আইভিএফ : যা জানা প্রয়োজন
ডা. শাহীনা বেগম শান্তা
প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আইভিএফ চিকিৎসা সারা বিশ্বেই এখন গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। ১৯৭৮ সালের ২৫ জুলাই প্রথম আইভিএফ বা টেস্টটিউব বেবি জন্মের পর ৪৮ বছর পার হয়ে গেছে, তবুও সাধারণ মানুষের মাঝে এ চিকিৎসা নিয়ে নানারকম জল্পনা-কল্পনার অবসান আজ অবধি হয়নি। লুইস ব্রাউন কিন্তু পরবর্তীতে একেবারে প্রাকৃতিকভাবেই গর্ভধারণ করেন, বিশেষায়িত কোনো চিকিৎসা নিতে হয়নি।
আইভিএফ বেবি হলো ডিম্বাণু ও শুক্রাণু শরীরের বাইরে নিষিক্ত করে ল্যাবরেটরিতে ভ্রূণ তৈরি করা হয় ও তা ইনকিউবেটরে বিশেষ তাপমাত্রায় ও বিশেষ পুষ্টিসমৃদ্ধ মিডিয়ার মাঝে যেন বেড়ে ওঠে সেটা নিশ্চিত করা হয়। এরপর দিন হিসাব করে মাতৃগর্ভে প্রতিস্থাপন করা হয়। প্রাকৃতিকভাবে যে প্রক্রিয়াটি নারীর শরীরের অভ্যন্তরে হওয়ার কথা ছিল, সেটা ল্যাবরেটরিতে করা হয়। এরপর বাচ্চার বেড়ে ওঠা ও জন্ম প্রক্রিয়া আর ৮/১০টা সাধারণ মানব শিশুর মতোই।
আইভিএফ বেবি নিয়ে কিছু ভুল ধারণা মানুষ পোষণ করে, যেমন-
▶ এ বাচ্চাগুলো দেখতে আলাদা হয়।
▶ এদের বুদ্ধি মাত্রা সাধারণ মানব শিশুর চেয়ে ভিন্ন।
▶ এরা সম্ভবত, টেস্টটিউবের ভিতর বেড়ে ওঠেও সেখান থেকে জন্ম নেয়।
▶ অন্য কারও ডিম্বাণু ও শুক্রাণু দম্পতিকে না জানিয়ে ব্যবহার করা হয়।
▶ এ চিকিৎসা ইসলাম ধর্মে অনুমোদন দেয় না।
সংক্ষিপ্ত আকারে যদি এ জিজ্ঞাসাগুলোর উত্তর দেওয়া হয়, তাহলে বলা যায় টেস্টটিউব বেবি চিকিৎসায় জন্ম নেওয়া সন্তানরা স্বাভাবিক মানব শিশুর মতোই মাতৃগর্ভে বড় হয়, জন্ম হয় একই নিয়মে, স্বতন্ত্র কোনো বৈশিষ্ট্য নেই ও নিজের ডিম্বাণু ও শুক্রাণু ব্যবহার করলে এ চিকিৎসায় ইসলাম ধর্মে কোনো বাধা নেই।
বাংলাদেশে বেশ কিছু ইনফার্টলিটি সেন্টার হয়েছে, যারা সফলতা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে এ চিকিৎসা দিচ্ছে। সফলতার হার ৪০ হতে ৬০-৭০ শতাংশ। বাংলাদেশের প্রথম আইভিএফ বেবি হীরা-মনি-মুক্তা জন্ম নেয় ২০০১ সালে ও প্রথম হিমায়িত ভ্রূণ বেবি অপসরা জন্ম নেয় ২০০৮ সালে।
নিঃসন্তান দম্পতিরা আস্থার সঙ্গে ও উপযুক্ত সময়ে এ চিকিৎসা গ্রহণ করলে ফলাফল আশানুরূপ হবে ও একটি সুস্থ সন্তানের জন্ম দিতে পারবেন। তবে প্রাইভেট খাতে সারা বিশ্বের মতো এদেশেও চিকিৎসা ব্যয়বহুল।
লেখক : সিনিয়র কনসালটেন্ট, ইনফার্টিলিটি ও আইভিএফ বিশেষজ্ঞ, বিআরবি হাসপাতাল, ঢাকা।
