Logo
Logo
×
   

Advertisement

উপসম্পাদকীয়

এ সরকার গণ-অভ্যুত্থানপ্রসূত, ১০৬ অনুচ্ছেদ মোতাবেক নয়

Advertisement

Icon

মোবায়েদুর রহমান

প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

এ সরকার গণ-অভ্যুত্থানপ্রসূত, ১০৬ অনুচ্ছেদ মোতাবেক নয়

Advertisement

অনেক ঘটা করে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় গত ১৭ অক্টোবর জুলাই সনদের স্বাক্ষর অনুষ্ঠান সম্পন্ন হলো। জুলাই সনদের মাহাত্ম্য বর্ণনা করতে গিয়ে ড. ইউনূস বলেছেন, এ সনদ বিশ্বের কাছে একটি রোল মডেল হয়ে থাকবে। ওই সনদে চারটি বাম দল এবং এনসিপি সই করেনি। এনসিপি বলেছে, জুলাই সনদ স্বাক্ষরের আগে একটি প্রভিশনাল সাংবিধানিক ফরমান জারি করতে হবে। স্বাক্ষর দান পর্যন্ত সংস্কার কমিশন বা ২৪টি রাজনৈতিক দল (যারা স্বাক্ষর দিয়েছে) এনসিপির কথায় কর্ণপাত করেনি।

৩৯ পৃষ্ঠার এ জুলাই সনদ এখন পর্যন্ত একটি Scrap of paper বা এক টুকরা দলিল। যে ২৫টি দল সই করল, (একদিন পর গণফোরাম সই করায় স্বাক্ষরকারীদের সংখ্যা হয়েছে ২৪ থেকে ২৫) তারা শেষ পৃষ্ঠায় দেওয়া ৭টি অঙ্গীকারনামায় সই করেছে। সই তো হলো। এখন ওইগুলো বাস্তবায়িত হবে কীভাবে? এখন তো দেখা যাচ্ছে, বাঁশের চেয়ে কঞ্চি বড় হয়ে গেছে। বাস্তবায়ন করতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, ঢক্কানিনাদে প্রচারিত এ সনদটি আসলে কোনো সনদ হয়নি। যদিও পত্রপত্রিকায় বলা হয়েছে, সনদে বিধৃত ৮৪টি প্রস্তাব বা সুপারিশের মধ্যে ৪৭টিতে নোট অব ডিসেন্ট বা আপত্তি রয়েছে, কিন্তু আমি গুনে দেখলাম, সংখ্যাটি ৪৭ নয়, বাস্তবে ৫৮টি প্রস্তাব বা সুপারিশে নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে। অর্থাৎ সব রাজনৈতিক দলের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছে মাত্র ২৬টি প্রস্তাব বা সুপারিশ। মাত্র ২৬টি প্রস্তাবে ঐকমত্য পোষণ করে, ৫৮টিতে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে ২৪টি রাজনৈতিক দল এবং সংস্কার কমিশন সই করলেই কি সেটি জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদ হয়ে গেল?

এবার আসছি আরও গুরুতর কতগুলো প্যারাডক্স বা স্ববিরোধিতায়। আমি তো দেখতে পাচ্ছি বিসমিল্লাহতেই গলদ। যেমন সংস্কার কমিশন প্রথমে চারটি বিষয়ের ওপরে ৩৩টি রাজনৈতিক দলের মতামত চেয়েছিল। এ চারটি বিষয়ের মধ্যে ৪ নম্বর বিষয়ে সংস্কার কমিশনই বলেছে, ‘Doctrine of necessity বিবেচনায় Article 106 of the constitution প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের বিচারকদের প্রদত্ত নির্দেশনা মেনে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে। সংস্কার কমিশন সনদ বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে চারটি অপশন দিয়েছিল। এগুলো হলো-১. সরকারি আদেশ জারির মাধ্যমে; ২. অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে; ৩. পরবর্তী সংসদের সংশোধনের মাধ্যমে; ৪. সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১০৬-এর অধীন আপিল বিভাগের মতামত গ্রহণের মাধ্যমে।

এ সরকারের গঠন ও চরিত্র সম্পর্কে বিএনপি যে মতামত দিয়েছে সেটি এরূপ : ‘সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা চলমান থাকা অবস্থায় প্রস্তাবিত জুলাই জাতীয় সনদকে Supra constitutional instrument হিসাবে মর্যাদাদানের চেষ্টা আইনি ও সাংবিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে অসম্ভব, অসঙ্গত ও অগ্রহণযোগ্য।’----------

ইন্টারিম সরকার কোনো অবস্থাতেই সাংবিধানিক সরকার নয়। অথচ বর্তমান সরকার জুলাই সংবিধান প্রণয়নে আগে থেকেই নিজেরাই এ সরকারকে সাংবিধানিক সরকার হিসাবে পরিগণিত করেছে। তাই দেখা যায়, জুলাই ঘোষণাপত্রের (জুলাই প্রোক্লামেশন) ২০ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘এবং যেহেতু জনগণের দাবি অনুযায়ী এরপর অবৈধ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়া হয় এবং সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে সুপ্রিম কোর্টের মতামতের আলোকে সাংবিধানিকভাবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ৮ আগস্ট ২০২৪ তারিখে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়।’

