সচলায়তন
আরও বেশি নারী নেতৃত্বে আসুক
Advertisement
সুরঞ্জনা ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাংলাদেশের অনেক প্রতিষ্ঠান মাতৃত্বকালীন ছুটি বা যৌন হয়রানি প্রতিরোধে এইচআর পলিসি থাকাকেই নারীবান্ধব কর্মসংস্কৃতি বলে মনে করে। কিন্তু গত কয়েক বছরে, বিশেষ করে কোভিড ১৯-এর পর বিশ্বব্যাপী কর্মসংস্কৃতির চিত্র বদলেছে-শুধু নিয়ম থাকলেই চলবে না; সত্যিকার অর্থে নারীবান্ধব কর্মস্থল গড়ে তুলতে হলে প্রয়োজন ইতিবাচক পরিবর্তনের, যেখানে নারীদের সম্মান করা হবে, তাদের কথা গুরুত্ব দিয়ে শোনা হবে এবং তারা এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে। নারীদের কথা শোনা, তাদের চাহিদা অনুযায়ী কর্মপরিবেশ গড়ে তোলা এবং নেতৃত্বের ধারণাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করা কেবল আর প্রগতিশীল ধারণা নয়; বরং টেকসই অগ্রগতির জন্য জরুরি। এ ক্ষেত্রে একটি রোল মডেল হয়ে উঠেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ বিউটি ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম সাজগোজ লিমিটেড। নারীদের জন্য এমন সহায়ক কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার পেছনের ভাবনা ও অভিজ্ঞতা জানতে আমরা কথা বলি প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা সিনথিয়া ইসলামের সঙ্গে।
* শুরু থেকেই নারীবান্ধব কর্মসংস্কৃতি গড়ে তোলার চিন্তা ছিল কেন?
-যেহেতু সাজগোজ একটি বিউটি ফোকাসড প্রতিষ্ঠান, আমরা বেশিরভাগ সময়ই নারীদের নিয়ে কাজ করেছি; কিন্তু শুধু সাপোর্ট বা কাস্টমার সার্ভিসে নয়, আমরা চেয়েছি নারীরা যেন লজিস্টিকস, অপারেশন, মার্কেটিংসহ সব জায়গায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নিতে পারে এবং যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারে। আমরা মনে করি, তারা শুধু কাজ করতে নয়, নেতৃত্ব দিতেও সমানভাবে সক্ষম।
* আপনাদের প্রতিষ্ঠানে নারীদের সমর্থনের ক্ষেত্রে কোন ধরনের মূল্যবোধ অনুসরণ করেন?
- সাজগোজে নারীদের সমর্থন একটি কাগজে লেখা পলিসির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি আমাদের কর্মসংস্কৃতির প্রতিদিনের বাস্তবতা। আমরা জানি, কর্মীরা শুধু কাজের মানুষ নয়-তারা বাবা-মা, সন্তান এবং সর্বোপরি আলাদা একজন মানুষও। তাই যখন কেউ ব্যক্তিগত সমস্যায় পড়েন, আমরা তা বুঝতে চেষ্টা করি। সহানুভূতি নিয়ে পাশে থাকার চেষ্টা করি। আমাদের বিশ্বাস, নরম মন মানেই দুর্বলতা নয়, বরং এটি নেতৃত্বের একটি শক্ত দিক। আমরা অহংকারে নয়, বরং মমতায় নেতৃত্ব দিই। এটি শুধু কথার কথা নয়, এ অনুভূতি আমাদের সহকর্মীরা প্রতিদিনের অভিজ্ঞতায় বুঝতে পারেন।
* বিয়ে, মাতৃত্ব বা স্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জের মতো পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে কর্মজীবী মা এবং নারীদের কীভাবে সহায়তা করেন?
- আমাদের টিমের ৬০ শতাংশ নারী। তাই আমরা জানি, জীবনের নানা পরিবর্তন কীভাবে কাজের ওপর প্রভাব ফেলে। এ কারণেই আমরা কর্মীদের দেই ফ্লেক্সিবল কর্মঘণ্টা, ছুটি এবং মানসিক সমর্থন। আমরা বিশ্বাস করি, যারা কাজ থেকে সাময়িক বিরতি নেন, তারাও দায়িত্বশীলভাবে তাদের কাজ শেষ করেন। অনেক মা আমাদের সেরা কর্মীদের একজন।
* আপনাদের নারীবান্ধব এ যাত্রায় কেমন ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেন?
- আমরা চাই আমাদের প্রতিষ্ঠান শুধু নারীবান্ধব নয়, বরং নারী নেতৃত্বাধীন হোক। আরও বেশি নারী নেতৃত্বে আসুক, তাদের হাতে শক্তি, জ্ঞান ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকুক। আমি নিজেও চাই, একজন সৎ, শক্তিশালী এবং সহানুভূতিশীল নেতা হিসাবে পথ দেখাতে। আমরা বলতে চাই, নারী সহায়ক কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে বড় কিছু করতে হয় না-প্রতিদিন ছোট ছোট মানবিক সিদ্ধান্তই পার্থক্য গড়ে দেয়। যে প্রতিষ্ঠানগুলো সত্যিই নারীদের সম্মান করে, তাদের পাশে থাকে, তারা শুধু নারীদের নয়, পুরো প্রতিষ্ঠানকেই এগিয়ে নিয়ে যায়।
