমায়

▶ ফাইবার সরবরাহ করে

▶ জাঙ্ক ফুড খাওয়ার প্রবণতা কমাতে সাহায্য করে।

তবে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, স্বাস্থ্যকর খাবারও অতিরিক্ত খেলে ওজন বাড়ে। তাই ফলের ক্ষেত্রেও ‘পরিমিতি’ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও হরমোন বিভাগ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকা।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .