আসছে স্মরণকালের সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো
নজিরবিহীন ঘটনা, বলছেন বিশেষজ্ঞরা
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রশান্ত মহাসাগরে যে এল নিনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে, তা স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী হতে পারে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তর। প্রকৃতির এ শক্তিশালী জলবায়ু-ঘটনাক্রম বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং চরম আবহাওয়ার ঝুঁকিও বৃদ্ধি করতে পারে।
শুক্রবার বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, মানুষের কর্মকাণ্ডের ফলে সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের সঙ্গে এটি যুক্ত হয়ে ২০২৭ সালকে বিশ্বজুড়ে রেকর্ড করা ইতিহাসের উষ্ণতম বছরে পরিণত করতে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে সতর্ক করা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার ধরনে যে ইতোমধ্যেই প্রভাব পড়ছে, তার প্রমাণ ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। যেমন : ভারতে স্বাভাবিকের চেয়ে কম মৌসুমি বৃষ্টিপাত ও আটলান্টিক মহাসাগরে হারিকেনের সক্রিয়তা কমে যাওয়া।
এল নিনোর প্রভাবে যুক্তরাজ্যে আর্দ্র ও ঝড়ো আবহাওয়াপূর্ণ শরৎকাল আসার ঝুঁকি বাড়তে পারে। দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে ইতোমধ্যেই অত্যন্ত অস্থিতিশীল আবহাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। যুক্তরাজ্যের মেট অফিসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস বিভাগের প্রধান অধ্যাপক অ্যাডাম স্কেইফ বলেন, ‘আমাদের স্পষ্টভাবে বুঝতে হবে যে এটি একটি নজিরবিহীন ঘটনা। আমাদের পূর্বাভাসে এল নিনোর এমন তীব্র কোনো সংকেত আমি আগে কখনো দেখিনি।’ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এল নিনো সৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়ছে কি না, তার কোনো স্পষ্ট প্রমাণ নেই। তবে উষ্ণ হতে থাকা পৃথিবীতে এর ফলে সৃষ্ট আবহাওয়াজনিত প্রভাব আরও চরম আকার ধারণ করার আশঙ্কা রয়েছে। এল নিনো হলো প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট একটি আবহাওয়ার ধরন, যা সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর অন্তর ঘটে। এটি প্রায় এক বছর স্থায়ী হয়। এর প্রভাবে প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর দিয়ে সাধারণত পূর্ব থেকে পশ্চিমে প্রবাহিত বায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে অথবা বিপরীতমুখী হয়। ফলে উষ্ণ জলরাশি পূর্বদিকে ছড়িয়ে পড়ে। মহাসাগর থেকে বায়ুমণ্ডলে তাপ নির্গত হওয়ার ফলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়; পরিবর্তন আসে বৃষ্টিপাতের ধরনে।
বিজ্ঞানীরা সাধারণত প্রশান্ত মহাসাগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা দীর্ঘমেয়াদি গড়ের চেয়ে ০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি বেড়ে গেলে ‘এল নিনো’ ঘোষণা করেন। বর্তমান পরিমাপ অনুযায়ী, এ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি। যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তর বা মেট অফিসের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, এল নিনো যখন তার সর্বোচ্চ তীব্রতায় পৌঁছাবে, তখন এ তাপমাত্রা বৃদ্ধির পরিমাণ ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসও ছাড়িয়ে যেতে পারে। মেট অফিসের মতে, ১৯৫০ সাল থেকে এ পর্যন্ত রাখা নথিপত্রের হিসাবে এটি হবে নজিরবিহীন ঘটনা। সম্ভবত ঊনবিংশ শতাব্দীর পর সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো। সমুদ্রের গভীর স্তরে অত্যধিক তাপমাত্রা এবং কিছু জায়গায় ১০০ মিটার (৩৩০ ফুট) গভীরে স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি এ এল নিনোকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে।
