Logo
Logo
×
   

টিউটোরিয়াল

জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫

বাংলা প্রশ্নের ধরন ও নম্বর বিভাজন

Icon

দেওয়ান সামছুর রহমান, সিনিয়র শিক্ষক, গোয়ালপাড়া হাইস্কুল, সোনারগাঁ

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

আজ আমরা জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ধারাবাহিক আলোচনার প্রথমে বাংলা বিষয়ের ওপর জানব। বাংলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বাংলা বিষয়ে মোট নম্বর ১০০ এবং সময় থাকবে তিন ঘণ্টা। বাংলা দুই পত্রে বিভক্ত- প্রথমপত্রে থাকবে গদ্য ও পদ্যাংশ, আর দ্বিতীয়পত্রে থাকবে ব্যাকরণ ও রচনা। প্রতিটি অংশ থেকে প্রশ্ন আসে, তাই এ বিষয়ে বেশি গুরুত্ব না দিয়ে অবহেলা করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব হবে না। এজন্য গদ্য, পদ্য, ব্যাকরণ ও নির্মিতি- সব অংশই সমান গুরুত্ব দিয়ে আয়ত্ত করা দরকার।

বাংলা প্রথম পত্রের গদ্যাংশে মোট ১২টি গদ্য রয়েছে। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অতিথির স্মৃতি দিয়ে শুরু। আরও আছে কাজী নজরুল ইসলামের ভাব ও কাজ, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পড়ে পাওয়া, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈলচিত্রের ভূত, মোতাহের হোসেন চৌধুরীর লাইব্রেরি, মমতাজউদ্দীন আহমদের সুখী মানুষ, মুস্তফা মনোয়ারের শিল্পকলার নানা দিক, বিপ্রদাশ বড়ুয়ার মংডুর পথে, শামসুজ্জামান খানের বাংলা নববর্ষ, হুমায়ুন আজাদের বাংলা ভাষার জন্মকথা আর সংকলিত লেখা গণঅভ্যুত্থানের কথা ইত্যাদি।

পদ্যাংশে মূলত কবি ও কবিতার নাম মুখস্থ রাখার পাশাপাশি মূলভাব বোঝা জরুরি। লালন শাহের মানবধর্ম, মাইকেল মধুসূদন দত্তের বঙ্গভূমির প্রতি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দুই বিঘা জমি, কামিনী রায়ের পাছে লোকে কিছু বলে, কায়কোবাদ রচিত প্রার্থনা, কালিদাস রায়ের বাবুরের মহত্ত্ব, নজরুল ইসলামের নারী, জীবনানন্দ দাশের আবার আসিব ফিরে, জসীমউদ্দীনের রূপাই, বুদ্ধদেব বসুর নদীর স্বপ্ন, সুফিয়া কামালের জাগো তবে অরণ্য কন্যারা, সুকান্ত ভট্টাচার্যের প্রার্থী এবং আবদুল গাফফার চৌধুরীর একুশের গান।

বাংলা দ্বিতীয় পত্রের ব্যাকরণ অংশ নিয়মিত অনুশীলন করা ছাড়া উপায় নেই। সাধু ও চলিত রীতির পার্থক্য, ধ্বনি ও বর্ণ, সন্ধি, শব্দ ও পদ, লিঙ্গান্তর, ক্রিয়ার কাল, শব্দ গঠন, বাক্য, বিরামচিহ্ন সমার্থক-বিপরীত শব্দ, বাগধারা- এসব তালিকা আকারে লিখে প্রতিদিন রিভিশন শুরু কর। বাক্য রূপান্তর সরল, জটিল, যৌগিক বাক্য, খণ্ড বাক্য, স্বাধীন ও অধীন খণ্ডবাক্য ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে। শুদ্ধ বানান চর্চা করলে নম্বর হারানোর সম্ভাবনা কম থাকবে।

প্রবন্ধ রচনা, ভাবসম্প্রসারণ, সারাংশ/ সারমর্ম, চিঠি- এগুলো আগে থেকে কয়েকবার অনুশীলন করলে পরীক্ষায় সহজ মনে হবে। লেখা হতে হবে সুন্দর ও পরিষ্কার। হাতের লেখার কারণে পরীক্ষক প্রথমেই লেখার সৌন্দর্যে প্রভাবিত হন। নৈর্ব্যক্তিক অংশে অধিক মনোযোগী হতে হবে এবং পূর্ণ নম্বর আয়ত্ত করতে হবে। সতর্কতার সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পূর্ণ নম্বরের উত্তর করতে হবে।

বাংলা বিষয়ে মোট নম্বর ১০০। এই ১০০ নম্বর চারটি ভাগে বিভক্ত- বহুনির্বাচনি, সৃজনশীল, বর্ণনামূলক ও নির্মিতি।

বহুনির্বাচনি (২০ নম্বর) : এ অংশে মোট ২০টি প্রশ্ন থাকবে। গদ্য থেকে ৫টি (১x৫=৫), পদ্য থেকে ৫টি (১x৫=৫), এবং ব্যাকরণ থেকে ১০টি (১x১০=১০)।

সৃজনশীল (৪০ নম্বর) : এ অংশে গদ্য থেকে ২টি ও পদ্য থেকে ২টি- মোট ৪টি সৃজনশীল প্রশ্ন দেওয়া হবে। প্রতিটি প্রশ্ন ১০ নম্বর করে (১০x৪=৪০)। শিক্ষার্থীদের সবগুলো উত্তর দিতে হবে।

বর্ণনামূলক (১০ নম্বর) : এ অংশে আনন্দপাঠ থেকে ১টি প্রশ্ন থাকবে যার দুটি অংশ থাকবে। ক অংশে সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন থাকবে ৩ নম্বর এবং খ অংশে বর্ণনামূলক প্রশ্ন থাকবে ৭ নম্বর।

নির্মিতি (৩০ নম্বর) : এ অংশে বিভিন্ন রচনামূলক প্রশ্ন থাকবে।

পত্র রচনা ১টি (১x৫=৫), সারাংশ/ সারমর্ম ১টি, (১x৫=৫), ভাবসম্প্রসারণ ১টি, (১x৫=৫), প্রবন্ধ রচনা যে কোনো ২টি থেকে ১টি (১x১৫=১৫)।

এভাবে বাংলা বিষয়ে মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় ভালো করার মূলমন্ত্র হলো- পরিকল্পিত অধ্যয়ন, প্রতিদিনের অনুশীলন এবং আত্মবিশ্বাস। প্রথমে সহজ প্রশ্নগুলো সমাধান করো, তারপর কঠিন অংশে যাও। সময় ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখ। কাটাছেঁড়া, ঘষামাজা করবে না, সঠিকভাবে নং প্রশ্নের উত্তর লিখবে, নৈর্ব্যক্তিক অংশে বেশি জোর দিবে। সবকিছু মিলিয়ে বলা যায়- যত বেশি অনুশীলন করবে, তত বেশি আত্মবিশ্বাস বাড়বে। মনে রেখ, পরিশ্রমের বিকল্প নেই। আশা করি, তোমরা প্রত্যেকেই পরিশ্রম, নিয়মিত অনুশীলন এবং ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে পরীক্ষায় অসাধারণ সাফল্য অর্জন করবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম