বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েন করবে পাকিস্তান
কৌশলগত তৎপরতা বাড়াচ্ছে ইসলামাবাদ * ৮টি সাবমেরিন অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
পাকিস্তানের নৌবাহিনীর জন্য ‘পিএনএস হাঙ্গর’ নামের একটি সাবমেরিন তৈরি করেছে চীন। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েন করার পরিকল্পনা করছে পাকিস্তান। এই কৌশলগত পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করেছেন দেশটির নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা কমোডর ওমর ফারুক। বৃহস্পতিবার ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের নৌবাহিনীর জন্য ‘পিএনএস হাঙ্গর’ নামের একটি সাবমেরিন তৈরি করেছে চীন। সাবমেরিন চীনে কমিশনিং (আনুষ্ঠানিক অন্তর্ভুক্তি) হয়ে গত সপ্তাহে করাচিতেও পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।
সাবমেরিনটিকে নিয়ে আসতে নৌবাহিনীর একটি বহর নিয়ে চীনে গিয়েছিলেন কমোডর ওমর ফারুক। ফিরে আসার পথে শ্রীলংকার রাজধানী কলম্বোতে যাত্রাবিরতি নেন। সেখানে শ্রীলংকার দৈনিক দ্য মর্নিংকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হাঙ্গর-শ্রেণির সাবমেরিন অন্তর্ভুক্তি পাকিস্তানকে বঙ্গোপসাগরে নিজেদের উপস্থিতি বজায় রাখার সক্ষমতা দেবে।
ফারুক পিএনএস হাঙ্গরকে একটি ‘গেম চেঞ্জার’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন, পাকিস্তান এই শ্রেণির ৮টি সাবমেরিন অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে। যার ৪টি চীনে এবং বাকি ৪টি প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে পাকিস্তানে তৈরি হবে।
মূলত হাঙ্গর নামের সঙ্গে ইতিহাস জড়িয়ে আছে। ১৯৭১ সালের আগে বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানি সাবমেরিন মোতায়েন ছিল। সেটির নামও ছিল পিএনএস হাঙ্গর। ১৯৭১ সালের যুদ্ধে বঙ্গোপসাগরে ভারতীয় নৌবাহিনীর সাবমেরিন আইএনএস খুকরিকে ডুবিয়ে দিয়েছিল পিএনএস হাঙ্গর। তবে সেই যুদ্ধে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনীর কাছে পরাজয়ের পর পাকিস্তান বঙ্গোপসাগর ছেড়ে চলে যায়।
এর পর থেকে পাকিস্তানি নৌ উপস্থিতি মূলত উত্তর আরব সাগরেই সীমাবদ্ধ ছিল। ১৯৭১ সালের সেই রক্তাক্ত সংঘর্ষের ৫৫ বছর পর আবারও পাকিস্তানি হাঙ্গর খবরের শিরোনামে।
এই সাবমেরিনগুলো ‘এয়ার ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রপেলার’ (এআইপি) প্রযুক্তিসমৃদ্ধ, যার ফলে এগুলো পানির রিফুয়েলিং বা অক্সিজেন ছাড়াই দীর্ঘ সময় পানির নিচে লুকিয়ে থাকতে পারে।
