Logo
Logo
×
   

Advertisement

উপসম্পাদকীয়

হজযাত্রার আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কেন জরুরি

Advertisement

Icon

ডা. মো. আবদুল হাফিজ শাফী

প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

হজযাত্রার আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কেন জরুরি

Advertisement

হজ একটি ইবাদত, একই সঙ্গে এটি শারীরিকভাবে অত্যন্ত পরিশ্রমসাধ্য একটি সফর। দীর্ঘ হাঁটা, প্রচণ্ড গরম, ভিড় ও সময়ের চাপ-এ বাস্তবতায় সুস্থ শরীর ছাড়া হজ সুষ্ঠুভাবে আদায় করা কঠিন হয়ে পড়ে। সে কারণেই প্রতিবছরের মতো সরকার ২০২৬ সালের হজযাত্রীদের জন্য টিকা গ্রহণের আগে নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করেছে। এটি কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং হজযাত্রীর জীবন ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য একটি সময়োপযোগী ও বিজ্ঞানসম্মত সিদ্ধান্ত।

কেন স্বাস্থ্য পরীক্ষা এত গুরুত্বপূর্ণ

অনেক রোগ আছে, যেগুলো দীর্ঘদিন উপসর্গ ছাড়াই শরীরে লুকিয়ে থাকে; যেমন-ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, কিডনি সমস্যা বা ফুসফুসের রোগ। হজের সময় অতিরিক্ত পরিশ্রম ও পরিবেশগত চাপ এসব রোগকে হঠাৎ জটিল করে তুলতে পারে। আগেভাগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলে অজানা বা নিয়ন্ত্রণহীন রোগ শনাক্ত হয়। ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রীদের আলাদা করে সতর্ক করা যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা বা ওষুধ সমন্বয় করা যায়। এতে বিদেশে গিয়ে হঠাৎ গুরুতর অসুস্থতার আশঙ্কা কমে।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী যেসব পরীক্ষা বাধ্যতামূলক

হজ টিকা গ্রহণের আগে সরকারি হাসপাতাল থেকে নিম্নোক্ত পরীক্ষাগুলো করাতে হবে-

Urine R/M/E,

Random Blood Sugar (RBS),

Chest X-ray P/A view (রিপোর্টসহ)

ECG (রিপোর্টসহ)

Serum Creatinine (কিডনি ফাংশন)

Complete Blood Count (CBC with ESR)

Blood grouping & Rh Typing

এ পরীক্ষাগুলোর রিপোর্ট হজ টিকাকেন্দ্রে মেডিকেল বোর্ডের কাছে জমা দিতে হবে।

বিশেষ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পরীক্ষা

যদি কোনো যাত্রীর ক্ষেত্রে সন্দেহজনক উপসর্গ বা আগের রোগ-ইতিহাস থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শে নিচের পরীক্ষাগুলো করা লাগতে পারে-

হৃদরোগের আশঙ্কায় : Echocardiography (ইকো)

লিভারের দীর্ঘস্থায়ী রোগে : USG Whole Abdomen, Upper _IT Endoscopy

দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগে : Sputum for AFB, CT scan of chest.

সহজে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাবেন যেভাবে : ১. নির্ধারিত সরকারি হাসপাতাল বা মেডিকেল কলেজে যোগাযোগ করুন, কারণ টিকার বরাদ্দ সুনির্দিষ্ট থাকে। ২. স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় হজ রেজিস্ট্রেশনের কাগজপত্র সঙ্গে রাখুন। ৩. বেশিরভাগ পরীক্ষা একদিনেই করা সম্ভব। ৪. রিপোর্ট সংগ্রহ করে নির্ধারিত মেডিকেল বোর্ডে/হজ টিকাকেন্দ্রে জমা দিন। ৫. টিকা নেওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ৬. কোনো দীর্ঘস্থায়ী রোগ থাকলে গোপন না করে জানান।

শেষ কথা

প্রতিবছর বিশ্বের লাখ লাখ মানুষ হজ পালনের জন্য সমবেত হন। এত বিপুল জনসমাগমে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও দুর্ঘটনা এড়াতে সৌদি সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন ঝুঁকি প্রতিরোধে কঠোরতা আরোপ করেছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত বছর হজ পালনকালে ৪৮ বাংলাদেশি হাজি ইন্তেকাল করেছেন, যার একটি বড় কারণ ছিল আগে থেকে থাকা শারীরিক জটিলতা। সময়মতো পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করা হলে অনেক ক্ষেত্রে এসব ঝুঁকি কমানো সম্ভব। তাই হজে যাওয়ার আগে সুস্থ থাকা শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয় নয়, বরং এটি একটি দায়িত্বশীল প্রস্তুতির অংশ। সুস্থ শরীরই নিরাপদ ও প্রশান্ত হজ পালনের প্রধান শর্ত। সচেতন থাকুন, সুস্থ থাকুন। হজ হোক ইবাদতমুখর, নিরাপদ ও কবুল।

ডা. মো. আবদুল হাফিজ শাফী : সহকারী অধ্যাপক, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম