দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
হেনস্তা করা হয়েছে তিন নারী সাংবাদিককে
Advertisement
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ভারতের রাজধানী দিল্লির রাজপথে বিক্ষোভ ঘিরে এবার গুরুতর অভিযোগ উঠল পুলিশের বিরুদ্ধে। বিক্ষোভের খবর করতে গিয়ে তিন নারী সাংবাদিক যৌন হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য বিষয়টি ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
দিল্লি পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়, ৩ অক্টোবর নিউ দিল্লি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যে তিন নারী সাংবাদিক পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ করেন। নিউ দিল্লি জেলা পুলিশ তাদের অভিযোগ গ্রহণ করেছে। পরে ন্যায়সঙ্গত ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য অভিযোগগুলো ক্রাইম ব্রাঞ্চে পাঠানো হয়েছে। তিন সাংবাদিকই ফ্রিল্যান্সার এবং নিজেদের সংবাদ পোর্টালের সঙ্গে যুক্ত বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ২ অক্টোবরের পর ৩ অক্টোবরও দিল্লিতে বিক্ষোভ হয়। সেই বিক্ষোভের খবর করতেই ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন তারা। এক সাংবাদিকের অভিযোগ, নারী বিক্ষোভকারীদের আটকের সময় ঘটনাস্থলে কোনো নারী পুলিশকর্মী ছিলেন না। পুরুষ পুলিশকর্মীরা নারী আন্দোলনকারীদের আটক করছিলেন। বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানাতেই এক পুলিশকর্মী তাকে ধাক্কা দেন এবং তার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন। তিনি ওই পুলিশকর্মীর কাছে প্রতিবাদ জানালে অভিযুক্ত পুলিশকর্মী সেখান থেকে চলে যান। অন্য এক নারী ভিডিও সাংবাদিকের অভিযোগ আরও গুরুতর। তার দাবি, ৩ অক্টোবর বিকেল ৩টা নাগাদ অশোকা রোডে তিনি বিক্ষোভের ছবি তুলছিলেন। যোগেন্দ্র যাদব এবং প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণকে আটক করার ছবি তুলতে গিয়ে আচমকাই তিনি পেছন থেকে আপত্তিকর স্পর্শ অনুভব করেন। তার অভিযোগ, কেউ তার শরীরে অনৈতিক উদ্দেশ্যে ঘষা দিচ্ছিলেন। সরে যাওয়ার চেষ্টা করেও পরিস্থিতি থেকে তিনি বেরোতে পারেননি। পরে ঘুরে তাকিয়ে কাছেই এক পুলিশকর্মীকে দেখতে পান। অভিযোগকারী ওই পুলিশকর্মীর কাছে প্রতিবাদ জানালে তিনি অভিযোগটি গুরুত্ব দিয়ে দেখেননি। ঘটনার প্রতিবাদে সন্ধ্যায় ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক এবং বিভিন্ন সংবাদ পোর্টালের প্রতিনিধিরা পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার বাইরে জড়ো হন। অভিযুক্ত পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠে। তিন নারী সাংবাদিক থানায় লিখিত অভিযোগও জমা দেন। ঘটনার সূত্রপাত জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবিতে চলা বিক্ষোভকে ঘিরে। শনিবার দেড় শতাধিক মানুষকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন আইসা-র সভানেত্রী নেহা বোরাও।
