সাতজনের সংসার, খাবার জোটে একবেলা
ভয়াবহ সংকটে গাজার বাস্তুচ্যুত পরিবার
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গাজার বাস্তুচ্যুত শিবিরে মেরভাত রাদওয়ানের পরিবারে স্বস্তি আসে যখন তিনি জানতে পারেন, স্থানীয় কমিউনিটি রান্নাঘরে খাবার দেওয়া হবে। সেদিন একটি হাঁড়ি হাতে ছয় বছর বয়সি ভাতিজা উবাইকে সঙ্গে নিয়ে রান্নাঘরের দিকে ছুটে যান তিনি। তবে সাত সদস্যের পরিবারের জন্য সেই খাবারও যথেষ্ট নয়। তবুও একবেলার খাবার পেলেই যেন খুশি তার পরিবার।
গাজার অনেক পরিবারের মতো মেরভাতের পরিবারও কমিউনিটি রান্নাঘরের খাবারের ওপরই নির্ভরশীল। কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অর্থ সংকট ও পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এসব রান্নাঘরের কার্যক্রম অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয়বিষয়ক দপ্তরের (ওসিএইচএ) তথ্যানুযায়ী, মার্চের মাঝামাঝি গাজায় ১৬৫টি কমিউনিটি রান্নাঘর থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৫ লাখ খাবার সরবরাহ করা হতো। জুলাইয়ে রান্নাঘরের সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ১০২টিতে, আর দৈনিক খাবার সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ৬ লাখ ৯৮ হাজারে। ফলে ভয়াবহ খাদ্য সংকটে দিন কাটাচ্ছে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো। নয় মাস ধরে দেইর আল-বালাহ এলাকায় একটি তাঁবুতে মেরভাত, তার ৭০ বছর বয়সি বাবা, ৪০ বছর বয়সি বোন সানাসহ তিন ভাতিজা বসবাস করছে। পরিবারের কারও নিয়মিত আয় নেই। তাই খাবার ও অন্য প্রয়োজন মেটাতে তাদের পুরোপুরি ত্রাণ ও দাতব্য সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। পরিবারে খাবারের সংকট দেখা দিলে বড়রা নিজেদের খাবার কমিয়ে দেন, যাতে শিশুরা অন্তত পেট ভরে খেতে পারে। গাজায় এখন মাংস অনেক পরিবারের নাগালের বাইরে। তাজা সবজি পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। কোনো কোনো সংগঠন মাঝেমধ্যে সবজি বিতরণ করলেও সেই সরবরাহ নিয়মিত নয়। খাদ্য সংকটের মধ্যেই গাজায় দখলও বাড়াচ্ছে ইসরাইল। গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে আরও প্রকাশ্যে কথা বলছেন ইসরাইলের উগ্র-ডানপন্থি মন্ত্রীরা। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কার্তজ বলেছেন, গাজার ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়াই ‘একমাত্র সমাধান’। এদিকে পশ্চিম তীরেও হামলা জোরদার ও দখল বাড়িয়েছে বর্বর সেনারা। অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলা বাড়ায় সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়েও তাদের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে আছেন ফিলিস্তিনি অভিভাবকরা। চলতি বছর গ্রামটিতে বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও ইসরাইলি বাহিনীর অভিযানে ছয়জন নিহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে তিনজন শিক্ষার্থী।
ইসরাইলি অবৈধ বসতিতে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করছে যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স-কানাডা : অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। মঙ্গলবার এ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে। ব্রিটিশ সরকারের দাবি, দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি সমর্থনের অংশ হিসাবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এর বিরোধিতা করেছে। ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ এ সিদ্ধান্তকে ‘গুরুতর ভুল’ বলে মন্তব্য করেছেন। দেশটির অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারেরও আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে ফ্রান্স ও কানাডাও একই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছে আলজাজিরা।
