দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা
পালটা শুল্ক অটোয়ার
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে কানাডার। এমন আশঙ্কার মধ্যেই মঙ্গলবার থেকে দেশটির বিভিন্ন পণ্যের ওপর কানাডার পালটা শুল্ক কার্যকর হয়েছে। তবে এ মুহূর্তে দুদেশের মধ্যে কোনো বাণিজ্য চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না। কানাডার নতুন পালটা শুল্ক যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা প্রায় ২৮ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার (প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ১৫ বিলিয়ন পাউন্ড) মূল্যের পণ্যের ওপর আরোপ করা হয়েছে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে ইস্পাত, আসবাবপত্র। এমনকি কোনো কোনো পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্কের হার ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। খবর বিবিসির।
২০২৫ সালে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৯০০ বিলিয়ন ডলার। এটিই বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্কগুলোর একটি। নতুন মার্কিন শুল্ক এবং কানাডার পালটা শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর দুদেশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন সামনে কী হতে যাচ্ছে, তা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। বর্তমানে কানাডার গাড়ি ও ট্রাকের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। পাশাপাশি কানাডার ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও কাঠের ওপরও শুল্ক রয়েছে।
আগস্টের শেষদিকে ট্রাম্প আরও কিছু পণ্যের ওপর নতুন করে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে দুগ্ধজাত পণ্য, অ্যালকোহল, হকিস্টিক ও পারফিউম। কার্নি যাকে ‘ডলার-ফর-ডলার’ পালটা ব্যবস্থা হিসাবে বর্ণনা করেছেন, সেই কানাডীয় পালটা শুল্ক মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শত শত পণ্যের ওপর কার্যকর হয়েছে। কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র-দুদেশের কর্মকর্তারাই জানিয়েছেন, তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী। কিন্তু আগস্টের শেষদিকে বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর এখনো তা পুনরায় শুরু করার কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। এরই মধ্যে সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, কানাডার বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোম্বারডিয়ারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। বোম্বারডিয়ার কানাডার অন্যতম বড় প্রতিষ্ঠান। সপ্তাহান্তে ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে একাধিক পোস্টে কানাডার সমালোচনা করেন। এর একটিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার বিনিময় হার ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন। এর বাইরে কানাডা আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি কিছু গাড়ি ও ট্রাকের ওপর পালটা শুল্ক আরোপ করে আসছে। জনমত জরিপগুলো বলছে, অধিকাংশ কানাডীয় নাগরিকই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পালটা শুল্ক আরোপের পক্ষে।
