’৭২ ও ’২৪-এর কী অদৃশ্য সেতুবন্ধন
মোবায়েদুর রহমান
প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গত ২ জানুয়ারি ছিল কমরেড সিরাজ শিকদারের মৃত্যু দিবস। মৃত্যু দিবস না বলে বরং বলা যায়, এটি ছিল সিরাজ শিকদারের হত্যা দিবস। ১৯৭৫ সালের এ দিবসে তাকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়। সেদিন অবশ্য বারটি শুক্রবার ছিল না। ছিল বৃহস্পতিবার। সিরাজ শিকদারের কথা মনে হওয়াতে আমার স্মৃতির সায়রে ভেসে উঠল ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাহের কিছু স্মৃতি। আমি যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিন ওইসব স্মৃতি আমার মনের মণিকোঠায় চির জাগরূক থাকবে।
একদিকে মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের জয়ধ্বনি তুলে আওয়ামী লীগ মুখে ফেনা তুলেছে। অন্যদিকে যদি কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধা, এমনকি সেক্টর কমান্ডারও যদি আওয়ামী লীগ এবং ভারতের অন্যায় ও অন্যায্য কাজের বিরোধিতা করেছে, তখন তাদের দালাল বা কোলাবরেট বলতেও এক মুহূর্ত সময় লাগেনি। স্বাধীনতার যুদ্ধে ১১ সেক্টরের মধ্যে ৯ নম্বর সেক্টরের অধিনায়ক ছিলেন মেজর জলিল। কিন্তু স্বাধীনতার পর তিনি আওয়ামী লীগ ও ভারতবিরোধী হওয়ায় ১৫ বছর পর তিনি হয়ে যান পাকিস্তানের দালাল। ১৫ বছর পরে বলব কেন, স্বাধীন হওয়ার এক মাস পর মেজর জলিল ভারতীয় বাহিনীর হাতে বন্দি হন। তার অপরাধ, পাক বাহিনীর আত্মসমর্পণের পর ভারতীয় বাহিনী লুটপাটে মেতে ওঠে। তারা পাকিস্তানের পরিত্যক্ত যুদ্ধাস্ত্রই শুধু লুট করেনি, এমনকি বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টের মূল্যবান সামগ্রী, এমনকি বাথরুমের কমোড পর্যন্ত লুট করে নেয়। এসবের প্রতিবাদ করায় মেজর জলিলকে গ্রেফতার করা হয়। অন্যদিকে স্বাধীনতার সেই উষালগ্নেই সিরাজ শিকদার ভারতীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করেছিলেন।
বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর দেশের বুক থেকে ভারতের আধিপত্যবাদী জগদ্দল পাথর অপসারণের জন্য যারা জীবন-মৃত্যুকে পায়ের ভৃত্য করেছিলেন, তাদের মধ্যে প্রোজ্জ্বল তিনটি নাম হচ্ছে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী, মেজর জলিল এবং কমরেড সিরাজ শিকদার। সিরাজ শিকদার যে গতিতে বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যাচ্ছেন, তা দেখে মনে হয়-জাতির স্বার্থেই তার অবদান স্মরণ করার বিশেষ দরকার আছে।
২.
১৯৭১ সালের ২২ ডিসেম্বর রাতে, অর্থাৎ স্বাধীনতার মাত্র ৬ দিনের মাথায় আমি লঞ্চে করে বাগেরহাটের উদ্দেশে রওয়ানা হই। লঞ্চে পরিচিত হলাম এক কৃষ্ণকায় তরুণের সঙ্গে। নাম খোকন। সে বাগেরহাটের ছেলে। ২৩ ডিসেম্বর লঞ্চ থেকে হুলারহাট নামি। সেখান থেকে রিকশাযোগে পিরোজপুর শহর পার হয়ে বাগেরহাটের বাসে চাপলাম। সঙ্গে ওই খোকন। বাস চলছে। সম্ভবত বাগেরহাট পৌঁছতে আর আড়াই মাইল বাকি। সামনে ৫০-৬০ জন লোকের জটলা। ওরা বাসের গতিরোধ করলেন। বললেন, ‘বাগেরহাট যাবেন না। ভীষণ গোলযোগ হচ্ছে’। আমরা বাসের কয়েকজন যাত্রীকে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘কিসের গণ্ডগোল?’ দেখলাম ওদের চোখে-মুখে ভীতি ও সন্ত্রাসের ছাপ। প্রকৃত ঘটনা চেপে যাচ্ছেন।
শুধু বলছেন, সিরিয়াস গণ্ডগোল। অগত্যা আমি আর খোকন পদব্রজেই রওয়ানা হলাম। বাগেরহাট শহরে ঢোকার পর দেখলাম, রাস্তাঘাট প্রায় জনশূন্য। যে কয়েকজন চলাচল করছে, তাদের চোখে-মুখে সীমাহীন আতঙ্ক। ভোঁ ভোঁ করে সামরিক বাহিনীর জিপ ও ট্রাক ছোটাছুটি করছে। ট্রাক ও জিপভর্তি ভারতীয় সৈন্য। হাতে উদ্যত সঙ্গিন। আরও কিছুদূর এগিয়ে গেলাম। দেখলাম তিনটি লাশ। লাশের পরনে ভারতীয় সৈন্যের জলপাই রঙের পোশাক। আরও কিছুদূর এগিয়ে যাওয়ার পর দেখলাম, বিএলএফ বা বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্সের ক্যাম্প। এ বিএলএফ পরবর্তীকালে মুজিব বাহিনী নামে পরিচিত হয়।
মুজিব বাহিনীর যুবকরা ভারতীয় এসএলআরের নল পরিষ্কারে ব্যস্ত। বিজয় দিবসের মাত্র ৬ দিন পর বিজয়ী ভারতীয় বাহিনীর ৩ জন সৈন্য নিহত? চিন্তা করতেই গা কাটা দিয়ে উঠল। এর ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা ভেবে শিরদাঁড়া দিয়ে একটা স্রোত বয়ে গেল। প্রকম্পিত বক্ষে অদূরে অবস্থিত একটি সরকারি কোয়ার্টারে উঠলাম। এখানে থাকেন আমার বড় ভাই ও ভাবি। সরকারি কর্মকর্তা। শুধালাম ব্যাপার কী? ওষ্ঠে তর্জনী ঠেকালেন ভাই। অর্থাৎ ‘চুপ’। বললেন, খেয়ে দেয়ে পড়ে পড়ে ঘুমাও। রাতে এমনিতেই সব টের পাবে।
তারপর। রজনীর অন্ধকার দিনের আলোকে গ্রাস করল। যামিনীর প্রহর গড়িয়ে চলল। সম্ভবত তখন যামিনীর দ্বিতীয় প্রহর, অকস্মাৎ রাত্রির নীরবতা বিদীর্ণ করে শোনা গেল স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের অবিশ্রান্ত আওয়াজ। আর তার সঙ্গে উত্থিত হলো তিনটি সমস্বর স্লোগান : ‘পিন্ডি ছেড়েছি, দিল্লি যাবো না’। ‘কমরেড সিরাজ শিকদার জিন্দাবাদ,’ ‘পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টি জিন্দাবাদ’। চকিতে আমার চোখের সামনে ভেসে উঠল দিনে দেখা ৩টি ভারতীয় সৈন্যের মৃতদেহ। ভাই আর ভাবির সঙ্গে দৃষ্টি বিনিময় হলো। আর এ দৃষ্টি বিনিময়ের মধ্য দিয়ে ওরা শব্দহীন ব্যাখ্যা দিলেন দিনে কী ঘটেছিল। পরদিন গেলাম বাগেরহাট প্রফুল্ল চন্দ্র কলেজে। এখানেও রাতের ঘটনারই পুনরাবৃত্তি। তবে ভিন্ন পথে। অসংখ্য চিকায় কলেজের দেওয়াল ভরে গেছে। চিকার ভাষা, ‘পিন্ডি ছেড়েছি, দিল্লি যাবো না,’ ‘কমরেড সিরাজ শিকদার জিন্দাবাদ।’
সময়ের রথচক্র এগিয়ে চলে। কিন্তু বাগেরহাটের সেই দুঃস্বপ্নের মতো স্মৃতিগুলো অষ্টপ্রহর আমাকে নাড়া দিচ্ছিল। ভারতীয় সৈন্যরা এমনকি করল, রাতারাতি দৃশ্যপট সম্পূর্ণ পালটে গেল?
এর কয়েকদিন পর সম্ভবত ১৯৭২-এর জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহ। তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরের বিপরীত পাশে বিমান বাহিনীর অফিসার্স মেস, বেড়াতে গেছি। গল্প হচ্ছিল জনকয়েক কর্মকর্তার সঙ্গে। কথায় কথায় বাগেরহাটের ঘটনা বললাম। আর স্বগতোক্তি করলাম, কেন এমন রক্তাক্ত ঘটনা ঘটল? দেখলাম, মুহূর্তে রাগে, ঘৃণায় ও উত্তেজনায় ওদের মুখ রক্তবর্ণ হয়ে উঠেছে। চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল। ওরা বলল, ভারতীয় সৈন্যদের লুটপাট তোমরা আর কী দেখেছ? বলল, এসো আমাদের সঙ্গে। দেখ ওরা কী করেছে। আমি অবাক বিস্ময়ে লুটপাটের নমুনা দেখলাম। ডাইনিং রুম আর বাথরুমের বেসিনও ভারতীয় সৈন্যরা উপড়ে নিয়ে গেছে।
যা বলছিলাম, সময় এগিয়ে চলে। শেখ মুজিবের শাসনের বিরুদ্ধে উচ্চকিত হলেন অশীতিপর বৃদ্ধ মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী, কণ্ঠে যার আগুন ঝরে সেই অনলবর্ষী বক্তা মেজর জলিল, ভাষাসৈনিক অলি আহাদ প্রমুখ। ওদিকে সিরাজ শিকদার তো আছেনই। এদের সবার স্লোগানের মর্মবাণী হলো দুটো : ‘শেখ মুজিবের গদিতে, আগুন জ্বালো এক সাথে’ আর ‘পিন্ডি ছেড়েছি, দিল্লি যাবো না’।
৩.
১৯৭৩-এর শেষপ্রান্তে। কমরেড সিরাজ শিকদার এবং তার সর্বহারা পার্টি তাদের ভাষায়-‘দিল্লির গোলামির জিঞ্জির ছিন্ন করা ও মুজিবের পুতুল সরকার উৎখাতের’ দাবিতে দেশব্যাপী আহ্বান করে সর্বাত্মক হরতাল। একটি গোপন রাজনৈতিক সংগঠনের উদ্যোগে হরতাল? মানুষ নড়েচড়ে বসল। হরতালের আগের দিন বিশেষ কাজে গেছি বরিশাল। উঠেছি হোটেল গুলবাগে। ডাবল সিটের রুম। সঙ্গে আমার ভাণ্ডারিয়ার এক আত্মীয়। রজনীর শেষ প্রহর। সম্ভবত সাড়ে চারটা। প্রচণ্ড শব্দে ঘুম ভেঙে গেল। হাতবোমা, ককটেল, গ্রেনেড প্রভৃতির বিকট আওয়াজে সারা বরিশাল প্রকম্পিত। থেমে থেমে উচ্চকণ্ঠে স্লোগান, ‘পিন্ডি ছেড়েছি, দিল্লি যাবো না,’ ‘কমরেড সিরাজ শিকদার জিন্দাবাদ।’
এর পরদিন খবরের কাগজে চোখ বুলাতে গিয়ে আমার চক্ষুস্থির! সর্বহারা পার্টির তরুণ জঙ্গি কর্মীরা দেশের অনেক জায়গায় রেললাইন উপড়ে ফেলেছে। সঙ্গে সঙ্গে যোগ দিয়েছে সাধারণ মানুষের অনেকে। অনেক স্থানে রেল চলাচল করেনি। স্টিমার চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত। অনেক মহকুমা ও জেলা শহরের দৈনন্দিন কার্যক্রমে অচলাবস্থা। সারা দেশের এক-তৃতীয়াংশ অঞ্চলে সর্বহারা পার্টির ডাকে সর্বাত্মক হরতাল পালিত। এ যেন আমাদের স্তম্ভিত চেতনার ওপর এক বিদ্যুৎ প্রহার।
অথচ এ হরতাল উপলক্ষ্যে যে প্রচারপত্র বিলি করা হয়, তাতে স্পষ্ট বলা হয়, বাংলার মুক্তিপাগল মানুষ স্বাধীনতার দুর্মর স্পৃহায় মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কিন্তু এক সাগর রক্ত পাড়ি দিয়েও তারা পূর্ণ স্বাধীনতা পায়নি। ১৬ ডিসেম্বর ভারতীয় বাহিনী ‘পূর্ব বাংলা’ দখল করে নেয়। ভারতীয় দখলদারত্বের অবসানের লক্ষ্যেই তাদের এ সংগ্রাম। গুলবাগ হোটেলের ওই নিভৃত কক্ষে বসে সেদিন আমার মনে প্রশ্ন জেগেছিল, একটি গুপ্ত সংগঠনের ডাকে কীভাবে হলো এমন সফল হরতাল? মানুষ তো চিরদিন সত্যনিষ্ঠ। কিন্তু সত্যসন্ধ কণ্ঠকে মানুষ দেখতে চায় উচ্চকিত বলিষ্ঠতায়। তবেই তাকে ভালোবাসে। জনগণের হৃদয়ের প্রতিবাদী সুর কি সেদিন সিরাজ শিকদারের কণ্ঠে ঝংকৃত হয়েছিল এবং এ ভাষায় রাঙাময় হয়েছিল, ‘পিন্ডি ছেড়েছি, দিল্লি যাবো না।’
