রাহুল গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ
নির্মম পুলিশি হেনস্তার বর্ণনা মুসলিম নারী সাংবাদিকের
নারী সাংবাদিককে হেনস্তা করে পুরস্কৃত পুলিশ
Advertisement
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন নির্যাতনের শিকার দুই নারী সাংবাদিক-শাহীন খান ও নাফিসা খান। এ সময় তারা জানান, ধর্মপরিচয়ের ভিত্তিতে এবং প্রশ্ন করার জেরে দিল্লি পুলিশ তাদের ওপর অবর্ণনীয় নির্যাতন চালিয়েছে। তারা যৌন হেনস্তার শিকার হয়েছেন। দুই সাংবাদিক তাদের হাতে আঘাতের চিহ্নও দেখান।
এ অবস্থায় দিল্লির সাকেত থানায় ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম ফোর পিএম নিউজ নেটওয়ার্কের এ দুই সাংবাদিককে আটক করে মারধর ও হয়রানির অভিযোগ ঘিরে সরব হয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি সাকেত থানার পুরো সিসিটিভি ফুটেজ জনসমক্ষে প্রকাশ এবং অভিযোগে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
শাহীন খান ও নাফিসা খানের অভিযোগ, ৩ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার একটি কর্মসূচির সময় তাদের একটি হাসপাতালের বাইরে থেকে টেনেহিঁচড়ে সাকেত থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কথিত সাইকেল দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন করার চেষ্টা করলে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। এ সাংবাদিকের অভিযোগ, মুসলিম নাম জানার পরই এক পুলিশ কর্মকর্তা তাদের সঙ্গে আরও দুর্ব্যবহার করেন। তাকে উদ্দেশ করে মুসলিম পরিচয় নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য এবং মারধরের অভিযোগও করা হয়েছে। পরে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়।
এদিকে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে নারী সাংবাদিকদের নিগ্রহের অভিযোগের তদন্ত চলার মধ্যেই অভিযুক্ত এক পুলিশ কর্মকর্তার পদোন্নতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সহকারী পুলিশ কমিশনার পদে থাকা বিবেক ভগতকে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার পদে উন্নীত করা হয়েছে। এক নারী সাংবাদিক সরাসরি বিবেক ভগতের বিরুদ্ধে হেনস্তার লিখিত অভিযোগ তোলেন। ৩ অক্টোবর ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে যন্তর মন্তরে চলা প্রতিবাদ কর্মসূচির সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে তিন নারী সাংবাদিক পুলিশের বিরুদ্ধে নিগ্রহ ও যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন। পরে বিষয়টি তদন্তের জন্য দিল্লি পুলিশের অপরাধ শাখার কাছে পাঠানো হয়। অভিযোগের তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই অভিযুক্ত কর্মকর্তার পদোন্নতি হওয়ায় পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারী এক নারী সাংবাদিক জানান, ওই দিন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভানেত্রী নেহা বোরাকে পুলিশ আটক করার সময় তিনি ঘটনাটির সংবাদ সংগ্রহ করছিলেন। সেখানে নারী পুলিশ সদস্য না থাকায় পুরুষ পুলিশ সদস্যরা কেন এক নারী আন্দোলনকারীকে ধরছেন, সে বিষয়ে তিনি প্রশ্ন করেন। অভিযোগ, এ সময় সহকারী পুলিশ কমিশনার বিবেক ভগত তার ওপর চড়াও হন। তাকে যৌন হেনস্তা করা হয় এবং ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়।