এর বিপরীতে জামায়াতে ইসলমী মতামত দিয়েছিল, ‘AND Whereas, the Constitution of 1972 has failed to protect the life and liberty of the people of Bangladesh leading to numerous cases of crimes against humanity and enforced disappearances by the state and government authorise.’ বাংলা অনুবাদ : যেহেতু ১৯৭২ সালের সংবিধান বাংলাদেশের জনগণের জান ও মালের নিরাপত্তা বিধানে ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলে মানবতার বিরুদ্ধে অসংখ্য অপরাধ এবং রাষ্ট্র ও সরকার কর্তৃক বলপূর্বক গুমের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে, বিসমিল্লাতেই বর্তমান সংবিধান নিয়ে দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে।

এখন দেখা যাচ্ছে, একটি বিশেষ আদেশ (ফরমান) বলে জুলাই সনদ কার্যকর করা হবে। এ সম্পর্কে একটি বাংলা দৈনিকের ১৯ অক্টোবর সংখ্যার প্রথম পৃষ্ঠার দ্বিতীয় প্রধান সংবাদে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদ কীভাবে বাস্তবায়ন হবে-এ বিষয়ে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সরকারকে নিজেদের সুপারিশ জানাবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। কমিশন সূত্র উক্ত বাংলা দৈনিককে জানিয়েছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে প্রথমে আদেশ জারি করা হবে। এ আদেশের ভিত্তিতে গণভোটের আয়োজন করা হবে। গণভোট কীভাবে হবে, তা আদেশে উল্লেখ থাকবে। আদেশই হবে সনদের আইনি ভিত্তি। তবে গণভোট নির্বাচনের দিন হবে, নাকি আগে হবে-এ সিদ্ধান্ত সরকারকে নিতে বলবে কমিশন।’

২.

রাজনৈতিক দলগুলো যাই বলুক না কেন, প্রকৃত আইনগত পরিস্থিতি জানার জন্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে সংবিধান বিশেষজ্ঞদের কাছে ছুটতে হয়েছিল। তাদের পরামর্শ মোতাবেক সনদ স্বাক্ষরের পরদিন অর্থাৎ ১৮ অক্টোবর কমিশনের সঙ্গে সংবিধান বিশেষজ্ঞদের বৈঠক হয়। বিএনপি থেকে বলা হয়, বিদ্যমান সংবিধানে সাংবিধানিক বা সংবিধানের সমতুল্য আদেশ জারির ক্ষমতা রাষ্ট্রপতি বা সরকারের নেই। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা তা মনে করেন না। তাই জুলাই সনদের খসড়ায় অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পটভূমিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। বলা হয়েছে, সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের মতামতে নয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ভিত্তিতে এ সরকার দায়িত্ব নিয়েছে, যদিও আগে বলা হয়েছিল, সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকার গঠিত হয়েছে।

ড. আলী রীয়াজ সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠকের পর বলেছেন, যেহেতু সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তনের ক্ষমতা সংসদের নেই, তাই বিশেষজ্ঞরা আগামী সংসদের প্রথম অধিবেশনকে গণভোটের মাধ্যমে কন্সটিটুয়েন্ট (গাঠনিক) ক্ষমতা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। ওই অধিবেশনের নাম হবে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’। গণভোটে অনুমোদিত জুলাই সনদ অনুযায়ী ওই অধিবেশন সংবিধানের সংস্কার করবে। এরপর তা সাধারণ সংসদে রূপান্তর হবে।

এ সংলাপে বারবার বিতর্ক হয় অন্তর্বর্তী সরকারের গঠন প্রশ্নে। বিএনপি এবং সমমনা দলগুলো বলছে, সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গঠিত হওয়ায় বর্তমান সরকার সাংবিধানিক। সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন থাকায় বর্তমান সরকারের সাংবিধানিক আদেশ জারির মতো ‘কন্সটিটুয়েন্ট পাওয়ার’ (গাঠনিক ক্ষমতা) নেই।

অনেক বাদানুবাদের পর সংস্কার কমিশন প্রকৃত সত্য অনুধাবন করেছেন। তাই ৩৯ পৃষ্ঠার সনদের কোথাও ১০৬ অনুচ্ছেদ এবং সুপ্রিম কোর্টের মতামতের উল্লেখ নেই।

৩.