সম্ভবত তাই। কারণ ’৭৩ ও ’৭৪ সালে দাপ্তরিক কাজে আমাকে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় ব্যাপকভাবে সফর করতে হয়। ’৭৩ সালের অক্টোবর মাসে বৃহত্তর ফরিদপুর জেলা সফরে যাই। ওই সময় ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজ, রাজবাড়ী, মাদারীপুর প্রভৃতি অঞ্চলে সর্বহারা পার্টির ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ করি। ১৯৭৪ সালের মার্চ বা এপ্রিলে উত্তরবঙ্গ যাই। যাওয়ার পথে মানিকগঞ্জ, উথলী, আরিচাঘাট, কাশীনাথপুর, পাবনার শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, বগুড়া, শেরপুর, বৃহত্তর রংপুরের গোবিন্দগঞ্জ, পীরগঞ্জ প্রভৃতি এলাকায় স্বচক্ষে দেখেছি, অসংখ্য পোস্টার, বিপুল লিফলেট এবং দেওয়াল ভর্তি চিকা। ভাষা সেই একই : ‘পিন্ডি ছেড়েছি, দিল্লি যাবো না,’ ‘কমরেড সিরাজ শিকদার জিন্দাবাদ’।
ইংরেজি সাপ্তাহিক ‘হলিডে’তে ভারতীয় প্রভুত্বের বিরুদ্ধে একটি নিবন্ধ লেখার অপরাধে (?) বীর মুক্তিযোদ্ধা লে. কর্নেল জিয়াউদ্দিন সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত হন। অতঃপর তিনি সর্বহারা পার্টিতে যোগ দিলে এ পার্টির কর্মতৎপরতা অবিশ্বাস্য রকম বেগবান হয়। ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে তিনি যে দুর্ভেদ্য প্রতিরোধ গড়ে তোলেন, তা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী, লালবাহিনী ও রক্ষীবাহিনীর জন্য হৃদকম্পের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নাটোরের আত্রাই ও তানোরে মরহুম তোয়াহা এবং আব্দুল হকের বাহিনী রক্ষীবাহিনীর সঙ্গে বীরোচিত লড়াই চালায়। ’৭২-৭৫ সাল পর্যন্ত সময়ে সাপ্তাহিক ‘হককথা’, ‘গণশক্তি’, ‘সাপ্তাহিক হলিডে,’ দৈনিক ‘গণকণ্ঠ’ ভারতবিরোধী জনমত গঠনে বলিষ্ঠ ভূমিকা গ্রহণ করে।
সিরাজ শিকদার জীবদ্দশাতে তার লড়াইয়ের সফল পরিণতি দেখে যেতে পারেননি। ১৯৭৫ সালের ২ জানুয়ারি শেখ মুজিবের পুলিশ কাস্টডিতে তাকে নিষ্ঠুরভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়। এবং বাংলার গণমানুষের বিবেক, নীতিবোধ এবং মানবিক সৌজন্যকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখিয়ে শেখ মুজিব সংসদের মেঝেতে গর্বিত উল্লাসে বলেন : কোথায় আজ সিরাজ শিকদার? এ নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞে শেখ মুজিব যতই হুংকার ছাড়ুন না কেন, কঠোর বাস্তব এই যে, ১৯৭১ সালের ২৩ ডিসেম্বর কমরেড সিরাজ শিকদার ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের যে মশাল জ্বালিয়েছিলেন, বিভিন্ন ব্যানারে পরবর্তীকালে মওলানা ভাসানী, মেজর জলিল, আব্দুল হক, অলি আহাদ, মেজর জিয়াউদ্দিন, কর্নেল জিয়াউদ্দিন জনগণের মাঝে তাকে দাবানলের মতো ছড়িয়ে দেন।
সিরাজ শিকদার সেদিন আওয়াজ তুলেছিলেন, ‘পিন্ডি ছেড়েছি, দিল্লি যাবো না’। ৫৪ বছর পর জুলাই বিপ্লবের তরুণ কাণ্ডারি এবং অযুত জনতা তারই প্রতিধ্বনি করেছে, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’। সত্য অবিনশ্বর। ৫৪ বছর পরেও ’৭২ ও ’২৪-এর কী অদৃশ্য সেতুবন্ধন।
মোবায়েদুর রহমান : সিনিয়র সাংবাদিক
