Logo
Logo
×

Advertisement

উপসম্পাদকীয়

সংসদ নির্বাচনের আগে ড্রেস রিহার্সেল

Advertisement

Icon

মোবায়েদুর রহমান

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সংসদ নির্বাচনের আগে ড্রেস রিহার্সেল

Advertisement

গত ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। এ নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দুটি প্যানেল ছিল বিএনপিসমর্থিত ছাত্রদলের প্যানেল এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসমর্থিত ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্যানেল।

সবাই জানেন, প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের চেয়ে ভোটের বিপুল ব্যবধানে ছাত্রশিবিরের প্যানেল জয়লাভ করেছে। ডাকসুর ২৮ পদের মধ্যে ভিপি, জিএস এবং এজিএসসহ ২৩ পদে নির্বাচিত হয়েছে শিবিরের ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’। নবনির্বাচিত ভিপি হলেন সাদিক কায়েম, জিএস এসএম ফরহাদ এবং এজিএস মহিউদ্দিন খান। অবশিষ্ট পাঁচ পদের মধ্যে একটিতে ছাত্র ইউনিয়ন এবং চারজন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এ ২৮ কার্যনির্বাহী পদের মধ্যে বিএনপিসমর্থিত ছাত্রদলের একজনও নির্বাচিত হতে পারেননি।

ডাকসুর নির্বাচনি ফলাফল নিয়ে আমি আর বিস্তারিত বিবরণে যাচ্ছি না। কারণ আপনারা ইতোমধ্যেই সংবাদপত্রে সেগুলো পাঠ করেছেন এবং টেলিভিশনেও শুনেছেন, দেখেছেন।

একটি জাতীয় ইংরেজি দৈনিকে বলা হয়েছে, ডাকসু নির্বাচন এবার যত প্রেস কাভারেজ পেয়েছে, তত প্রেস কাভারেজ দেশের রাজনৈতিক দলগুলোও পায়নি। কারণ হলো, বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপ্রবাহে ডাকসুর অসাধারণ গুরুত্ব। ডাকসুকে বলা হয় মিনি পার্লামেন্ট। কংগ্রেস নেতা গোপাল কৃষ্ণ গোখলে বলেছেন, ‘What Bengal thinks today, India thinks tomorrow'. অনুবাদ : বাঙালি আজ যা ভাবে, ভারত ভাবে আগামীকাল। গোখলে’র কথা ঠিক হোক বা বেঠিক হোক, অন্তত ডাকসু এবং বাংলাদেশের সঙ্গে তার কথার একটি অদ্ভুত মিল রয়েছে। কেমন মিল, সেটি আমি একটু পরে আলোচনা করছি। তবে, স্বাধীন ভারতের ৭৬ বছরের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, গোখলে যা বলেছেন, সেটি সঠিক হয়নি। কারণ ভারতে বিগত ৭৬ বছরে ১৫ জন প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় এসেছেন। এদের মধ্যে অনেকে আবার একাধিক মেয়াদে ক্ষমতায় ছিলেন। এ ১৫ প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একজনও বাঙালি নেই। অনুরূপভাবে এ ৭৬ বছরে ভারতে ৩৪ জন সেনাপ্রধান এসেছেন। এর মধ্যে বাঙালি সেনাপ্রধান ছিলেন মাত্র একজন। তিনি হলেন জেনারেল জয়ন্ত চৌধুরী।

গোখলের কথা ঠিক হোক বা না হোক, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেটি ভালোভাবেই প্রযোজ্য। ১৯৫২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ভাষার দাবিতে শহীদ হন। সেই ২১ ফেব্রুয়ারি আমাদের কাছে শহীদ দিবস হিসাবে প্রতি বছর উদ্যাপিত হয়। এ শহীদ দিবসই ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের পতন সূচনা করে, যে মুসলিম লীগের নেতৃত্বে পাকিস্তান কায়েম হয়েছিল। ভাষা আন্দোলনের পথ ধরে ১৯৭০ সালের প্রথম প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের কাছে মুসলিম লীগ দারুণভাবে ধরাশায়ী হয়। ওই যে ৫৪ সালে মুসলিম লীগ পড়ে গেল, তারপর আর উঠে দাঁড়াতে পারেনি।

১৯৬৬ সালে আওয়ামী লীগ ছয় দফা আন্দোলন শুরু করে। ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানে ছয় দফার সঙ্গে আরও পাঁচ দফা যুক্ত হয়ে ১১ দফা হয়। তখন শেখ মুজিব কারাগারে। ছাত্রদের নেতৃত্বে যে অভ্যুত্থান ঘটে, সেটিই অবশেষে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ভূমিধস বিজয় এনে দেয়। তার পরের কথা সবার জানা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের ক্র্যাকডাউন এবং অতঃপর বাংলাদেশের স্বাধীনতা।

স্বাধীন বাংলাদেশেও শেখ মুজিবের হিমালয়ের উচ্চতাসদৃশ জনপ্রিয়তায় ধস নামায় জাসদ ছাত্রলীগ। অবশ্য তখন শেখ মুজিব দেশে ইসলাম এবং মুসলমানের নামে রাজনীতি সাংবিধানিকভাবে নিষিদ্ধ করায় জাসদের পেছনে নৈতিক এবং লজিস্টিক সাপোর্ট দেয় সংবিধানে নিষিদ্ধ ঘোষিত মুসলিম ও ইসলামী দলগুলো। এর সঙ্গে যুক্ত হয় মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর ভারতবিরোধী আন্দোলন। শেখ মুজিবের আস্তিন থেকে বেরিয়ে আসা সিরাজুল আলম খান যে উদ্দেশ্যে মুজিব বিরোধিতা শুরু করেছিলেন, (সেই উদ্দেশ্য নিয়েও অনেক প্রশ্ন রয়েছে) সেই বিরোধিতার চূড়ান্ত পরিণামে এক বিয়োগান্তক ঘটনার মাধ্যমে শেখ মুজিব এবং তার সরকারের পতন ঘটে।

১৯৯০ সালে মিলিটারি ডিক্টেটর জেনারেল এরশাদের বিরুদ্ধে যে গণ-অভ্যুত্থান ঘটে, সেটিও শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই। নেতৃত্বে ছিলেন ছাত্রদলের আমানউল্লাহ আমান এবং খায়রুল কবির খোকন। সেই গণ-অভ্যুত্থানের চূড়ান্ত পরিণতিতে বেগম জিয়ার নেতৃত্বে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জয়লাভ করে এবং সরকার গঠন করে।

সবশেষে ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের ভয়ংকর ডিক্টেটরশিপের বিরুদ্ধে এ ছাত্ররাই বিপ্লবের ঝান্ডা তুলে ধরে। তাদের নেতৃত্বে পরিচালিত যুগান্তকারী গণবিপ্লবের শেষ পরিণতিতে নিকৃষ্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনা দলবল, আত্মীয়-কুটুমসহ ভারতে পালিয়ে যান।

২.

ছাত্রদের এ গৌরবোজ্জ্বল পটভূমিতে ৯ সেপ্টেম্বর ৪০ হাজার ছাত্রছাত্রীর বিশ্ববিদ্যালয় ডাকসুর নির্বাচনে সবাইকে চমকে দিয়ে বিশাল বিজয় অর্জন করে ইসলামী ছাত্রশিবির। সমগ্র বাংলাদেশ এ বিজয়ে এমন হতচকিত হয়েছেন, এটাকে পশ্চিমবঙ্গের এক সাহিত্যিকের ভাষা ধার করে বলতে হয়, ‘এ যেনো আমাদের স্তম্ভিত চেতনার ওপর এক বিদ্যুৎ প্রহার’। দেশজুড়ে এখন গবেষণা শুরু হয়েছে, কীভাবে শিবিরের এ আলোড়ন সৃষ্টিকারী বিজয় সম্ভব হলো। অথচ এ জুলাই বিপ্লবের আগেও শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই নয়, দেশের সব পাবলিক এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ ছিল। খেয়াল করবেন, বছরের পর বছর আরোপ করা এ নিষেধাজ্ঞা কিন্তু সরকার জারি করেনি। করেছিল ছাত্রলীগ এবং ছাত্র ইউনিয়ন। শিবিরের এ কণ্ঠরোধে ছাত্রদল আপত্তি জানায়নি। তাদের হিসাব ছিল, শিবির প্রকাশ্যে না আসতে পারলে তাদের ভোটগুলো ছাত্রদলের বাক্সেই পড়বে। ৫৩ বছর ধরে যাদের টুঁটি চেপে ধরে রাখা হয়েছিল, তারা ২০২৫ সালে সারা দেশকে এমন ভূমিধস বিজয়ের চমক দেখাতে পারল কীভাবে? এ বিষয়টি সবার নির্মোহ বিশ্লেষণ দাবি করে। কেমন করে এত ভোট পেল শিবির? আসুন একটু বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণ করি।

গত ১০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামে বিএনপির অন্যতম শীর্ষ নেতা মির্জা আব্বাস বলেছেন, শিবির নাকি তলে তলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে সব ভোট নিয়ে গেছে। বিষয়টি কি এতই সোজা? বিএনপির আরেক নেতা ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেছেন, ডাকসু নির্বাচনে ভোট কিনতে ১৫ থেকে ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ করেছে জামায়াতে ইসলামী। এসব কথা বলার সময় একটু রয়ে সয়ে বলতে হয়। ১৫ থেকে ২০০ কোটি টাকা-এভাবে কি ১৮৫ কোটি টাকার ফারাক থাকে? তিনি একটি টকশোতে আরও বলেন, ‘ছাত্রলীগের সবাই শিবিরকে ভোট দিয়েছে’। এর পেছনে তিনি যুক্তি দাঁড় করিয়েছেন এই বলে যে, এক সময় শিবিরের প্রার্থীরা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই হিসাবে বর্তমানে গুপ্ত ছাত্রলীগের সমর্থকদের সঙ্গেও তাদের সম্পর্ক ভালো। রাজনৈতিক পর্যালোচনা বা বিশ্লেষণের কি এমন সরলীকরণ হয়? আবার তাদের আরেকজন শীর্ষ নেতা, যিনি বর্তমানে সবচেয়ে বেশি লাইম লাইটে আছেন, সেই সালাহউদ্দিন আহমদ কী বলছেন দেখুন। তিনি বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে বিজয়ীদের ‘ব্যক্তিগতভাবে’ অভিনন্দন জানাচ্ছেন তিনি।

