হাতের দক্ষতা বৃদ্ধি ও খাবার খেতে অকুপেশনাল থেরাপি
Advertisement
সুলতানা রাজিয়া
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সেরিব্রাল পালসি নিয়ে বেড়ে ওঠা একজন মানুষকে চলাফেরা, ভারসাম্য, হাত-পায়ের সমন্বয় এবং দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজ করতে তাকে নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। খাওয়া, পোশাক পরা, লেখালেখি কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলার মতো সহজ কাজগুলোও সবসময় তার জন্য সহজ নয়। অনেক সময় তাকে তার পরিবারের সদস্যদের সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হয়। তবে অন্য থেরাপির সঙ্গে অকুপেশনাল থেরাপি দিলে তার জীবনযাত্রা অনেকটাই সহজ হয়। শুরুতে অকুপেশনাল থেরাপিস্টকে রোগীর সামর্থ্য, সমস্যা, আগ্রহ এবং দৈনন্দিন রুটিনগুলো মূল্যায়ন করা দরকার। কেবল শারীরিক সীমাবদ্ধতার ওপর মনোনিবেশ না করে, থেরাপিস্টকে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হয় রোগী ঠিক কী অর্জন করতে চায় এবং কোন কাজগুলো তার কাছে সবচেয়ে বেশি অর্থপূর্ণ।
▶ দৈনন্দিন কাজে স্বনির্ভর হয়ে ওঠা : প্রথম লক্ষ্যগুলোর একটি নিজের হাতে খাবার খাওয়ানো। হাতের বিভিন্ন ব্যায়াম, গ্রাস্প ও রিলিজের (ধরা ও ছাড়া) কৌশল উন্নত করতে এবং ভালো সমন্বয় গড়ে তুলতে বিভিন্ন অনুশীলন করানো। নিয়মিত অনুশীলন ও উৎসাহের ফলে ধীরে ধীরে রোগী নিজের হাতে খেতে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। পোশাক পরা ছিল এ ধরনের রোগীর জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ। একজন অকুপেশনাল থেরাপিস্ট তাকে ধাপে ধাপে পোশাক পরার কৌশল শেখানো এবং ঢিলেঢালা পোশাক ও সহজে ব্যবহারযোগ্য বোতাম বা হুকের মতো সহজ কিছু পরিবর্তন বা সহায়ক কৌশল শেখান। এতে করে রোগী ক্রমান্বয়ে নিজের যত্ন নেওয়ার রুটিনে আরও বেশি স্বাবলম্বী হয়ে ওঠে।
▶ পড়াশোনা ও খেলাধুলার জন্য দক্ষতা বিকাশ অকুপেশনাল থেরাপিস্ট রোগীর হাতের কার্যকরী দক্ষতা, শারীরিক সঠিক অবস্থান (পোশ্চার) এবং বসার ভঙ্গি নিয়ে কাজ করে। লেখার কাজ সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে বিশেষ ধরনের পেন্সিল এবং উপযুক্ত লেখার পৃষ্ঠা ব্যবহার করতে শেখান। সঠিকভাবে বসার ব্যবস্থা, প্রয়োজন অনুযায়ী উপযোগী শিক্ষাসামগ্রী এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত সময়ের সুব্যবস্থায় রোগী ক্লাসের কার্যক্রমে আরও কার্যকরভাবে অংশ নিতে সক্ষম হয়। খেলাধুলার ক্ষেত্রে থেরাপিস্ট এমন কিছু আনন্দদায়ক কার্যক্রমের মাধ্যমে অনুশীলন করান, যার মাধ্যমে রোগীকে কোনো কিছুর দিকে হাত বাড়ানো, ধরা, খেলনা নিয়ে কাজ করা এবং অন্য শিশুদের সঙ্গে মেলামেশা করতে সাহায্য করে।
▶ অকুপেশনাল থেরাপিস্টের ভূমিকা : অকুপেশনাল থেরাপিস্ট কেবল একজন রিহ্যাবিলিটেশন পেশাজীবীই নন; তিনি রোগীর লক্ষ্য অর্জনে অংশীদার, যিনি তার ভেতরের সক্ষমতাগুলো আবিষ্কার করতে এবং বিভিন্ন বাধাগুলো অতিক্রম করতে সাহায্য করেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, থেরাপিস্টকে রোগীর কথা শুনতে হয়, তার পছন্দকে সম্মান জানাতে হয় এবং এ বিষয়টি অনুধাবন করতে হয় যে, শারীরিক অগ্রগতির পাশাপাশি তার নিজস্ব লক্ষ্যগুলোও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
* অকুপেশনাল থেরাপিস্ট যেভাবে ওরাল মোটর কন্ট্রোল (মুখ ও মাড়ির পেশির নিয়ন্ত্রণ) বাড়াতে সহায়তা করতে পারেন
▶ দেহের স্থিতিশীলতা এবং মাথা নিয়ন্ত্রণ
▶ ঠোঁট বন্ধ রাখার সক্ষমতা এবং মুখের ভেতর সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি
▶ চোয়ালের স্থিতিশীলতা ও নিয়ন্ত্রণ
▶ জিভের নড়াচড়া ও খাবার নিয়ন্ত্রণ।
অকুপেশনাল থেরাপি দৈনন্দিন জীবনের যে কোনো বাধাকে শিক্ষা, বিকাশ ও অংশগ্রহণের সুযোগে রূপান্তর করতে সাহায্য করে। অনেক সময় একটি চামচ ধরা বা একটি খেলনা নিজে তুলে নেওয়ার মতো ছোট একটি পদক্ষেপেও আত্মনির্ভরশীলতার পথে এক বিশাল অগ্রগতি অর্জিত হয়।
লেখক : কনসালটেন্ট, অকুপেশনাল থেরাপিস্ট, বাংলাদেশ অকুপেশনাল থেরাপি অ্যাসোসিয়েশন।
