‘ককরোচ’ পার্টির বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি
আটক ৬ * ভারতজুড়ে বিক্ষোভের হুমকি * লক্ষ্য পূরণ না হলে ১৩ জুন আবারও সমাবেশের ঘোষণা
Advertisement
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু করেছে দেশটির তরুণদের নবগঠিত দল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। শনিবার সকাল থেকেই জনসমাগমের ঢল নেমেছে নয়াদিল্লির জন্তর মন্তরে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সমর্থকদের উপস্থিতিতে আন্দোলনস্থল পরিণত হয়েছে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
দলটি জানিয়েছে, দিল্লি পুলিশ শেষ পর্যন্ত এ বিক্ষোভের অনুমতি দিয়েছে। সকাল থেকেই জাতীয় পতাকা ও বই হাতে নিয়ে বহু মানুষ আন্দোলনস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন। শিক্ষাব্যবস্থায় অনিয়ম, বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং জবাবদিহিতার দাবিকে সামনে রেখেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে বলে দলটির নেতারা জানিয়েছেন। শনিবার সকাল ১০টা নাগাদ যুক্তরাষ্ট্র থেকে দিল্লিতে পৌঁছান ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। বিমানবন্দর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি সমর্থকদের শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ আন্দোলনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ভালোবাসা ও শান্তির পথেই এই আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে হবে। পাশাপাশি তিনি সমর্থকদের সঙ্গে বই ও জাতীয় পতাকা রাখার আহ্বান জানান। গত সপ্তাহে অভিজিৎ দীপকে ঘোষণা করেন, শিক্ষা খাতে দুর্নীতি ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে। সেই দাবিকে সামনে রেখেই ৬ জুন দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ডাক দেন তিনি। বিক্ষোভে সমর্থকদের উদ্দেশে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, ‘আপনারা হয়তো আমাদের পোস্ট মুছে ফেলতে পারবেন। কিন্তু এই জায়গা থেকে আমাদের মুছে ফেলতে পারবেন না। আরশোলারা ভয় পায় না। তারা মরেও না। আমাদের এ লড়াই চলবে।’ সমাবেশে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করলে ১৩ জুন আবারও সমাবেশ করা হবে। সিজেপির বিক্ষোভে যোগ দেন লাদাখের শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকও। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ওয়াংচুককে শিক্ষামন্ত্রী করার দাবিতে স্লোগান দেন। ওয়াংচুক বলেন, পদত্যাগের দাবি কেবল শুরু। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার করা। পরীক্ষায় অনিয়ম এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস অনেক গভীর সমস্যার একটি লক্ষণ মাত্র। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার ব্যাপক সংস্কার করা প্রয়োজন। এদিকে উত্তেজনা এড়াতে ছয়জনকে দিল্লি পুলিশ আটক করেছে বলে জানা গেছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনলাইনভিত্তিক এই আন্দোলনের সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে ওই ছয়জনকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভস্থলের আশপাশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করার অভিযোগ রয়েছে। বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লিজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, রাজধানীর প্রবেশপথ, গুরুত্বপূর্ণ মোড়, বাজার ও সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড বসিয়ে তল্লাশি কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দলের মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, জন্তর মন্তরে কর্মসূচি পালনের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি পাওয়া গেছে। এর আগে দিল্লি পুলিশ বলেছিল, তাদের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা না পড়লেও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রচারণার কারণে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এক হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। আন্দোলন ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। দলটির ডিজিটাল শাখার মুখপাত্র আশুতোষ রানকা দাবি করেছেন, আজকের (শনিবার) দিনটি ভারতের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উসমান শেখ বলেন, আন্দোলনের উদ্দেশ্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা অবশ্যই শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন। অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুলসংখ্যক সদস্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমর্থন অর্জন করে ককরোচ জনতা পার্টি, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। ফলে এই বিক্ষোভ শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং দেশের নতুন প্রজন্মের ক্ষোভ, প্রত্যাশা ও অংশগ্রহণের একটি বড় বহিঃপ্রকাশ হিসাবে দেখা হচ্ছে।
