ভারতে একসঙ্গে ১৫ মসজিদে তালা
Advertisement
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অরুণাচল প্রদেশে একসঙ্গে ১৫টি মসজিদ সিলগালা করাকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে। রাজ্য সরকারের দাবি, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া নির্মিত হওয়ায় এসব স্থাপনার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনাটি ঘিরে অবৈধ অভিবাসন, জনসংখ্যাগত পরিবর্তন এবং স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষার প্রশ্নও সামনে এসেছে।
রাজধানী ইটানগর ও আশপাশের এলাকায় পরিচালিত এক সরকারি জরিপে অনুমোদনহীন ১৫টি মসজিদ স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়। পরে জেলা প্রশাসন আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে একে একে সেসব স্থাপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। শেষ পর্যন্ত সবকটি স্থাপনাই সিলগালা বা খালি করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার। স্থানীয় আদিবাসী সংগঠন অরুণাচল প্রদেশ ইন্ডিজেনাস ইয়ুথ অরগানাইজেশন দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছিল যে, রাজধানী অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে অনুমতি ছাড়া ধর্মীয় স্থাপনা গড়ে উঠছে। একই সঙ্গে তারা অবৈধ বসতি স্থাপন এবং জনসংখ্যাগত ভারসাম্য পরিবর্তনের আশঙ্কার কথাও তুলে ধরে। এসব দাবির সমর্থনে সংগঠনটি এর আগে ২৪ ঘণ্টার বন্ধ কর্মসূচিও পালন করে। রাজ্য সরকারের মুখপাত্র ও শিক্ষামন্ত্রী পি ডি সোনা জানিয়েছেন, চলতি বছরের শুরুতে সংগঠনটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী পেমার বৈঠকে বিষয়টি প্রথম গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় আসে। এরপর জেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়।? সরকারি তদন্তে অনুমোদনহীন স্থাপনার বিষয়টি সামনে আসার পর প্রশাসন ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেয়। প্রথম পর্যায়ে অধিকাংশ স্থাপনার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়। পরে মুখ্যমন্ত্রী ও আদিবাসী সংগঠনের নেতাদের আরেক দফা বৈঠকের পর বাকি স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়। পি ডি সোনা বলেছেন, যেসব দাবি সামনে রেখে বন্ধ কর্মসূচি পালন করা হয়েছিল, সেগুলোর বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে আইনসম্মত পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রশাসনের কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। এদিকে ঘটনাটি অরুণাচল প্রদেশে দীর্ঘদিনের জনসংখ্যাগত উদ্বেগকে আবারও আলোচনায় নিয়ে এসেছে। স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠন বলছে, সীমান্তবর্তী এই রাজ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং অনিয়ন্ত্রিত বসতি স্থাপনের কারণে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ও সামাজিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর আহ্বানে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও বিষয়টি গুরত্ব পায়। সেখানে ছাত্র সংগঠন, নাগরিক সমাজ, আইন বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
