Logo
Logo
×
   

Advertisement

টিউটোরিয়াল

অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা প্রথমপত্র

Advertisement

Icon

ড. সনজিত পাল, সিনিয়র শিক্ষক, সেন্ট গ্রেগরী হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা

প্রকাশ: ২৮ মে ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

ভাব ও কাজ

-কাজী নজরুল ইসলাম

বাংলা সাহিত্যে কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) বিদ্রোহী কবি হিসাবে খ্যাত। তার কবিতায় পরাধীনতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ উচ্চারিত হয়েছে। অবিচার ও শোষণের বিরুদ্ধে তিনি প্রবল প্রতিবাদ করেছেন। এজন্য তাকে বিদ্রোহী কবি বলা হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হলে ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে বাঙালি পল্টন থেকে কলকাতায় ফিরে তিনি সাহিত্যচর্চায় আত্মনিয়োগ করেন। তার রচনাবলি অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি সাম্যবাদী চেতনাভিত্তিক কবিতা, শ্যামাসংগীত, ইসলামি গান ও গজল লিখে প্রশংসা পেয়েছেন। তিনি আরবি-ফারসি শব্দের ব্যবহারে কুশলতা দেখিয়েছেন। মাত্র তেতাল্লিশ বছর বয়সে কঠিন রোগে আক্রান্ত হওয়ায় তার সাহিত্যসাধনায় ছেদ ঘটে। ১৯৭২ সালে কবিকে সপরিবারে ঢাকায় আনা হয়। ১৯৭৪ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি.লিট উপাধি লাভ করেন। ১৯৭৬ সালে তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ও একুশে পদক পান। তিনি আমাদের জাতীয় কবি। ‘ভাব ও কাজ’ কাজী নজরুল ইসলামের রচিত একটি প্রবন্ধ। এ প্রবন্ধে তিনি ভাব ও কাজের সম্পর্ক, পার্থক্য ও জাতীয় স্বার্থে এদের ব্যবহার করার কৌশল ও গুরুত্ব বর্ণনা করেছেন। কাজ ও ভাবের মধ্যে পার্থক্য অনেক। মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য ভাবের গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু শুধু ভাব দিয়ে মহৎ কিছু অর্জন করা যায় না। তার জন্য কর্মশক্তি এবং সঠিক উদ্যোগের দরকার হয়। ভাবের দ্বারা মানুষকে জাগিয়ে তোলা যায় কিন্তু যথাযথ পরিকল্পনা ও কাজের স্পৃহা ছাড়া যে কোনো ভালো উদ্যোগ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। স্বার্থপর এক শ্রেণির নেতা রয়েছে যারা নিজের জন্য একটি দেশের জাতীয় সম্পদ আবেগ বা আত্মার স্পিরিটকে অদূরদর্শিতার কারণে নষ্ট করে। এসব স্বার্থবাদী নেতারা প্রকৃত দেশপ্রেমিক নেতাদের দেশগড়ার কাজে যুক্ত হতে দেয় না। মুখোশধারী এসব নেতারা সাধারণ জনগণের আবেগকে নিজের জন্য কাজে লাগাতে গিয়ে প্রকৃত অর্থে দেশের ক্ষতি করে। আর এদের কারণে প্রকৃতি দেশপ্রেমিক ও নিঃস্বার্থ ঋষি নেতারা জনগণ থেকে দূরে সরে যায়। জনগণের উচিত আবেগে গা ভাসানোর আগে চোখ-কান খোলা রেখে নিজেদের আত্মশক্তিকে কাজে লাগানোর জন্য রাজপথে নামা। কেউ ডাকল আর অমনি চলে এলাম এবং বিনিময়ে লজ্জা পেলাম- এমন হলে দেশ ও জাতির কোনো মুক্তি আসবে না। তাই কাজ করার পরে না ভেবে, কাজের আগে ভাবনা করাই শ্রেয়। এ রচনাটিতে লেখক দেশের উন্নতি ও মুক্তি এবং মানুষের কল্যাণের জন্য ভাবের সঙ্গে বাস্তবধর্মী কর্মে তৎপর হওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন।

‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধের যে দিকগুলো ভালো করে পড়তে হবে-

‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক কাজ করার আগে ভাবতে বলেছেন। ভাবনা যদি সঠিক, সুশৃঙ্খল, সময়োপযোগী এবং দূরদর্শী কল্যাণের জন্য হয় তবে সে অনুসারে কাজে নামলে তাতে সফল হওয়া যাবে। এ প্রবন্ধটি বুঝার জন্য যে দিকগুলো ভালো করে পড়তে হবে তা তুলে ধরা হলো।

ভাব ও আবেগের স্বরূপ এবং একের সঙ্গে অপরের সম্পর্ক, ভাব যে ভাবে কাজে পরিণত হয়, ভাবের বাঁশি বাদককে যে কারণে নিঃস্বার্থ ঋষি হতে হবে, আবেগ অকারণে নষ্ট হওয়ার ক্ষতি, জাতীয় স্বার্থে আবেগ সংরক্ষণ রাখার প্রয়োজনীয়তা, আত্মশক্তি বা স্পিরিট কেন নষ্ট হয়, আত্মশক্তির অপব্যবহার দেশের জন্য কেন ক্ষতিকর, এটি নষ্ট করার জন্য কারা দায়ী, যারা দায়ী তাদের স্বভাব বা আচরণ কেমন, দেশপ্রেমিক নেতা ও মুখোশধারী নেতার প্রার্থক্য, কেন দেশপ্রেমিক নেতা জনগণের কাছে খেলো বলে পরিচিত হয়, আবেগ বা স্পিরিট ব্যবহারের আগে কেন সচেতন হওয়া উচিত, কেন আবেগ ব্যবহারে জ্ঞান হারানো উচিত নয়, কেন লক্ষ্য অনুসারে এগিয়ে ভিত্তিমূলে আঘাত করতে হবে ইত্যাদি।

অনুধাবন প্রশ্ন

১. ‘ভাব ও কাজের মধ্যে আসমান-জমিন তফাৎ’- বলা হয়েছে কেন?

২. ভাবকে অবাস্তব উচ্ছ্বাস মাত্র বলা হয়েছে কেন?

৩. ‘কাজ জিনিসটাই ভাবকে রূপ দেয়’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

৪. ‘ভাব জিনিসটা খুব ভালো’- কেন বলা হয়েছে?

৫. আমাদের দেশকে ভাব-পাগলা দেশ বলা হয়েছে কেন?

৬. ‘এও একটা মস্ত বদ’- খেয়াল- ব্যাখ্যা কর।

৭. ‘ভাবের কোনো সার্থকতা থাকে না’- কখন এবং কেন?

৮. ‘ভাবাবেশ কর্পূরের মতো উড়িয়া যায়’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

৯. ‘কার্যসিদ্ধি মানে কার্যসিদ্ধি নয়’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

১০. ‘তাহাকে নিঃস্বার্থ ত্যাগী ঋষি হইতে হইবে’- কাকে এবং কেন?

১১. ‘ভাবের বন্যা বহাইতে হইবে’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

১২. ‘লোকের কোমল অনুভূতিতে ঘা দেওয়া পাপ’- কেন?

১৩. ‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধে সোনার কাঠির ছোঁয়া- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

১৪. ‘তাহা অপেক্ষা বরং কুম্ভকর্ণের নিদ্রা ভালো’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

১৫. ‘এ কথাটা একটা মস্ত সত্যি, তাহা এতদিনে আমরা ঠেকিয়া শিখিয়াছি’- ব্যাখ্যা কর।

১৬. ‘স্পিরিটকে কী বিশ্রী ভাবেই না মুখ ভ্যাঙচানো হইল!’ - বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

১৭. ‘অনুশোচনাটা তাহারা কিছুতেই মন হইতে মুছিয়া ফেলিতে পারিবে না’- সপ্রসঙ্গ ব্যাখ্যা কর।

১৮. ‘রাগিবার কথা নয়, এখন ইহা রীতিমতো বিবেচনা সাপেক্ষ’- সপ্রসঙ্গ ব্যাখ্যা কর।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম