মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদিকে সহায়তা
যুদ্ধে নামছে পাকিস্তান-তুরস্ক
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা মোকাবিলায় পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় ‘প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা’ কার্যকর করতে এবং উপসাগরীয় দেশটিতে দ্রুত সেনা মোতায়েন করতে তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব সম্মত হয়েছে। রিয়াদে এ তিন দেশের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে এক জরুরি বৈঠকের পর সোমবার এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত হওয়ার পর এ প্রথমবার ‘মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ বা ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’র বিধান কার্যকর করা হলো।
সোমবার আল জাজিরা এ খবর জানায়। চুক্তি অনুযায়ী, এ তিন দেশের কোনো একটির ওপর হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসাবে গণ্য করা হবে-যা অনেকটা ন্যাটোর প্রতিষ্ঠাতা চুক্তির মূল বিধানের অনুরূপ। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, ‘জোটের কাঠামোর মধ্যে থেকে সম্মিলিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা কার্যকর করতে কমিটি সম্মত হয়েছে। এসব হামলা ও এর জন্য দায়ী-সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই এ সিদ্ধান্ত।’ তিনি বলেন, এ জোট ‘সৌদি আরব এবং পবিত্র স্থানগুলোর ওপর চালানো জঘন্য হামলার মোকাবিলায় আমাদের দেশগুলোর সংহতি ও ঐক্যকে পুনর্ব্যক্ত করেছে।’
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত একটি পৃথক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, সৌদি আরবে প্রয়োজনীয় সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা সরবরাহ এবং সেগুলোর দ্রুত মোতায়েন নিশ্চিত করার বিষয়ে দেশ তিনটি সম্মত হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ প্রতিশ্রুতিগুলো ‘অনুমোদিত ব্যবস্থা’ এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নিজস্ব আইন মেনে বাস্তবায়ন করা হবে।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সরকারের অনুগত বাহিনী গত মাসে ইরান-সমর্থিত হুথিদের দখলে যাওয়া এলাকা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে পালটা অভিযান শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এ ঘোষণাগুলো এলো। সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনী জানিয়েছে, তারা লোহিত সাগরের তীরবর্তী বন্দরনগরী মোচা পুনরুদ্ধার করেছে এবং বর্তমানে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে রয়েছে।
এ উত্তেজনার মধ্যে হুথিরা সৌদি আরবে বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। মঙ্গলবার আল জাজিরা জানায়, বেসামরিক বিমান চলাচলের স্থাপনাগুলোর ওপর সর্বশেষ হামলা হিসাবে সৌদি আরবের আসির প্রদেশে আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা হয়েছে। সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক্স-এ এক বিবৃতিতে বলেন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি ‘সঠিকভাবে ও সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে; ফলে বিমানবন্দরে বিমান চলাচল ব্যাহত হয়।’ তিনি বলেন, ‘সৌদি আকাশসীমা এখন আমাদের সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে; তাই সেখানে ফ্লাইট পরিচালনা অব্যাহত রাখার পরিণতির বিষয়ে আমরা বিশ্বজুড়ে সব বিমান সংস্থাকে আবারও সতর্ক করছি।’ এর আগে সোমবার রাতে জাজান ও নাজরান বিমানবন্দরেও হামলা হয়, যাতে বেশ কয়েকজন আহত হন; ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে।
অপরদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি জানান, ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হুতিদের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়েছে এবং হোদেইদাহ এলাকায় বিদ্রোহীদের অবস্থান লক্ষ্য করেও বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে-বিশেষ করে লোহিত সাগরের উপকূল ও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ শহর তাইজকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে তীব্র লড়াই চলছে। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সরকারি বাহিনী জানিয়েছে, তারা তাইজের দক্ষিণে অবস্থিত হাইফান এলাকার আল-মানজারা, আল-আশারি ও ধিবান পাহাড়গুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন। পাকিস্তানের এক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আল জাজিরাকে বলেন, এ চুক্তির লক্ষ্য হলো প্রতিরোধ ক্ষমতা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার মাধ্যমে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।