গত বুধবার দুপুরে রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় ডাকসু নির্বাচন নিয়ে দলীয়ভাবে নয়, নিজের তরফ থেকে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন বিএনপির এ নেতা। তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমগুলো সকাল থেকে জানতে চাইছে, ডাকসু নির্বাচন হলো এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদগুলোর নির্বাচন হবে। এ নির্বাচনগুলোর ট্রেন্ড কী এবং এ নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে আপনাদের মন্তব্য কী? যারা আজকে জয়ী হয়েছেন, তাদের প্যানেলটা ছিল ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট। সেই ব্যানারে যারা জয়ী হয়েছেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে তাদের অভিনন্দন জানাই। এটাই গণতন্ত্রের রীতি।

৩.

জুলাই বিপ্লবের প্রধান লক্ষ্য শুধু শেখ হাসিনার অপসারণ নয়, বরং পুরোনো বস্তাপচা রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে নতুন রাজনীতির সূচনা করা। এটিকে তারা বলেছেন নতুন বন্দোবস্ত। এ নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর ছাত্রদলের পরাজিত ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম এবং স্বতন্ত্র পরাজিত ভিপি প্রার্থী এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেত্রী উমামা ফাতেমা ভোটের এ ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের এসব প্রতিক্রিয়া দেখে ঢাকার একটি ইংরেজি দৈনিক মন্তব্য করেছেন, আমাদের এখন শিখতে হবে, কেমন করে সম্মানের সঙ্গে পরাজয়কে গ্রহণ করা যায়।

আমার নিজের কথা বলি। আমি সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের (এখন অবশ্য মুসলিম শব্দটি কেটে দেওয়া হয়েছে) আবাসিক ছাত্র ছিলাম। একবার হল নির্বাচনে আমাদের দলের প্রার্থী হেরে যান। তিনি নির্বাচনি ফলাফল প্রকাশের পরপরই বিজয়ী প্রার্থীকে অভিনন্দন জানান। বলেন, এতদিন আমি-আপনি দুজন দুই দলের নেতা ছিলাম। আজ এ বিজয়ের মাধ্যমে আপনি সমগ্র সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের ভিপি হলেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়াও বড় বড় দেশে, যেমন আমেরিকায় পরাজিত প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী বিজয়ী প্রার্থীকে সম্বোধন করেন, My President বলে।

আবিদুল বা উমামা ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের কাছে নিশ্চয়ই নির্বাচনের বড় ত্রুটির কংক্রিট প্রমাণ থাকার কথা। সেই প্রমাণ যদি জেনুইন হয়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন কমিশনারের কাছে নালিশ দিলেই তো নির্বাচন ভন্ডুল হয়ে যাবে। তা না করে ওই পথে কেন?

অন্যরা বলছেন, শুধু বিএনপি নয়, আমাদের সব রাজনৈতিক দলের উচিত, একটি বিষয়ে বাস্তব জ্ঞান লাভ করা। সেই বিষয়টি হলো, How to accept defeat gracefully, অর্থাৎ কীভাবে সসম্মানে পরাজয় মেনে নেওয়া যায়।

আজ বৃহস্পতিবার ১১ সেপ্টেম্বর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের (জাকসু) নির্বাচন। ৩৩ বছর পর জাকসুর নির্বাচন হতে যাচ্ছে। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের (রাকসু) নির্বাচন। ৩৫ বছর পর এ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র ইউনিয়ন বা চাকসুর নির্বাচন হতে যাচ্ছে ৩৫ বছর পর আগামী ১২ অক্টোবর। এখন বিএনপি বা অন্য সব দলকে আপ্রাণ চেষ্টা করতে হবে, কীভাবে ছাত্রদের মন জয় করা যায়।

গোখলের কথা একটু ঘুরিয়ে বলা যায়, What the students think today, the whole of Bangladesh will think tomorrow. অর্থাৎ, আজ ছাত্ররা যা চিন্তা করছেন, আগামীকাল সারা দেশ সেটি চিন্তা করবে।

মোবায়েদুর রহমান : সিনিয়র সাংবাদিক

[email protected]

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

অন্যমত দেশের জ্বালানি খাত শক্তিশালী করতে হবে

দেশের জ্বালানি খাত শক্তিশালী করতে হবে

র-মোসাদ আঁতাত : বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর করণীয়

র-মোসাদ আঁতাত : বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর করণীয়

সাইবার নিরাপত্তা নাকি সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তা

সাইবার নিরাপত্তা নাকি সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তা

দৃষ্টিপাত এ পদক্ষেপ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে

এ পদক্ষেপ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম