Logo
Logo
×
   

সুস্থ থাকুন

ইনসুলিন নিয়ে যত কথা

Icon

ডা. নাজমা আক্তার

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ইনসুলিন নিয়ে যত কথা

সংগৃহীত ছবি

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম ও ওষুধের পাশাপাশি ইনসুলিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অনেক মানুষের মনে ইনসুলিন নিয়ে ভয়, দ্বিধা ও নানা ভুল ধারণা রয়েছে। কেউ ভাবেন ইনসুলিন মানেই রোগের শেষ পর্যায়, আবার কেউ মনে করেন ইনসুলিন নিলে সারা জীবন এর ওপর নির্ভরশীল হয়ে যেতে হয়। বাস্তবে এসব ধারণার অনেকটাই ভুল। মূলত ডায়াবেটিস রোগীর শরীরে যখন পর্যাপ্ত ইনসুলিন থাকে না বা কাজ করে না, তখন ইনসুলিন বাইরে থেকে দিতে হয়।

* যেসব ক্ষেত্রে ইনসুলিন দরকার

▶ টাইপ-১ ডায়াবেটিস : এ রোগে শরীর একেবারেই ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না। তাই আজীবন ইনসুলিন প্রয়োজন হয়।

▶ টাইপ-২ ডায়াবেটিস : খাদ্য নিয়ন্ত্রণ ও ট্যাবলেট দিয়ে সুগার নিয়ন্ত্রণ না হলে ইনসুলিন দরকার হতে পারে।

▶ গর্ভকালীন ডায়াবেটিস : গর্ভাবস্থায় নিরাপদভাবে সুগার নিয়ন্ত্রণের জন্য অনেক সময় ইনসুলিন ব্যবহার করা হয়।

৪. জরুরি অবস্থা : যেমন- ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস, গুরুতর সংক্রমণ, অপারেশনের আগে বা পরে ও হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের সময়।

* ইনসুলিনের উপকারিতা

সঠিকভাবে ইনসুলিন ব্যবহার করলে-

▶ রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে থাকে

▶ কিডনি ক্ষতির ঝুঁকি কমে

▶ চোখের সমস্যা কম হয়

▶ স্নায়ুর জটিলতা কমে

▶ হার্টের ঝুঁকি কমে

▶ শরীরের শক্তি বাড়ে

▶ রোগী সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন।

▶ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

যদিও ইনসুলিন অত্যন্ত কার্যকর, কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে।

▶ হাইপোগ্লাইসেমিয়া (রক্তে শর্করা কমে যাওয়া) : এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।

লক্ষণ : ঘাম, কাঁপুনি, মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত ক্ষুধা, বুক ধড়ফড়, বিভ্রান্তি বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া।

কী করবেন? দ্রুত চিনি, মিষ্টি, গ্লুকোজ মিষ্টি পানীয় খেতে হবে।

▶ ওজন বৃদ্ধি : কিছু রোগীর ওজন বাড়তে পারে।

▶ ইনজেকশন স্থানে সমস্যা : যেমন-ব্যথা, ফোলা বা লালচে ভাব, চামড়া শক্ত হয়ে যাওয়া ইত্যাদি। একই স্থানে বারবার ইনজেকশন দিলে Lipohypertrophy হতে পারে।

▶ অ্যালার্জি : খুব বিরল হলেও কারও কারও অ্যালার্জি হতে পারে।

▶ পটাশিয়াম কমে যাওয়া : বিশেষ করে হাসপাতালে উচ্চমাত্রায় ইনসুলিন ব্যবহারে এ সমস্যা দেখা দিতে পারে।

* ইনসুলিন সংরক্ষণের নিয়ম ইনসুলিন সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

* অব্যবহৃত ইনসুলিন

ফ্রিজে ২-৮০ সেলসিয়াসে রাখতে হবে। ফ্রিজারে রাখা যাবে না। কারণ, জমে গেলে ইনসুলিন নষ্ট হয়ে যায়।

* মনে রাখবেন

ব্যবহৃত ইনসুলিন সাধারণত ২৮ দিন পর্যন্ত রুম টেম্পারেচারে রাখা যায়। অতিরিক্ত গরম বা সরাসরি রোদে রাখা যাবে না। ভ্রমণের সময়

ইনসুলিন কুল ব্যাগে রাখা ভালো, গাড়ির ড্যাশবোর্ডে রাখা উচিত নয়।

* যেভাবে নষ্ট বোঝা যায় : রং পরিবর্তন, জমে যাওয়া বা দানা দেখা, অস্বাভাবিক ঘোলাটে ভাব-এমন হলে ইনসুলিন ব্যবহার করা যাবে না।

* ইনসুলিন নেওয়ার সঠিক পদ্ধতি সঠিক টেকনিক না জানলে ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। পেটের চামড়ায় দিলে দ্রুত কাজ করে।

* কোথায় ইনজেকশন দেওয়া যায় পেট, উরু, বাহু বা নিতম্ব।

* ইনজেকশন দেওয়ার ধাপ

▶ হাত পরিষ্কার করুন।

▶ ইনসুলিন পরীক্ষা করুন।

▶ প্রয়োজনে NPH বা premixed insulin হালকা ঘুরিয়ে মিশিয়ে নিন।

▶ ডোজ ঠিক করুন।

▶ চামড়া আলতো চেপে ৯০ ডিগ্রি কোণে সুচ প্রবেশ করান।

▶ সুচ প্রবেশ করান ও ধীরে ইনসুলিন প্রবেশ করান।

▶ ১০ সেকেন্ড অপেক্ষা করে সুচ বের করুন।

ইনসুলিন পেন বনাম সিরিঞ্জ : বর্তমানে অনেকেই ইনসুলিন পেন ব্যবহার করেন।

* ইনসুলিন ব্যবহারে সাধারণ ভুল

▶ খাবার না খেয়ে ইনসুলিন নেওয়া। এতে হাইপোগ্লাইসেমিয়া হতে পারে।

▶ ডোজ ভুল করা।

▶ ইনজেকশনের স্থান পরিবর্তন না করা।

▶ মেয়াদোত্তীর্ণ ইনসুলিন ব্যবহার।

▶ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ডোজ পরিবর্তন।

▶ অনিয়মিত ব্যবহার। এতে সুগার ওঠানামা করে।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, এন্ডোক্রাইনোলজি ও মেটাবলিজম বিভাগ, মার্কস মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকা।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .