Logo
Logo
×
   

Advertisement

দশ দিগন্ত

অক্সফাম প্রতিবেদন

অতি ধনীদের আধিপত্যে হুমকির মুখে গণতন্ত্র

১২ জন ধনকুবেরের হাতে ৪০০ কোটি মানুষের সম্পদ * সাধারণ মানুষের জীবন যখন ‘অসহনীয়’ হয়ে উঠছে, তখন সরকারগুলো ধনীদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে * ধনকুবের শাসনে চলছে বিশ্ব। নেতা-নির্বাচন, রাজনীতি, বিচার বিভাগ, গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-সব কিনে ফেলছেন পুঁজিপতিরা

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

বিশ্বের ধনকুবেররা শুধু আগের চেয়ে আরও বেশি ধনী হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘এক বছরে’ নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে ধনকুবেরদের ভাগ্য। অন্যান্য সময়ের তুলনায় গত ৫ বছরে ৩ গুণ বেশি গতিতে দৌড়েছে তাদের সৌভাগ্যের ঘোড়া। নিজ নিজ দেশের রাজনৈতিক ক্ষমতা, বিচার বিভাগ, গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে গণতন্ত্রের মৌলিক কাঠামোর ওপরও গভীর প্রভাব ফেলছেন। নেতাদের কিনে ফেলছেন। চাইলেই ‘কিনে ফেলছেন’ কোনো দেশের নির্বাচনও। সোমবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে শুরু হওয়া ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলনের প্রাক্কালে ৬৯ পৃষ্ঠার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা অক্সফাম। প্রতিবছরই দাভোস সম্মেলেনের আগেই এমন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে অক্সফাম।

‘রেজিস্টিং দ্য রুল অব দ্য রিচ’ শিরোনামের প্রতিবেদনটিতে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, বিশ্বের ধনকুবেররা এখন আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি সম্পদ ও রাজনৈতিক ক্ষমতার অধিকারী হয়ে উঠেছে। এমনকি ধনকুবেররা সাধারণ নাগরিকের তুলনায় রাজনৈতিক ক্ষমতা ধরে রাখার ক্ষেত্রেও হাজারগুণ বেশি সুযোগ পান। এই অসাম্য শুধু অর্থনৈতিক বৈষম্য বৃদ্ধি করছে না বরং জনগণের কণ্ঠস্বর দমিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হুমকি তৈরি করছে।

অক্সফমের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের তুলনায় ধনকুবেরদের রাজনৈতিক ক্ষমতা পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৪ হাজার গুণ বেশি। তারা ৬৬টি দেশের জরিপও উল্লেখ করেছে, যেখানে প্রায় অর্ধেক মানুষ মনে করেন ধনকুবেররা প্রায়ই তাদের দেশে নির্বাচনেও প্রভাব ফেলে। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় সব প্রধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমই এখন তাদের মালিকানাধীন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ধনকুবেরদের মোট সম্পদ বেড়েছে প্রায় ২.৫ ট্রিলিয়ন ডলার। যা বিশ্বের নিম্ন আয়ের অর্ধেক জনগোষ্ঠী বা ৪০০ কোটি মানুষের মোট সম্পদের সমান। আর এ সম্পদ রয়েছে মাত্র ১২ জন ধনকুবেরের হাতে। যেখানে প্রতি ৪ জনে ১ জনই এখন ক্ষুধার্ত! প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত বছর বিশ্বে ধনকুবেরের সংখ্যা প্রথমবারের মতো ৩ হাজার ছাড়িয়েছে। টেসলাপ্রধান ইলন মাস্ক বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি হিসাবে অর্ধ-ট্রিলিয়ন ডলার সম্পদের মালিক হওয়ার রেকর্ড গড়েছেন। দাভোসের সম্মেলনে বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতারা মিলিত হলেও, অক্সফাম সতর্ক করেছে-অতি ধনীদের এই আধিপত্য গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অক্সফাম ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী পরিচালক অমিতাভ বেহার বলেন, রাজনীতি ও অর্থনীতির ওপর অতি ধনীদের এই অস্বাভাবিক প্রভাব বৈষম্যকে আরও গভীর করেছে এবং দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্য থেকে বিশ্বকে বিচ্যুত করছে। অমিতাভও মনে করেন, ধনকুবেররা এখন সরাসরি বিচারক বা নির্বাচনকেও প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখছে। যা সাধারণ মানুষের অধিকারকে সংকুচিত করছে। দারিদ্র্য কমানো কঠিন করে তুলেছে। বিশ্বজুড়ে চলমান অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে সাধারণ মানুষের জীবন যখন ‘অসহনীয়’ হয়ে উঠছে, তখন সরকারগুলো ধনীদের স্বার্থ রক্ষায় বেশি ব্যস্ত বলে অক্সফাম অভিযোগ করেছে। অমিতাভ বলেন, ‘সরকারগুলোর মানুষের চাহিদার দিকে মনোযোগ দেওয়া দরকার, যেমন : মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপসহ আরও কিছু কার্যক্রম।’ গত বছর ৬৮টি দেশে অন্তত ১৪২টি বড় ধরনের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে দমনের চেষ্টা করা হয়েছে। সংস্থাটির মতে, এই চরম অর্থনৈতিক বৈষম্য সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে এবং গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎকে এক অনিশ্চিত ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

সুইজারল্যান্ডের সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির যুব শাখা ইয়াং সোশ্যালিস্টসের নাথালি রুয়াস বলেন, ‘গণতান্ত্রিক বৈধতা ছাড়াই দাভোসে বসে গুটিকয়েক মানুষ পুরো বিশ্বের ভাগ্য নির্ধারণ করেন, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম