ইউক্রেনে শান্তি পরিকল্পনা
ট্রাম্পের ২৮ দফার বদলে ইউরোপের পালটা ২৮
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ নভেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার ২৮ দফা খসড়া শান্তি পরিকল্পনার পর ইউরোপ এবার নিজেদের পালটা প্রস্তাব তুলে ধরেছে। ই-৩ হিসাবে পরিচিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের তিন কাণ্ডারি-ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি নতুন প্রস্তাবটি সামনে এনেছে। রোববার হাতে আসা প্রস্তাবটি প্রকাশ করেছে রয়টার্স। নথিতে যুক্তরাষ্ট্রের খসড়া পরিকল্পনাকে ধরে প্রতিটি পয়েন্টে সংশোধন, পরিবর্তন ও বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। ইউরোপের প্রকাশ করা সংশোধনী প্রস্তাবগুলো হলো :
১. ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব পুনঃনিশ্চিত করা হবে।
২. রাশিয়া, ইউক্রেন ও ন্যাটোর মধ্যে আক্রমণ না করার চুক্তি হবে। গত ৩০ বছরে যে সন্দেহ ও অস্পষ্টতা ছিল, তা দূর করা হবে। (যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনার ৩ নম্বর পয়েন্ট বাদ দিয়েছে ইউরোপ। সেই পয়েন্টে বলা হয়েছিল রাশিয়া প্রতিবেশী দেশে হামলা করবে না এবং ন্যাটোও বিস্তার বাড়াবে না)
৪. শান্তি চুক্তি সইয়ের পর রাশিয়া-ন্যাটো সংলাপ শুরু হবে।
৫. ইউক্রেনকে দেওয়া হবে শক্তিশালী নিরাপত্তা গ্যারান্টি।
৬. শান্তিকালে ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ সদস্য সংখ্যা আট লাখে সীমিত থাকবে।
৭. ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগ দেওয়া সদস্য দেশগুলোর সর্বসম্মতির ওপর নির্ভর করবে।
৮. ন্যাটো শান্তিকালে ইউক্রেনে স্থায়ী কোনো সৈন্য মোতায়েন করবে না।
৯. ন্যাটোর যুদ্ধবিমান পোল্যান্ডে মোতায়েন থাকবে।
১০. যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে ‘আর্টিকেল ৫’-এর মতো নিরাপত্তা গ্যারান্টি দেবে।
এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ক্ষতিপূরণ পাবে। ইউক্রেন যদি রাশিয়ায় আক্রমণ করে, তবে গ্যারান্টি বাতিল হবে।
রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা করলে সমন্বিত সেনা প্রতিক্রিয়া ও সব নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা হবে।
১১. ইউক্রেন ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদান চলাকালে বিশেষ বাজার সুবিধা পাবে।
১২. ইউক্রেন পুনর্গঠনে বড় বৈশ্বিক উন্নয়ন প্যাকেজ হবে। কিয়েভে প্রযুক্তি, ডেটা সেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক শিল্পে বিনিয়োগ করা হবে। যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের গ্যাস পাইপলাইন ও স্টোরেজসহ সব অবকাঠামো পুনর্গঠনে সাহায্য করবে। যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকা পুনর্গঠন ও আধুনিকায়ন। অবকাঠামো উন্নয়ন। খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলন। বিশ্বব্যাংক বিশেষ অর্থায়ন দেবে।
১৩. রাশিয়াকে ধীরে ধীরে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ফিরিয়ে আনা হবে। নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে শিথিল করা হবে। যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক চুক্তি করবে রাশিয়াকে আবার জি৮-এ আমন্ত্রণ দেওয়া হবে।
১৪. রাশিয়ার জব্দ করা সম্পদই ইউক্রেন পুনর্গঠনের অর্থায়নে ব্যবহৃত হবে।
১৫. যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন, রাশিয়া ও ইউরোপের অংশগ্রহণে যৌথ নিরাপত্তা টাস্কফোর্স গঠন হবে।
১৬. রাশিয়া আইন করে ইউরোপ ও ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ‘নন-অ্যাগ্রেশন’ নীতি গ্রহণ করবে।
১৭. যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি বর্ধিত করবে।
১৮. ইউক্রেন এনপিটি অনুযায়ী অ-পরমাণু রাষ্ট্র হিসাবে থাকবে।
১৯. জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পুনরায় চালু হবে।
২০. ইউক্রেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের ধর্মীয় সহিষ্ণুতা-সংক্রান্ত নিয়ম গ্রহণ করবে।
২১. ইউক্রেন সামরিকভাবে দখলকৃত অঞ্চল পুনরুদ্ধার করবে না।
২২. ভবিষ্যৎ সীমান্ত নিয়ে সমঝোতা হলে রাশিয়া ও ইউক্রেন কেউই বলপ্রয়োগ করতে পারবে না।
২৩. ইউক্রেনের ডিনিপার নদী ব্যবহার বাধাগ্রস্ত করবে না রাশিয়া।
২৪. মানবিক কমিটি গঠন হবে। বন্দি ও লাশ বিনিময়। সব বেসামরিক আটক, জিম্মি ও শিশু ফেরত। পরিবার পুনর্মিলন কর্মসূচি। সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার ব্যবস্থা।
২৫. শান্তিচুক্তি সই হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব ইউক্রেনে নির্বাচন হবে।
২৬. যুদ্ধের শিকার মানুষের কষ্ট লাঘবে বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে।
২৭. চুক্তি আইনি বাধ্যবাধকতা সম্পন্ন হবে।
২৮. সব পক্ষ সমঝোতায় পৌঁছলে সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।
হয়তো কিছু ভালো ঘটছে
জেনেভায় অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনায় অংশ নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, ‘রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি আলোচনায় কী সত্যিই বড় অগ্রগতি হতে পারে? দেখা না হওয়া পর্যন্ত বিশ্বাস করা যাবে না, তবে হয়তো কিছু ভালো ঘটছে। গড ব্লেস আমেরিকা!’