আগেই বলেছি, এ জটিল আইনি প্রশ্নের মীমাংসার জন্য আলী রীয়াজের কমিশন সংবিধান বিশেষজ্ঞদের কাছে ছুটে যান। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ‘সনদ নয়, জুলাই আদেশের ওপর হবে গণভোট। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের সার্বভৌম কর্তৃত্বের প্রয়োগ ঘটেছে। এ কর্তৃত্ববলে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে। জনগণের সার্বভৌম অভিপ্রায় অনুযায়ী এ সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আদেশ জারি করবে। আদেশের নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রাক-খসড়ায় একে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫’ বলা হয়েছে।

কমিশন সূত্র জানিয়েছে, ১৭ অক্টোবর স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের উল্লেখ থাকবে আদেশে। অর্থাৎ, আদেশ সনদের অংশ হবে না। সনদ হবে আদেশের অংশ। আদেশে থাকবে গণভোট আয়োজনের বিধান। এ বিধান অনুযায়ী গণভোট আয়োজন করা হবে। গণভোটে আদেশ অনুমোদিত হলে সনদ অনুমোদিত বলে গণ্য হবে। সনদে থাকা সংস্কার অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করা বাধ্যতামূলক হবে আগামী সংসদের জন্য। সংবিধান সম্পর্কিত বিষয়গুলো পরবর্তী সংসদকে দ্বৈত ভূমিকা দিয়ে সংবিধানে সংযুক্ত করা হবে।

বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় বৈঠকে তারা বলেন, সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ক্ষমতাবলে সরকারকে আদেশ জারি করতে হবে। কারণ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের সার্বভৌম কর্তৃত্বের প্রয়োগ ঘটেছে। এ কর্তৃত্ববলে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে। জনগণের সার্বভৌম অভিপ্রায় অনুযায়ী এ সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আদেশ জারি করবে।

৪.

সবচেয়ে অবাক ব্যাপার হলো, জুলাই সনদে ৮৪টির মধ্যে যে ৫৮টি নোট অফ ডিসেন্ট দেওয়া হয়েছে, সেগুলো এক অর্থে এখন অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেছে। পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবর মোতাবেক, ঐকমত্য কমিশনকে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, যদি নোট অফ ডিসেন্টগুলো গণভোটে দেওয়া হয়, তাহলে পুরো ব্যাপারটিই ঝুঁকির মুখে পড়বে। কারণ, ৮৪ সংস্কারের মাত্র ৮ থেকে ১০টিতে সব দলের ঐকমত্য রয়েছে। বাকিগুলোতে কোনো না কোনো দলের নোট অফ ডিসেন্ট রয়েছে। যেমন সনদে বলা হয়েছে, সংসদের উভয় কক্ষে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন। বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন, এনসিপিসহ ২৯ দল এতে একমত। ভিন্নমত জানিয়েছে বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ নামে একটি দল।

কমিশনের একজন সদস্য বলেছেন, যদি সব নোট অফ ডিসেন্ট গ্রহণ করা হয়, তাহলে সংস্কার হবে না। যেসব সংস্কারে শতভাগ ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলোই কার্যকর করা হবে-এ সিদ্ধান্ত গণভোটে হলেও লাভ হবে না। নোট অফ ডিসেন্টের উদাহরণ দিয়ে ভবিষ্যতে ক্ষমতাসীন দল সংস্কার থেকে বিরত থাকতে চাইলে কারও কিছু করার থাকবে না।

ইন্টারিম সরকার যে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ মোতাবেক গঠিত হয়নি, সেটি আরও পরিষ্কার হয়ে গেছে ইংরেজি ডেইলি স্টারের একটি রিপোর্টে। ২০ অক্টোবর ওই রিপোর্টের এক স্থানে বলা হয়, ‘The preamble of the order will explain how the interim government has the authority to issue it. The justification will come from the July uprising itself, which conferred this authority on the current government. Therefore, we are considering recommending that the government issue the order based on the people's mandate through the uprising, rather than citing Section 22 of the July Declaration.’

বিএনপি বারবার বলে যাচ্ছিল, ইউনূসের ইন্টারিম সরকার সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের ভিত্তিতে গঠিত। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা সরাসরি ওই বক্তব্য নাকচ করে দিয়েছেন। ডেইলি স্টারের উপরোক্ত রিপোর্টের বাংলা হয়, ‘যে আদেশটি জারি হতে যাচ্ছে, তার প্রস্তাবনায় এই বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে, উক্ত আদেশ (ফরমান) জারি করায় অন্তর্বর্তী সরকারের কর্তৃত্ব কীভাবে রয়েছে। এর যথার্থতা খোদ জুলাই অভ্যুত্থান থেকেই উৎসারিত হবে। এই জুলাই অভ্যুত্থানই সরকারের হাতে এই কর্তৃত্ব অর্পণ করেছে। তাই আমরা এই মর্মে সুপারিশ করতে যাচ্ছি যে, সরকার গণঅভ্যুত্থানপ্রসূত ম্যানডেট বলে এই বিশেষ আদেশ জারি করবে, জুলাই ঘোষণাপত্রের ২২ অনুচ্ছেদ মোতাবেক নয়।

জুলাই সনদের স্ববিরোধিতাগুলো উপরে দেখানো হলো। আগামী শুক্রবার এই কলামে আমি দেখাবো ২৫ দল স্বাক্ষরিত জুলাই সনদে শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, শহীদ জিয়াউর রহমানকে নয়।’

মোবায়েদুর রহমান : সিনিয়র সাংবাদিক

[email protected]

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম